ঢাকেশ্বরী মন্দিরে হিন্দুরীতিতে বিয়ে করলেন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি তাসনুভা আনান শিশির।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও তাসনুভা আনাম শিশির ওরফে কামাল হোসেন নামের এক ট্রানজেন্ডার ব্যক্তি ডাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এক সনাতনী যুবককে বিয়ে করেছেন।
শারীরিক গঠনে একজন পুরুষ হয়ে আরেকজন পুরুষকে বিয়ে করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ প্রিন্ট -ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠেছে।দেশে সমলিঙ্গের বিয়ে সরাসরি নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ার পরও এই বিয়ে নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সমাজের বিভিন্ন মহল।বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭ ধারা অনুযায়ী প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কোন ধরনের যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি যদি তার জন্মগত লিঙ্গের( যেমন একজন ট্রান্স উইমেন বা পুরুষ থেকে রূপান্তরিত নারী অন্য কোন পুরুষের সাথে) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তবে প্রচলিত সামাজিক ও আইনি নির্দিষ্টিতে সেটিকে সমলিঙ্গের বিয়ে হিসেবে বিবেচনা করা হয়।বাংলাদেশে সমলিঙ্গের বিয়ের কোন আইন বা সামাজিক স্বীকৃতি নেই।
কোন রূপান্তরিত নারী বা পুরুষ বিপরীত লিঙ্গের কাউকে বিয়ে করতে চাইলেও নথিপত্র এবং ধর্মীয় আইনের জটিলতার কারণে সেই বিয়ে আইনে বৈধতা পায় না।
ঘটনার বিষ ছড়িয়েছে অন্য জায়গায়। তাসনুভা আনান শিশির ট্রান্সজেন্ডার ( রূপান্তরিত নারী)হলেও তিনি মুসলমান পরিবারের সন্তান।পুরুষে পুরুষে বিয়ে এটা মূল ফ্যাক্টর ছিলনা।সমস্যা বেঁধেছে সে মাথাতে সিঁথি -সিঁদুর পড়ে মন্দিরে গিয়ে হিন্দু রীতিতে জপ মন্ত্র পড়ে একজন সনাতনী যুবক কে বিয়ে করায়।আবার সেটা করিয়েছে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের এক পুরোহিতের মাধ্যমে।
বাংলাদেশে যা অবৈধ ও গর্হিত কাজ যার কোন আইনী বা সামাজিক ভিত্তি নেই এমন কাজ মন্দিরের এক পুরোহিত কীভাবে সম্পন্ন করলো সেই জবাবদিহিতায় ফুঁসে ওঠেছে মুসলিম কমিউনিটির লোকজন।
বাংলাদেশে এই প্রথম কোন সমকামী ঢাক ঢোল পিটিয়ে বিয়ে করলো।
কে এই তাসনুভা আনান শিশির ?
তাসনুভা আনান শিশিরের পূর্ব নাম কামাল হোসেন।১৯৯১ সালের ১৬ জুন খুলনার বাগেরহাটে তার জন্ম। তার বাবার নাম সামসুল হক মাতা জামিরুন বেগম।তিনি নারায়ণ গঞ্জের তোলারাম কলেজ থেকে সমাজ বিজ্ঞানে অনার্স সহ মাস্টার্স ডিগ্রি কমপ্লিট করেন।পূর্বে তিনি হিজড়া গোত্রীয় হলেও এখন একজন রূপান্তরিত নারী।
তিনি রূপান্তরিত লিঙ্গের একজন মানবাধিকার কর্মী, মডেল অভিনেত্রী এবং সংবাদ উপস্থাপিকা। যিনি বিগত ৮ মার্চ ২০২১ তারিখে প্রথম প্রকাশ্যে রূপান্তরিত লিঙ্গের সংবাদ পাঠিকা হিসাবে পর্দায় আবির্ভূত হন।
বৈশাখী টিভির সংবাদ উপস্হাপিক্ হিসাবে তার প্রাথমিক যাত্রা শুরু।শ্রুতি মধুর কন্ঠ,নিঁখুত শুদ্ধ শৈলী উচ্চারণ, পরিপাটি গোঁছালো সংবাদ উপস্থাপনে তাসনুভা আনান শিশির দর্শক হৃদয়ে একটি গ্রহণ যোগ্যতা ও ভাল বাসার স্হান করে নিয়েছিল।
এই সমাজের মানুষ তখন ও জানতে পারেনি তিনি একজন রূপান্তরিত নারী। তার এই বর্তমান কর্মকাণ্ডে সব প্রকাশিত হচ্ছে।
তাসনুভা আনান শিশির একজন সম্পদ ব্যক্তি।সারা বাংলাদেশের তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর আইকন, উজ্জ্বল নক্ষত্র এতে কোন সন্দেহ নেই।
তার, শিক্ষা,মেধা,প্রজ্ঞা, মননশীলতা এই সমাজের আর দশটা নারী থেকে কোন অংশেই কম নয়।তার ‘লাভলী ফিগার’কথা বলার স্টাইল বাকপটুতা যে কাউকে মুগ্ধ করবে।একজন রূপান্তরিত নারী হিসেবে তাকে মনেই হয়না।
তবে ইদানিং তিনি যে কাজটি করেছেন তা কতটুকু ন্যায় সংগত আইনী ভিত্তির ওপর সুদৃঢ় সেটা আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রচলিত আইনী ব্যবস্হাই নির্ধারণ করে দেবে তিনি কতটুকু অপরাধ করেছেন এবং তার শাস্তি কী হতে পারে?
সমাজ তাকে ধিক্কার জানাতে পারবে কিন্ত ফয়সালা দিতে পারবেনা। তাসনুভার এহেন কর্মকাণ্ডে পাঠক সমাজের প্রতিক্রিয়া কমেন্টস করে জানাতে ভুলবেন না।
তথ্যসূত্র:
*ডেইলি স্টার বাংলা
*The dhaka diary.com
*Jagonews 24.com
নোট:
প্রতিবেদক-
মোঃ মাহবুবুর রহমান খান, সম্পাদক -প্রকাশক
দৈনিক জনতার দেশ।