মাহবুবুর রহমান খানঃ
বাংলাদেশের মানব পাচার পরিস্থিতি বর্তমানে একটি ক্রমবর্ধমান ও গভীর উদ্বেগ জনক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নত জীবনযাপনের আশায় অবৈধ অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন,বিদেশে পতিতাবৃত্তি, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রলোভন দেখানোর কারণে মানব পাচার বহু গুণ বেড়ে গেছে।ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্হার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই ভয়াবহ চিত্র।প্রশাসনিক তৎপরতা আগের তুলনায় সক্রিয় হওয়া সত্ত্বেও পাচার প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীদের সহায়তা জায়গা দিতে এখনো অনেক বড় ঘাটতি রয়েছে। (International society for human rights)
দেশের ভেতরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই পাচারের ঘটনা ঘটছে। নারীদের যৌন শোষণ তাছাড়া বর্তমানে পাচারকারীরা ফেসবুক টিক টক বা অনলাইনে ভুয়া চাকুরীর বিজ্ঞাপনের মত ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে তরুণ তরুণীদের ফাঁদে ফেলছে। পুরুষদের মূলত মধ্যপ্রাচ্য মালয়েশিয়া এবং লিবিয়ায় জোরপূর্বকশ্রম বা দাসত্বের জন্য প্রচার করা হয়। অন্যদিকে নারী ও শিশুদের দেশের অভ্যন্তরে এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে যেমন ভারত যৌন শোষণ ও গৃহকর্মী হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গা শরনার্থী।পাচারের জন্যঅনেক সস্তায় নারী -পুরুষ মিলে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে।মাদক,অস্ত্র চোরাচালান মানব পাচারের বিশাল অভয়ারণ্য এই রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির।দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৩০ শতাংশ রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির কন্ট্রোল কাজে নিয়োজিত।নদী সাগর পথে ট্রলারে পাচার সহজ লভ্য এবং কম ঝুঁকি পূর্ণ হওয়ায় কোন ভাবেই মানব পাচার সামাল দেয়া যাচ্ছে না। এতো গেল নদী সমুদ্র পথের কাহিনি।আকাশ পথে মানব পাচারের কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে কিছু অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি এবং স্হানীয় দালাল চক্র। তারা মধ্যপ্রাচ্যে ভাল বেতন,ভাল চাকরি উন্নত জীবন যাপনের নিশ্চয়তা দিয়ে প্রতিবছর শত শত যুবতী -তরুণী, নারীদের পাচার করছে।চাকরির নামে তাদের কে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আরেকটি চক্র স্বপ্নের দেশ ইউরোপ কান্ট্রিতে পাঠানোর নামে সমুদ্র পথে লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইঞ্জিন চালিত নৌকা-ট্রলারে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালি ঠেলে দিচ্ছে। এক সময় বৈরি আবহাওয়ায় সমুদ্রে তাদের সলিল সমাধি হচ্ছে।আবার অনেক সময় দেখা যায়,লিবিয়া কিংবা তিউনিসিয়ায় দালাল চক্র তাদের আটক করে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করছে। মুক্তিপণ না দিলে দিনের পর দিন তাদের ওপর চলে অত্যাচারের স্টীম রুলার।
( সূত্র : Eeoropean Union agency for A) চক্রের স্বীকার হচ্ছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী পাচার হওয়া মানুষের উদ্ধার এবং আইনি বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর গতির।
বিগত পাঁচ বছরের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১২,৩২৪ জনেরও বেশি মানুষ বাংলাদেশ থেকে পাচারের শিকার হয়েছেন যার মধ্যে ২০৬১৪ জন নারী ও শিশু এখনো নিখোঁজ।(International Society for human rights)
মানব পাচারের অভিযোগে ৬৭৩৫টিরও বেশি মামলা দায়ের এবং ২০৭৩ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও গত দেড় দশকে মাত্র ২৩৩ টি তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।তবে ইতিবাচক দিক হলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে( Rapid Action Battalion) র্যাব ও পুলিশের বিশেষ অভিযানের ফলে বেশ কিছু বড় আন্তর্জাতিক পাচারকারী ইউনিট ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো রায় এসেছে।
বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান :
বৈশ্বিক আধুনিক দাসত্বসূচক (Global slavery index)
অনুযায়ী এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আধুনিক দাসত্বের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ নবম স্থানে রয়েছে এবং এবং বিশ্বব্যাপী অবস্থান ৫৬ তম।Uro State এর তথ্য মতে ইউরোপের দেশগুলোতে পাচার হওয়া অইউরোপীয় নাগরিকদের তালিকায় বাংলাদেশ চতুর্থ
শীর্ষ দেশ।মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM Bangladesh) ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্হার কারিগরি সহায়তায় দেশব্যাপী সমন্বিত প্রতিরোধ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সম্প্রতি সরকারের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের সীমান্তবর্তী ১৪ টি বিশেষ জেলা চিহ্নিত করেন। তারা মানব পাচারের তালিকায় ইতালির রুট বন্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।চলবে–
তথ্যসূত্র :
# (Bangladesh Sangbad sangtha BSS).
# Human Rights Bangladesh
# Human Rights Review Society
# woman & Child Trafficking Research Organisation ( Bangladesh Based)
# International Society for Human Rights.
# UNICEF Bangladesh
N.B.
Reporter Mahbubur Rahman Khan Editor & Publisher, Daily janotardesh (An Online Digital Newspaper)