• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন
Headline
রাজধানী শহরের ফুটপাত থেকে ম*র*দেহ উদ্ধার! বাংলাদেশের রেমিটেন্স যোদ্ধারা মালয়েশিয়াতে ধর পাকড়ের ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্ক উৎকণ্ঠায়! ! ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি আয় কমেছে ১২ শতাংশ! শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক জব্দ! এগিয়ে চলছে আধুনিক বিজ্ঞানঃএকটা সময় আসবে মানুষের চেয়ে এ আই প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে একটা সময় আসবে মানুষের চেয়ে এগিয়ে থাকবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি! রাজধানীর ফ্লাইওভার গুলোতে নাইলনের সুতার ফাঁদ পেতে অভিনব কায়দায় ছিনতাই -ডাকাতি! লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের দেড় কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি বিলাস বহুল ফ্ল্যাট জব্দ! ৪ কঠিন শর্তে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থার্ড টার্মিনালের কাজ আটকে দিয়েছে নির্মাণ সংস্হা জাপান কনসোর্টিয়াম! শুভ সকাল প্রেমের মরা জলে না ডুবে শুকনাতেই ডুবে মরলো পরিবার নিয়ে!

পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে দীর্ঘ এক যুগ দাম্পত্য জীবনের ইতিটেনে সন্তানাদি টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার নিয়ে নরসিংদী জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর ( এ. পি. পি) এডভোকেট, নয়ন মোল্লার হাত ধরে নিরুদ্দেশ যাত্রী হলেন এক গৃহবধু!

Reporter Name
Update : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

মাহবুবুর রহমান খান:
উল্লেখিত শিরোনামের সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় ভাইরাল নিউজে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নরসিংদী তে এটি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
জাতীয় গণমাধ্যম দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনামঃ
“প্রবাসীর স্ত্রীসহ কোটি টাকা নিয়ে পালালেন স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা ” (প্রকাশ ২৩ আগস্ট ২০২৬,রবিবার)
জাতীয় গণমাধ্যম কালবেলার শিরোনাম :
“মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে কোটি টাকা সহ প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালালেন আইনজীবী ” ( প্রকাশ ২৩ আগস্ট ২০২৬ রবিবার)
দেশের নামকরা দুটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই সংবাদটি আমার দৃষ্টিকে এড়ায়নি। এখানে যা উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর কথা যদি আসলেই সত্যি হয় তাহলে কথিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট নয়ন মোল্লার চরম দুর্ভোগ রাউগ্রাসের শনি অপেক্ষা করছে।
ঘটনার সত্যতা জানতে গত ২৪ আগস্ট, সোমবার, ভুক্তভোগীর সংগে তার মুঠোফোনে কথা বলে জানা গেছে, মো:লুৎফর রহমান ভুঁইয়া গ্রাম: হাসনাবাদ (পশ্চিমপাড়া) ওয়ার্ড নম্বর :২ ইউনিয়ন আমিরগঞ্জ, থানা :রায়পুরা জেলা :নরসিংদী ২০১৩ সালে পারিবারিক সম্মতিতে বাজিতপুরের মেয়ে হাফসা খাতুন কে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ৫ লাখ টাকা দেন মোহরে
বিয়ে করেন।লুৎফর একজন প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধা। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে তিনি কুয়েতে প্রবাস জীবন যাপন করছেন।এরই মধ্যে লুৎফর-হাফসা দম্পতির কোল আলোকিত করে জন্ম নেয় দুটি সন্তান। তাওহিদ, তাসনিম।পুত্র তাওহিদের বয়স এখন ১২ এর কোঠায় কন্যা তাসনিম এর ৮। নির্ঝঞ্ঝাট সাজানো গোছানো একটি সুখী সংসার । ছেলেমেয়েদের অনাগত ভবিষ্যৎ, সংসারের সুখ শান্তির কথা বিবেচনা করেই লুৎফর এখনো প্রবাস জীবন কাটাচ্ছে। জানা গেছে প্রবাসে থাকাকালীন অবস্থাতেই দেশে ছুটিতে এসে লুৎফর বিয়ে করেন।

অ্যাডভোকেট নয়নের সাথে হাফসার পরকীয়া সম্পর্কের সূত্রপাত :

