বিনোদন ডেস্ক|জনতার দেশঃ
নাম তার চামেরি হাউস ! ঢাকার তোপখানা রোডে অবস্থিত চামেরী হাউস আজও বহন করে ব্রিটিশ আমলের স্মৃতি। এটি ইংলিশ কটেজ ধাঁচের একটি ভবন এবং নির্মানকাল সম্ভবত বিশ শতকের প্রথমদিকে । কাছেই রয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও সচিবালয় । ১৯২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্রদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় কিছুসংখ্যক ছাত্রকে স্থানান্তরিত করা হয় চামেরি হাউজে। আদিতে এটি ছিল অবিবাহিত ইংরেজ সিভিলিয়ানদের কয়েকজনের বাসভবন।
শরীফ উদ্দিন আহমেদ সম্পাদিত ‘ঢাকা কোষ’ গ্রন্থ বলছে – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রথমদিকে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী সত্যেন বোসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের আবাসস্থল হিসেবেও ভবনটি ব্যবহৃত হয়।
ইংরেজি ‘চাম’ (Chum) শব্দের অর্থ ‘বন্ধু’। বন্ধুত্বাপন্ন কয়েকজনের থাকবার জন্য ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেজন্য আদিতে এর নাম ছিল ‘চামেরি হাউজ’ (Chummery House)। বর্তমানে ভবনের দ্বিতীয় তলায় সিঁড়ির দেয়ালে ইতিহাসসহ একটি ফলক রয়েছে । সেই ফলকে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে চামেরি কিংবা চামেলি হাউস । ইতিহাসবিদ ড। মুনতাসীর মামুনের মতে , চামেলি নামটি সঠিক নয় । ভবনের নাম চামেলি হবার কোন কারণ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার সাথে এই ব্যতিক্রমধর্মী স্থাপত্য নিদর্শনটির সম্পৃক্ততা রয়েছে।
কোম্পানী আমলে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর পূর্ব বাংলা ও আসামের নতুন রাজধানী হিসেবে ঢাকার রমনা এলাকায় পরিকল্পিত শহর গড়ে ওঠে। কার্জন হল, পুরনো হাইকোর্ট ভবন (গভর্নর হাউজ), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবন ও রমনা গ্রিনের সঙ্গে চামেরী হাউজ হয়তো সেই পরিকল্পিত এলাকার অংশ। ব্রিটিশ স্থপতি রবার্ট লুইস প্রুডোক এই এলাকার নকশা ও কিছু ভবন পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে চামেরী হাউজের নকশা তিনি করেছিলেন কিনা , এই বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য নেই ।
সময়ের সাথে ব্যবহারের ধরনও পাল্টেছে। একসময় এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হোস্টেল এবং সরকারি দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে এটি Centre on Integrated Rural Development for Asia and the Pacific (CIRDAP)-এর প্রধান কার্যালয়। । এই প্রাঙ্গণে এখন সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে নানা সম্মেলন ও অনুষ্ঠান হয়।লাল রঙের দেয়াল, টাওয়ার আকৃতির ছাদ আর সবুজ বাগানে ঘেরা এই ভবনটি ঢাকার বুকে ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়।
প্রতিবেদকঃ
তথ্য ঋণঃ
# খাদিজা বিনতে এলাহির পেজ বুক পেজ।
ছবিঃ
# সংগৃহিত।