মাহবুবুর রহমান খান:
২৪ টি ইউনিয়ন অধ্যুষিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা রায়পুরা। এটি নরসিংদির সর্ব বৃহৎ উপজেলা।রায়পুরা এখন বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে অপরাধ প্রবণ ঝুঁকি পূর্ণ এলাকা। বিশেষ করে, নিলক্ষ্যা চরমধুয়া,চরআড়ালিয়া,বাঁশগাড়ি,মির্জারচর,শ্রীনগর,চাঁনপুর,মির্জাপুর এই ৮ টি ইউনিয়নে সারা বছর দাঙ্গা,হাঙামা,ঝগড়া ফ্যাসাদ লেগেই আছে। প্রতি মাসে গড়ে ওই এলাকা গুলো থেকে কোথাও না কোথাও ২/১ খুনের ঘটনা ঘটছে।ঝগড়ার মূল বিষয় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠী গত দাঙ্গা। এলাকা গুলোকে চারপাশ থেকে মেঘনা,পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও আড়িয়ালখাঁ ঘিরে রেখেছে।বর্ষাকালে স্পীডবোট আর শুকনো মৌসুমে পায়ে হাঁটা ছাড়া এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়া যায়না।তা ছাড়া রায়পুরা থেকে গাড়ি কিংবা স্পীড বোট/ ট্রলারে লোকেশনে যেতে যেতে কেল্লা ফতে।যা হবার যা ঘটার পুলিশ ঘটনা স্হলে যেতে যেতেই অপরাধী লাপাত্তা।যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে শত অপরাধ করে ও তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।
যে কোন অপরাধ করে পুলিশ যাবার আগে তারা নদী পথে পার্শ্ববর্তী এলাকা নবীনগর,আশুগঞ্জ, সলিমগঞ্জ,বাঞ্ছারামপুর পালিয়ে যায়। বৃহৎ থানার তুলনায় রায়পুরাতে তড়িৎ অভিযান পরিচালনা করার মত পর্যাপ্ত যানবাহন স্বল্পতা এর একটা বড় কারণ।তাছাড়া যে পরিমান পুলিশ ফোর্স থাকার কথা রায়পুরা থানায় তা নেই। রায়পুরায় সবচেয়ে বেশি অপরাধ,দাঙ্গা-হাঙ্গামা, খুন হয় নিলক্ষ্যাতে। গত নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত নিলক্ষ্যাতে ৭ টি লাশ পড়েছে।বাকি ৭ টি ইউনিয়নে তো প্রতি মাসে ২/১ টি আছেই।
এই এলাকার বেশির ভাগ মানুষ অলস।প্রবাসে থাকা ছেলে-মেয়ে আত্মীয় স্বজনের টাকায় তারা আদিম বর্বরতায় মেতে ওঠে।বিশেষ করে শীতকালে আমন ধান কাটা শেষ হলে এবং বৈশাখে বোরো ধান কাটা শেষে চর এলাকার মানুষ অবসরে থাকে।কোন কাজ না থাকায় শয়তানি কুটচালে মেতে ওঠে।
নিলক্ষ্যা অন্ধকার যুগকে ও হার মানায়।গত দুই দিনে এখানে তিনটি লাশ পড়েছে।
নিচের ছবি লোকটির নাম বুলবুল। নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার হাইরমারা মোড়ে উনার দোকান ছিলো মটর সার্ভিস করতেন। আজকে তাকে মেরে দুই টুকরো করে বস্তায় ভরে মেঘনা নদীতে ফেলে দিয়েছে।
চলবে—-