হাসনাবাদ এলাকায় একটি জমি ক্রয়ের মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় এপিপি নয়নের সাথে জনৈক ব্যক্তির মাধ্যমে লুৎফর এর পরিচয় ঘটে।ভুক্তভোগী লুৎফর এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্রয়কৃত জমির সমস্যা সমাধানে এডভোকেট নয়নের সাথে মামলার বিষয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে নয়ন লুৎফর কে জানায়, আদালতে নিয়মিত মামলা রুজু হলে আইনি পরামর্শ আছে, আপনি যেহেতু প্রবাসে থাকেন তাই আপনার পক্ষে বাদী হয়ে মামলা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।
পরবর্তীতে নয়ন লুৎফরকে পরামর্শ দেয়, তার স্ত্রী হাফসা কে মামলার বাদী করলে কোন সমস্যা হবে না।সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে লুৎফর তখন তার স্ত্রী হাফসা কে মামলার বাদি করে একটি দেওয়ানি মামলা রুজু করে সপ্তাহখানেক পরে সে তা কর্মস্থল কুয়েতে ফিরে যায়।
লুৎফর এর অনুপস্থিতিতে আইনি সহায়তা এবং খুঁটিনাটি তত্ত্বের জন্য নয়ন হাফসাকে ঘনঘন তার চেম্বারে ডাকা শুরু করে। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। এই ঘনিষ্ঠতার আড়ালে মামলার কথা বলে হাফসার কাছ থেকে হাতিয়ে নিতে থাকে টাকা পয়সা।দুজনের সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হলে নয়ন একটা সময় হাফসাকে  কু পরামর্শ দিতে থাকে লুৎফরকে ছেড়ে তার সাথে ঘর সংসার করতে। লুৎফর এর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আন্তরিক ঘনিষ্ঠতার এক পর্যায়ে হাফসা নয়ন গোপনে লুৎফর এর ভাড়া বাসায় একত্রে রাত্রিযাপন শুরু করে। এভাবে দুজনের অন্তরঙ্গ মেলামেশা চলতে থাকে। এক পর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে এবং লুৎফর এর পরিবারের সদস্যের কাছে ধরা পড়লে শেষে মান সম্মান রক্ষা করতে হাফসা উকিল নয়নের সহায়তায় একটি ভুয়া ডিভোর্স লেটার তৈরি করে লুৎফর এর পরিবারের অন্যান্য ভাই বোন, তার মা
অন্যান্য ভাই-বোন এবং লুৎফর এর মাকে  জানায়, সে লুৎফর এর সংসার করবেনা।  তাকে তালাক দিয়ে দিয়েছে।অথচ তালাকের কোন নোটিশ লুৎফরের পরিবারকে দেয়া হয়নি।
তালাকের কারণ হিসেবে হাফসা মানুষের কাছে বলে বেড়াতে থাকে, বিদেশে থেকে লুৎফর রীতিমতো হাফসার খোঁজ খবর নিচ্ছেনা, ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ, বাসা ভাড়া, পারিবারিক ভরণ পোষণ না দেয়ায় সে স্বামী কে তালাক দিতে বাধ্য হয়েছে।
এ ব্যাপারে লুৎফর এর সঙ্গে কথা হলে, সে কান্না বিজড়িত কণ্ঠে জনতার দেশ কে জানায়, আমি প্রতিমাসে নিয়মিত বাসা ভাড়া, ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ, বউ এর প্রসাধনী, চিকিৎসা, বিভিন্ন কেনাকাটা সহ সাংসারিক খরচের জন্য ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দিতেছি।বিগত বছরগুলোতে কোন মাসে কত টাকা দিয়েছি তার রশিদ আমার কাছে আছে।
তালাক প্রসঙ্গে বলেন, আমি তালাকের কোন নোটিশ পাইনি।লুৎফর আরো বলেন, আমি যদি টাকা নাইবা পাঠাতাম তাহলে সে (হাফসা) বাসা ভাড়া, ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ, ভাত কাপড় অন্যান্য খরচের টাকা
কীভাবে মেনটেইন করতো?
সে তো কোন চাকরি করে না, এক্সট্রা ইনকামের কোন রাস্তা নেই?
লুৎফর আরো জানান, বিস্তারিত ঘটনা আমি আমার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানতে পেরে গত ৩ আগস্ট দেশে আসি। এসে দেখি বাসা তালাবদ্ধ। পরে তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে দেখি আমার ঘরের দামী আসবাবপত্র কিছুই নেই। সে আমার দুই অবুঝ সন্তান সহ এডভোকেট নয়নের হাত ধরে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় কথা, গত ২২ বছরে সংসারের সকল চাহিদা ও খরচ মিটিয়ে তার ব্যাংক একাউন্টে এক কোটি ১০ লাখ টাকা আমানত রেখেছিলাম।আমি দেশে আসার আগে হাফসা নিজে এই তথ্য আমাকে দিয়েছিল।কারণ এই টাকা আমি বাড়ি করার জন্য তিলে তিলে সঞ্চয় করে বউয়ের একাউন্টে  জমা রেখেছিলাম।
৫ আগস্ট ব্যাংকে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখি একটি টাকাও অবশিষ্ট নেই। তাছাড়া ব্যাংকের লকারে ৩০ ভরি ওজনের স্বর্ণলংকার ছিল সেগুলিও নেই।
*আইনি জটিলতা*
লুৎফর এবং তার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী ঘটনা যদি সত্য হয়, এডভোকেট নয়ন বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও স্বামীর তালাক ব্যতীত টাকার লোভে অন্যের স্ত্রীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে ঘর সংসার করে সেটি মারাত্মক অপরাধ। সেটি প্রথাগত বৈধ বিয়ে নয়, জোরপূর্বক অপহরণ।
একজন আইনজীবী হয়ে আইনের তোয়াক্কা না করে পরস্ত্রী হরণ করে, স্বামী স্ত্রীর পরিচয়ে সংসার করা কতটুকু অপরাধ সেটা হয়তো নয়ন জানেনা।
ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে, একটা সাজানো গোছানো সংসার ভেঙ্গে দেওয়ার কারণে তার ন্যূনতম শাস্তি ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড সহ ওকালতির লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এডভোকেট নয়ন বিবাহিত। তার স্ত্রী সন্তানাদি রয়েছে।সে নারী লোভী, অর্থ লিপ্সু একটা লম্পট চরিত্রের মানুষ। ইতোপূর্বে সে আরো ৫/৭জন প্রবাসী পুরুষের স্ত্রীকে এভাবে বিয়ের ফাঁদে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, আমি নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পত্র হাতে পেয়েছি। সত্যতা যাচাই বাছাইয়ের জন্য এটি জেলা বার কাউন্সিলের সেক্রেটারিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দায়িত্ব দিয়েছি। বাদীর অভিযোগ সত্য হলে, নয়ন মোল্লার বার কাউন্সিলের সদস্যপদ বাতিল হবে আর সদস্যপদ বাতিল হলে এপিপির পদ আর থাকবেনা সেই পদ এমনিতেই চলে যাবে।
এ ব্যাপারে সুষ্ঠু বিচারের প্রত্যাশায় ভুক্তভোগী লুৎফর, নরসিংদী মডেল থানা, সিআইডি, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতি নরসিংদী, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে এডভোকেট নয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন।অভিযোগ পত্রের সকল অনুলিপি দৈনিক জনতার দেশের হাতে রয়েছে।

