শাফায়াত হোসেন |প্রতিনিধি ঢাকা মহানগর উত্তরঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে মোহাম্মদপুর শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাকে চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সড়কে সড়কে মাইকিং করেছেন সংগঠনের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মাইকিংয়ে শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শ্রমিক দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে তার দায় সংগঠনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এ জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
নেতাকর্মীরা বলেন, আমরা জননেতা তারেক রহমানের কাছে প্রমাণ করতে চাই, দলের নাম ব্যবহার করে যারা অপরাধ করছে, তাদের সঙ্গে শ্রমিক দলের প্রকৃত নেতাকর্মীদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হোক। অন্য কেউ অপরাধ করে শ্রমিক দলের নাম ব্যবহার করলে তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে। আমরা চাই, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন হোক এবং অপরাধীরা আইনের আওতায় আসুক।
তারা আরও বলেন, আলী কাওসার পিন্টুর নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই মাঠপর্যায়ে মাইকিং করা হচ্ছে।
শ্রমিক দলের কয়েকজন নেতা জানান, তারা কারাগারের ফটকে আলী কাওসার পিন্টুর সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে মোহাম্মদপুরের সোনারটেক বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে মাইকিং করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকায় অপরাধবিরোধী সচেতনতা বাড়তে পারে। তাদের প্রত্যাশা, মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ হলে সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বাড়িওয়ালা, হাউজিং ব্যবসায়ী ও প্লট মালিকেরা স্বস্তিতে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।
মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান, অপরাধীদের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা , সম্মিলিত উদ্যোগ ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে।