• শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন
Headline
দাউদকান্দিতে পুলিশের অভিযানে ডাকাতি-চুরি মামলার পাঁচ আসামিসহ গ্রেপ্তার-২৬I সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম নিয়ে কটুক্তির মবে শামীম হত্যা মামলায় আটক-২! শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘হিলারি রোডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে ‘বোকা’ বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল! লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ; জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ! তাহিরপুরে নদীনির্ভর অর্থনীতিতে গতি ফেরার আশা, শনিবার খুলছে জাদুকাটা! কুমিল্লায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ধরে নিয়ে যাওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ! কুমিল্লায় প্রকাশ্যে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা! গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে আটক ৩, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড। নরসিংদীর গর্ব হাতবিহীন “দুঃখু মিয়া ” অদম্য মনোবলে জ্বালিয়েছেন শিক্ষার আলো! নদীর বুকে জেগেছে চর, ঘাস বেচে বাঁচে হাজারো ঘর!

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম নিয়ে কটুক্তির মবে শামীম হত্যা মামলায় আটক-২!

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

 

হাফিজুর রহমান|সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ

ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করার জের ধরে সাতক্ষীরার দেবহাটা থানায় আলোচিত মব সৃষ্টি করে জামায়াত নেতাকর্মীসহ উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম হত্যার ঘটনায় ১০ জন নামীয় ও ২০০/২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে দেবহাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই দেওহাটা থানার শান্তা গ্রামের মৃত শামসুর রহমানের পুত্র আব্দুল জলিল সানা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ৯ ।

উক্ত মামলায় পুলিশ অভিযান রাতভর অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ২ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার কৃতরা হলো সুবর্ণা বাদ নাজিরের ঘের এলাকার রহিম বক্স মোল্লার পুত্র আসাদুল ইসলাম (৪৬) ও মৃত মাহতাব উদ্দিন খানের পুত্র মুক্তার খান (৪৩)। তবে মামলার অন্যতম আসামে ধর্ম নিয়ে অপপ্রচার ও উস্কানি দিয়ে জনগণকে উত্তেজিত করিয়ে বাড়ি থেকে ধরে বাড়ি ভাঙচুর ও পিটিয়ে আহত করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকেও ধরে এনে বাইরে রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের কারি রুহুল আমিনের পুত্র জামায়াত কর্মী ফজলুল হক আমিনী ও নিশ্চিন্তিপুর গ্রামের শওকত আলির পুত্র সাদিকুল ইসলাম ওরফে ভদুকে গ্রেফতার না করায় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

থানার এজাহার সূত্রে জানা যায় বাদীর ভাই এক সময়কার মাওলানা ও ইসলামী চিন্তাবিদ হিসাবে বই লেখক ওহেদুজ্জামান শামীম কিছুদিন যাবত মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বাড়িতে পরিবারের কাছে গৃহবন্দী অবস্থায় জীবন যাপন করছিল। মানসিক ভারসাম্যহীন উত্তেজিত অবস্থায় ১২ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২ টার দিকে তার ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারতে উদ্যত হয়। ওই সময় উত্তেজিত অবস্থায় মানসিক ভারসাম্যহীন ওয়াহিদুজ্জামান শামীম ধর্ম , হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে নিয়ে কথা কাটাকাটির বিষয়টি পাশের একজন ভিডিও করে স্থানীয় জামায়াত অফিসে নিয়ে সকলের সামনে প্রচার করে। উক্ত রেকর্ড শুনিয়ে উপস্থিত লোকজনকে উত্তেজিত করে মত সৃষ্টি করে দলবদ্ধ ভাবে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের বাড়িতে গিয়ে বাড়ি ভাঙচুর ও হামলা মারপিট করে। ওই সময় সে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী ডাক্তারের বাড়িতে গিয়ে রক্ষা পায়। অতপরঃ তার ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়লে একই দিন রাত অনুমান ১০ টায় কুলিয়ার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন । পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর বিকাল আনুমানিক ৫ টার দিকে আসামি ফজলুল হক আমিনী ও সাদিকুল ছানা ওবায়দুজ্জামান শামীম এর অবস্থান জানতে পেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লোকজন উত্তেজিত করে মত সৃষ্টির মাধ্যমে আসামে জামায়াত নেতা ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে এজাহার নামীয় সকল আসামীসহ ২০০/২৫০ জন দেবহাটা থানাধীন পশ্চিম কুলিয়া সাকিনস্থ জনৈক আব্দুস সবুর ডাক্তারের চেম্বারের সামনে গিয়ে তার ভাই ওয়াহিদুজ্জামান শামীম ইসলাম ধর্ম অবমাননা করেছে মর্মে অপবাদ দিতে থাকে এবং ডাক্তারের নিষেধ অমান্য করে তাকে চেম্বার থেকে টেনে হিচড়ে রাস্তায় বের করে নিয়ে আসে। এরপর ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে রাস্তায় ফেলে তার বুকে, মুখে, মাথায়, পেটে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল, ঘুষি মারতে থাকে। তার ভাই অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন দেবহাটা থানায় খবর দিলে থানার পুলিশ তার ভাইকে মূমুর্ষ অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরে ১৩ অক্টোবর রাত্র অনুমান সাড়ে ৮ টায় আসামীরা মিছিল সহকারে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও করে। আসামীগণ নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার স্লোগান দিতে থাকে। হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য, তার ভাইয়ের সাথে ডিউটিতে থাকা পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আসামীগণকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এজাহারনামীয় আসামীগণ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাসপাতালের মূল ফটক এবং পিছনের ফটক দিয়ে প্রবেশ করে তার ভাইকে হাসপাতালের বেড থেকে টেনে হিচড়ে নামিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় নিয়ে এসে দুই হাত এবং দুই পা ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে হাসপাতালের দেওয়ালে কয়েকবার আছাড় মারে। এসময় এজাহারনামীয় সকল আসামীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে। এ ব্যাপারে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ এইচ এম শাহীন জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আলোচিত এই মামলাটি রেকর্ড পরবর্তী দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ২ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া সকল আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান চলমান রয়েছে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category