নরসিংদী থেকে মোস্তাক আহমেদ:
নরসিংদী নরসিংদীর পাট্টা এলাকায় গড়ে ওঠা একটি তথাকথিত ‘বাংলা বার’ বা বাংলা মদের আড্ডাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম অস্থিরতা ও সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এখানে অবাধে বাংলা মদ বিক্রি করে একটি চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আর এই মরণনেশার জালে জড়িয়ে বিপথগামী হচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উদ্বেগ :
সরেজমিনে ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাট্টা এলাকার এই মদের আড্ডায় ভিড় জমান বিভিন্ন বয়সের মানুষ। সবচেয়ে ভীতিজনক চিত্র হচ্ছে, সেখানে স্কুল ও কলেজের ইউনিফর্ম পরা তরুণদের যাতায়াত আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এই নেশায় বুঁদ হয়ে থাকছে। এতে করে এলাকায় বাড়ছে কিশোর গ্যাং কালচার ও ছোটখাটো অপরাধ।
কোটি টাকার বাণিজ্য ও ‘মাসোহারা’র অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অবৈধ কারবার থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করছে একটি প্রভাবশালী মহল। স্থানীয়দের দাবি, এই সিন্ডিকেটটি এতটাই শক্তিশালী যে প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলার কোনো পরোয়া তারা করছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজনকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ বা মাসভিত্তিক নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিয়ে এই কারবার চালানো হচ্ছে। ফলে দায়িত্বরত সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো অভিযান বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
জনসাধারণের ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা :
পাট্টা এলাকার সাধারণ মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মদ্যপ ব্যক্তিদের আনাগোনা ও মাতলামির কারণে সন্ধ্যার পর নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এলাকার সচেতন মহল বলছেন, “নেশার এই আখড়া যদি দ্রুত বন্ধ না করা হয়, তবে অচিরেই এখানকার মেধা ও তারুণ্য ধ্বংস হয়ে যাবে। নরসিংদীর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ভূমিকা এখানে প্রশ্ন বিদ্ধ। প্রশাসনের মাসিক মাসোহারার কারণে মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রশাসন গ্রেফতার করে তাদের যারা মাদক সেবন করে কিন্ত মাদক বিক্রেতারা থাকে সম্পূর্ণ ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যেমন মদ বিক্রেতার লাইসেন্স আছে,,মাদক সিন্ডিকেট দের সাথে প্রশাসনের মাসোহারা চুক্তি আছে , তারা অধরাই থাকছে।
মাদক নির্মূলে কে এগিয়ে আসবে?
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নাকি পুলিশ প্রশাসন??