বিনোদন ডেস্ক|জনতার দেশঃ
সুচিত্রা সেন বার্ধক্যকে মানতে পারেননি। ১৯৯৫ সালে একবার শুধু ভোটার কার্ডের ছবির জন্য তাঁকে বাইরে বের হতে হয়েছিল, তখন ক্যামেরার ফ্ল্যাশ দেখে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে চিৎকার করে উঠেছিলেন: “স্টপ ইট!”
🟡 দর্শকরা তাঁকে রূপালী পর্দার এক অনিন্দ্য সুন্দরী ও গ্ল্যামারাস ‘মহানায়িকা’ হিসেবে মনে রেখেছিলেন।
বয়সের সাথে সাথে শরীরের গঠন ও চেহারার যে স্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে, তা তিনি মেনে নিতে পারেননি। সাধারণ মানুষের সামনে বৃদ্ধা বা পরিবর্তিত রূপে ধরা দিতে তিনি অনীহা প্রকাশ করতেন।
🔴ষাটের দশক আসার সঙ্গে সঙ্গে উত্তমের সঙ্গে তাঁর রোম্যান্টিক জুটিটির আঙ্গিকও বদলে যায়। ‘কমললতা’য় উত্তমের বিপরীতে তাঁকে সাদা থান, কপালে টিপ পরে দাঁড়াতে হয়। সুচিত্রা বেশ আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আপত্তি ধোপে টেঁকেনি। যে ‘মিসেস সেন’ কিছু বললে, সেটে বেদবাক্য হিসেবে গ্রহণ করা হত, তা যেন আর রইল না।
🔸 সুচিত্রা বুঝতে পারছিলেন সবই। এ-ও দেখছিলেন, শর্মিলা ঠাকুর, অপর্ণা সেনদের ঝড়ের গতিতে উত্থান। পারিশ্রমিকের দিক থেকেও সবচেয়ে দামী অভিনেত্রী আর থাকলেন না তিনি। তাছাড়া তিনি যথেষ্ট বুদ্ধিমতী। জানতেন, তিনি অভিনেত্রী হিসেবে কেমন, তার চুলচেরা বিচার এবার শুরু হবে। সহকর্মীরা তাঁর মেজাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছে।
🔸 এবার তো প্রশ্ন উঠতেই পারে তিনি আদৌ একজন ভাল অভিনেত্রী কি না❓ নাকি শুধুই তারকা❓ অভিনয় ‘শেখা’র সুযোগ তাঁর হয়নি। সেই খামতিকে তিনি ঢেকে দিতে চেষ্টা করেছিলেন তাঁর ‘ম্যানারিজ়ম’ দিয়ে। যা কখনও সুন্দরভাবে খাপ খেয়ে গিয়েছিল অভিনীত চরিত্রের সঙ্গে। আবার কখনও বেমানান লাগত। কিন্তু তাঁর মায়াময় মুখ, সেকালের চিত্রগ্রাহকদের কুশলতায় তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।রূপ যৌ্বন কে চিরস্থায়ী ভাবতেন তিনি।সময়ের পরিক্রমায় একদিন তার সেই আত্মবিশ্বাস বিলীন হয়ে যায়।
বি.দ্র.
তথ্য ও ছবি বিভিন্ন সাইট থেকে সংগৃহিত।