নিজস্ব প্রতিবেদক,
নরসিংদী পৌরসভায় দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে, তা কর্মকর্তাদের আচরণেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। খোদ পৌরসভার পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাত ইসলামের দম্ভোক্তি তিনি সাংবাদিকদের কে বলেন, আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি হয়েছে আমার একটি চুল অথবা পশম ও বাঁকা হয়নি। এমপি মন্ত্রী দেখার সময় সময় নাই। তার দাপ্তরিক অনিয়মে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ নাগরিক ও সেবা গ্রহীতারা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তোয়াক্কা করছেন না সাজ্জাত
ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পনাবিদ মোঃ সাজ্জাত ইসলাম সাংবাদিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে দম্ভোক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, “বহুবার লেখালেখি হয়েছে, কিন্তু কেউ আমার কিছুই করতে পারেনি। এমপি-মন্ত্রীদের সাথে কথা বলার সময় আমার নেই।” একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন ওঠেছে, এই দম্ভের পেছনে কার খুঁটির জোর কাজ
কাজ করছে? পৌরসভার সচিব, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর
তথ্য। *প্রকল্প গায়েব: সরকারি বরাদ্দে হাতে নেওয়া একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
*রেশন ও ত্রাণে অনিয়ম: চাউল মাপে কম দেওয়া এবং দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত মালামাল হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
*বেহাল অবকাঠামো: শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাটের অবস্থা শোচনীয় হলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পরিকল্পিত বর্জ্য অপসারণের অভাবে পুরো পৌরসভা যেন ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে।
*সেবাগ্রহীতাদের সাথে দুর্ব্যবহার:
পৌরসভায় সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের সাথে দুর্ব্যবহার এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। সচিব থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সেবাগ্রহীতাদের সাথে চরম অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
*উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা :
পৌরসভার এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং নরসিংদী সদরের সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পৌরবাসী। দুর্নীতিবাজ এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা না নিলে নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হবে বলে পৌরবাসীর ধারণা।
তথ্যঋণ: *নরসিংদী পোস্ট।