স্টাফ রিপোর্টার :
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি প্রায় ২ লাখ টাকায় কেনা হয়েছিল। এরপর অস্ত্রটি একের পর এক হাত ঘুরে শেষ পর্যন্ত পৌঁছায় কিলিং মিশনের দায়িত্বে থাকা মূল অভিযুক্ত শুটার ফয়সালের কাছে।
পিস্তলটির ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি দিয়ে হাদিকে গুলি করেছিল ফয়সাল।
হাদি হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী থেকে উদ্ধারের পর বেরিয়ে আসে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাজেদুল হক হেলাল নামে এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়াও দুই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীকে সনাক্তের চেষ্টা করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে মঙ্গলবার হেলালকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেয় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা পিস্তলটি তুরস্ক থেকে ঢাকার এম আইচ আর্মস কোং আমদানি করে।পরে ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর স্থানীয় ডিলার চক বাজারের ইসলাম উদ্দিন আহমেদ এন্ড সন্স এর কাছে সেটি বিক্রি করা হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা পিস্তলটি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস এন্ড কোং এর কাছে বিক্রি করে।
তদন্তে জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানের মালিক গ্রেফতার মাজেদুল হক হেলাল। অস্ত্রের লাইসেন্সটি আগে তার বাবা হামিদুল হকের নামে ছিল। তারপর ২০২০ সালে নিজের নামে করে নেন তিনি। তবে লাইসেন্সটির মেয়াদ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও এরপর আর নবায়ন করা হয়নি। আগ্নেয়াস্ত্রটি কীভাবে হেলালের কাছ থেকে আসামিদের হাতে গেল সে সম্পর্কে জানতে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে বলে জানা গেছে। গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও সীমান্ত থেকে হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন কে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)।এসটিএফ জানায়,দুই বাংলাদেশি নিজ দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ছিল। সুযোগ বুঝে পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার খবরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বলছে, মাসুদ ও আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদীকে হত্যা করে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে আসে। তারপর তারা ভারতের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকার পর বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে সর্বশেষ বনগাঁও সীমান্তে যান। মামলার তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত নগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল ও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ,উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেট ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস গুলোর ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছেন তারা।খুব দ্রুত মূল রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।
তথ্য সূত্র:
# দৈনিক আমার দেশ
# দৈনিক যুগান্তর
# দৈনিক প্রথম আলো
# দৈনিক কালের কণ্ঠ
#দৈনিক নয়া দিগন্ত