নিজস্ব সংবাদ দাতা| মিসেস চামেলী আক্তার প্রিয়া:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় চার সাংবাদিককে মারধর, টাকা ও ক্যামেরাসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক মহল।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে মৌচাক এলাকার আল আকসা মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মো. জসিম উদ্দিন খান কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক মো. জসিম উদ্দিন খান, মো. সাহ আলম, মো. তরিকুল ইসলাম সাগর ও মো. সোহেল রানা তিনটি মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা মৌচাকের আল আকসা মসজিদের পাশে পৌঁছালে মো. সুলতানসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জন তাদের পথরোধ করেন। এ সময় তাদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা সাংবাদিক মো. জসিম উদ্দিন খানের কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং একটি Panasonic NX100 ক্যামেরা নিয়ে যান। এছাড়া সাংবাদিক মো. সোহেল রানার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং তার মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়েছে।
এ সময় ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া বা গণমাধ্যমে প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর সাংবাদিক মো. জসিম উদ্দিন খান কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত মো. সুলতানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোথায়?’
সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদেরই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, তাহলে স্বাধীন ও নির্ভীক সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে।
সাংবাদিক মহল বলছে, “এক কথায় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোথায়?”
তারা দ্রুত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত হামলা, ছিনতাই ও হুমকির বিষয়গুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।