ডি এম রাহাত:
বক্তব্যটি শুনেছি। উনি মূলত বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, কুরআনের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করেছে, তারা সঠিক ব্যাখ্যা ও অনুবাদের ক্ষেত্রে খামখেয়ালি করেছে। বক্তব্যে তার পীর ডা. জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী ও তার পীরের চাচা সুফি সদর উদ্দিন চিশতীর কুরআনের অনুবাদ ও ব্যাখ্যার কথা বলেছিলেন। গ্রন্থ দুটি হলো “কোরআনুল মাজীদ হুবহু অনুবাদ ও কিছু ব্যাখ্যা (১৫ পারা)” ও “কোরআন দর্শন ১-৩ খণ্ড”।
কথার আগের অংশ দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, উনি কুরআন নয়, বরং ভুল অনুবাদ ও অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে বলছিলেন। কিন্তু যে ভিডিওটি কাটিং করে প্রচার করা হয়েছে, সেখানে শুধু ‘কুরআন’ শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন। ফলে কাটিং ভিডিও দেখলে এটাই মনে হবে যে, উনি কুরআন অবমাননা করেছেন। অথচ উনি বাজারে পাওয়া কুরআনের ভুল অনুবাদ ও ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে বলেছিলেন। মূলত কুরআন অবমাননা নয়, বরং কুরআনের মাহাত্ম্য বোঝাতে বক্তব্য দিয়েছিলেন। বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, কুরআনের সঠিক অনুবাদ ও ব্যাখ্যা জানতে উনার পীরের লেখা ও পীরের চাচার লেখা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা পড়তে হবে।
উনি শুধু শরীয়তের আলেমদের উদ্দেশ্য করে বলেন নাই, বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছিল যে, পীরদেরও উনি একই কথা বলেছেন যে, পীরেরাও কুরআনের সঠিক অনুবাদ ও ব্যাখ্যা জানে না।
কাট-ছাঁট করে একটি অংশ প্রচার করার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করে মবের মাধ্যমে খুব পরিকল্পিতভাবে হামলা করতে উস্কিয়েছে একটি চক্র। কথা হলো—কাট-ছাঁট ভিডিওর মাধ্যমে প্রায়ই গুজব তৈরি করে ধর্মীয় দাঙ্গা লাগানো হয়। সাধারণ মানুষ তা যাচাই না করে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দুঃখের বিষয় হলো—যাদের উপর এখনও ধর্মের বিধান ওয়াজিব হয়নি, যারা জানেই না ধর্ম অবমাননা কী, সেসব কোমলমতি নাবালক শিশুরাও হামলায় যুক্ত হচ্ছে।
ব্যক্তিগতভাবে আমি উনার কর্মকাণ্ড সমর্থন করতাম না, উনাকে উনারই তরিকার অনেক বন্ধু সতর্ক করেছে বারবার। মহাপুরুষগণ সর্বজনীন হয়ে ওঠেন, জাত-পাতের ঊর্ধ্বে উঠে যান। কিন্তু উনি কৃষ্ণ সাজতে চেয়েছিলেন। বেশ-বুশায় কৃষ্ণ হতে চাওয়া কোনোভাবেই জাত-পাতের ঊর্ধ্বে ওঠা নয়, বরং নিজেকে জাত-পাতের মধ্যে বেঁধে ফেলা। ব্যাপারটা এমন হয়েছিল যে, ইসলামে থেকে কিছু হয় না, মুসলিম হয়ে মুক্তি পাওয়া যায় না। তাছাড়া আরও কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক তরিকার লোকই তার প্রতি বিরক্ত ছিল।
কিন্তু কোনো অবস্থায় গুজব রটিয়ে মবের মাধ্যমে হামলা, হত্যা মেনে নেওয়া যায় না। অন্যায় করলে রাষ্ট্রের আইনে বিচার হবে। আইন, আদালত আছে। এভাবে অন্যায়ভাবে দলবল বেঁধে কাউকে বিনা বিচারে কারও বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, হত্যা—কোনো যুক্তিতেই ইসলাম সমর্থন করে না। নিঃসন্দেহে এই ঘটনা সরাসরি রাষ্ট্রকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে, সরকার যে মবের বিরুদ্ধে অসহায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ, তারই প্রমাণ এই ঘটনা। সরকারের উচিত ছিল সবার আগে এই দিকে ফোকাস করা। গত সরকারের ২ বছরে অনেক মাজার-দরবারে হামলা হয়েছে। কিন্তু ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের সরকার থাকাবস্থায়ও যদি দেশে এমন ঘটনা ঘটে, তবে তা আসলেই হতাশাজনক।
জাহাঙ্গীর সুফিবাদে বিশ্বাসী ছিলেন।তাছাড়া একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি।তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ধারী ছিলেন।তার ধর্মীয় বিশ্বাস আলেমদের কাছে নেতিবাচক হওয়ায় এই। জিঘাংসু মূলক ট্র্যাজেডির সূচনা।
তথ্যসূত্র:
#(খাজা গরিবে নেওয়াজ ফেইসবুক ফেইজ থেকে কপি পোস্ট)।