*উপসংহার*
পূর্বে নয়ন মোল্লার বিচারিক শাস্তি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। এবার আসা যাক কাহিনীর মূল নায়িকা দুশ্চরিত্রা নারী হাফসার বিষয়ে।
হাফসা এখানে “ধোঁয়া তুলসী পাতা”নহে।
পরকীয়া প্রেমিকের শাস্তি হবে,প্রেমিকার হবে না এটা হতে পারে না।তার মিথ্যা সাজানো নাটকের যবনিকাপাত ঘটবে ভয়াবহ পরিণতির মাধ্যমে।
এখানে তার স্বামী (লুৎফর) যদি তাকে তালাক না দেয় তাহলেই খেলা জমে ওঠবে।তার চারিত্রিক দ্বিচারিতার খোঁলস উন্মোচিত হবে।ভূয়া তালাকের নোটিশ তৈরি ‘ পর পুরুষের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়ার অপরাধ, একটি বিশ্বাস ও পবিত্র আমানত খেয়ানত করার অপরাধে তাকেও নুন্যতম ৩ বছর লাল দালানে অভিসার করতে হবে। সে হারাবে স্বামী, সংসার, সন্তান, মান সম্মান।
উপাধি হবে বহুগামীনি, পুরুষ কামুক নারী, আবাসিক পতিতা।

বিশেষ দ্রষ্ঠব্য:

ছবির বাম  থেকে পুত্র তাওহিদ মাঝখানে মাতা হাফসা সর্বশেষে কন্যা তাসনিম দু’টি অবুঝ শিশু সন্তান নিয়েই ঘর ছেড়েছেন হাফসা।

প্রতিবেদক- সম্পাদক ও প্রকাশক,দৈনিক জনতার দেশ।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category