মো: মাহবুবুর রহমান খানঃ
গতকাল শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রথম ধাপ।
মহাষষ্ঠীতে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে সূচনা ঘটছে বাঙালির শারদ উৎসবের। জীবন, সৃষ্টি ও প্রকৃতির সঙ্গে জলের নিবিড় সম্পর্ক কে উপজীব্য করে রাজধানীর গুলশান- বনানী পূজা মন্ডপে এবার দুর্গা পূজার থিম হল -‘ জলজঃ জীবন -সৃষ্টি, পরম শক্তির মহাজাগতিক বন্দনা’।জলজ জীববৈচিত্র্য, বাংলার নদী নির্ভর জীবনধারা এবং জল সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরতে মন্ডপ সজ্জায় স্থাপত্য, কুটিরশিল্প, আলোক নকশা, পরিবেশ বান্ধব উপকরণের সমন্বয়ে নির্মাণ করা হয়েছে পূজামণ্ডপ।
বনানীর কামাল আতাতুর পার্কে আয়োজিত এ শারদোৎসব সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
গুলশান বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনন্ত মহাবিশ্বের শতকোটি গ্রহ নক্ষত্রের মাঝে পৃথিবী একমাত্র প্রাণ উচ্ছল নীলাভ নীড়, আর এই প্রাণের অস্তিত্বের প্রথম ও প্রধানপূর্ব শর্ত হলো জল।আধুনিক বিজ্ঞান যেমন পৃথিবীতে জীবনের সূচনাকে জলের সঙ্গে যুক্ত করেছে, তেমনি হাজার হাজার বছর আগে বৈদিক ঋষিরাও জলকেই সৃষ্টির আদি তত্ত্ব হিসাবে উপলব্ধি করেছিলেন । ঋক্বেবেদের নাসদীয় সূক্তে সৃষ্টির পূর্বাবস্তার বর্ণনায় বলা হয়েছে, সৃষ্টির আদিতে সর্বত্র ছিল অন্ধকারে আচ্ছন্ন এক অসীম জলরাশি। সনাতন ভাবনায় পঞ্চমহাভূতের মধ্যে ‘অপ’ বা জলই সেই মূল উপাদান, যা বাকি সব উপাদানের মাঝে প্রাণ সঞ্চার করে। নদী, বৃষ্টি, পুকুর, বিল ও সমুদ্রের সঙ্গে গড়ে ওঠা রূপসী বাংলার জীবন ও সংস্কৃতির গভীরে জলের এই অস্তিত্বকেই দুর্গাপূজার ভাবনায় ধারণ করে গুলশান- বনানী পূজা ফাউন্ডেশন বেছে নিয়েছে অনন্য একটি থিম-‘জলজ’ (জল থেকে যার জন্ম)।
গুলশান বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন জানায়, সনাতন ধর্মে জল কেবল একটি প্রাকৃতিক উপাদান নয়; জল স্বয়ং পবিত্রতা, পরমেশ্বর ও পরম সংস্কারের স্তম্ভ।মাতৃগর্ভের তরল থেকে শুরু করে জীবনের শেষ অঞ্জলি মানুষের সমগ্র জীবন চক্র জলের প্রবাহেই বাঁধা। জলই মাঙ্গলিক সূচনা, তর্পণ, হোম, কিংবা আত্মশুদ্ধির প্রধান মাধ্যম। শ্রী শ্রী চন্ডী তে দেবী মা কেবল শক্তিরূপা নন, তিনি জীবের জীবন ধারণের মূল আকুতি : তৃষ্ণা রূপেণ সংস্হিতা!’ জলের বুক কিরে যেমন পদ্ম প্রস্ফুটিত হয় তেমনি জীবন চেতনার তৃষ্ণা থেকেই প্রকাশিত হন মহাশক্তি মা দুর্গা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে মন্ডপ শয্যায় বাঁশ,বেত তন্তু ও চটের মত পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে।ঢেউয়ের আদলে তৈরি বহুস্তরীয় কাঠামো, জলপ্রপাতের দৃশ্য, প্রতিফলন পুকুর এবং আলোকসজ্জার সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি স্বতন্ত্র পরিবেশ। প্রবেশ পথ থেকে মন্ডপের ভেতর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পথ এমন ভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে প্রকৃতির গতিশীলতা থেকে প্রশান্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি নান্দনিক অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
আয়োজকরা জানান, জলজ কেবল ধর্মীয় অনুভূতির মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, এটি তার আবেদন কে প্রসারিত করেছে বৈশ্বিক ও পরিবেশগত সামাজিক দায়বদ্ধতায়।
আজ জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দখল ও জলদূষণের কারণে পৃথিবীর জলচক্র মারাত্মক সংকটে। বাংলাদেশের জন্য এই সংকট অস্তিত্বের প্রশ্ন। তাই জলকে সম্মান করা ও রক্ষা করা মানেই জীবন, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা।’জলজ’ মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার, প্রকৃতিকে ভালোবাসার এবং জীব মণ্ডলকে রক্ষা করার এক সানন্দ আহ্বান ।
পূজা মন্ডপের পরিকল্পনা নকশা ও তত্ত্বাবধান করেছেন স্হপতি অমিতি কুন্ডু এবং শিল্পী গবেষক পার্থ প্রতিম সাহা।
এবার শারদীয় দুর্গাপূজা সর্বোচ্চ সংখ্যক পূজা মন্ডপ, সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
গতকাল শুক্রবার ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বনানীতে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ সংলগ্ন পূজার মাঠে গুলশান- বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত দুর্গা পূজার মহাষষ্ঠী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, উপসনালয় নির্মাণ, এবং কোন ধরনের বৈষম্য ছাড়া সব আচার অনুষ্ঠান পালনের অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকির, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী সহ
আমন্ত্রিত দেশের রাষ্ট্রদূত ও ডিপ্লোমেটি জোনের সদস্য বৃন্দ। অনুষ্ঠানের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বাফুফে চেয়ারম্যান ও বিএনপি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিদ আউয়াল, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া( দিলন) প্রমুখ।
গুলশান -বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন এর সভাপতি অলোক সাহার সভাপতিত্বে এবং সদস্য স্বপ্না ভৌমিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়।
সূত্রঃ
# গুলশান- বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন এর প্রেস নোট।
বি.দ্র.
প্রতিবেদক-
সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক জনতার দেশ।