ক্রাইম ডেস্ক|জনতার দেশ:
মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ১:৩০ মিনিটে ঢাকা গুলশান-২, ৪৩ নং সড়কের একটি আলিশান ফ্ল্যাট থেকে মহানগর ডিবি পুলিশ সন্দ্বীপ আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি মিতা কে গ্রেপ্তার করে।
আলোচিত এই সাবেক এমপির পুরো নাম মাহফুজুর রহমান মিতা, যিনি ১৯৭০ সালে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের কুছিয়ামোড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তার স্ত্রীর নাম মাহমুদা মাহফুজ যিনি স্বামীর চুরির সাম্রাজ্যের বড় অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাবেক এমপি মিতার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যাদের মধ্যে বড় ছেলে রায়মান মুস্তাফিজ রাজ্য ও ছোট ছেলে রাশাদ মুস্তাফিজ এবং একমাত্র কন্যাসন্তান তানিয়া মাহফুজ। তারা সবাই ঢাকা ও বিদেশের নামী প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছেন।
৫ই আগস্টের পর থেকেই তিনি ঢাকার এই অভিজাত এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন এবং অভিযানের সময় তার বিশ্বস্ত গাড়িচালক গোলাম মাওলা সেলিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সাবেক এই এমপিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
আদালতে উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক সাবেক এমপি মিতার ৬ দিনের এবং তার গাড়িচালকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিং করেছেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে।
তিনি মূলত রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান পদের প্রভাব খাটিয়ে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ, সন্দ্বীপের টিআর-কাবিখাসহ সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ লুটপাট এবং ক্ষমতার জোরে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
তার এই বিশাল দুর্নীতির অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে দেশের সরকারি ও বেসরকারি ৬৬টি ব্যাংকে তার ও তার পরিবারের নামে থাকা সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করা হয়েছে এবং গতকালের অভিযানে জব্দ হওয়া নথিপত্র ও নগদ অর্থের হিসাব ডিবি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
দেশের ১-২টি নয়, ৬৬টি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট! শুধু চুরির আর লুটপাটের টাকা রাখার জন্যই এতগুলো ব্যাংকের দরকার পড়েছিল।
দুদকের নথি অনুযায়ী, তার ও তার স্ত্রীর নামে ঢাকার মতিঝিলে ৫ কাঠা জায়গার ওপর বহুতল ভবন, রাজউকের পূর্বাচল ও দিয়াবাড়ীতে ৫ কাঠা করে আলিশান প্লট এবং সন্দ্বীপে বিপুল পরিমাণ ধানি জমি ও বাগানবাড়ি রয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে তার মালিকানাধীন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নিজস্ব বহুতল ভবনটির নাম হলো “রূপালী লাইফ টাওয়ার”, যেটির অংশীদার হিসেবে তিনি ও তার পরিবার কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন।
জানা গেছে, রাজনৈতিক ও পারিবারিক সফরে সাবেক এই এমপি ও তার স্ত্রী বেশ কয়েকবার লন্ডনে এসেছিলেন এবং সন্তানদের পড়ালেখার তদারকিসহ সেখানে তাদের গোপন কোনো লেনদেন বা সম্পত্তি রয়েছে কি না, তা এখন গোয়েন্দা দল খতিয়ে দেখছে।
সন্দ্বীপের মানুষ ভালো করেই জানে, সেখানে যাতায়াতের জন্য স্পিডবোট ও লাল বোটের যে সিন্ডিকেট ছিল, তার নিয়ন্ত্রণ সরাসরি তার ইশারাতেই হতো; এছাড়া বীমা ব্যবসার পাশাপাশি সন্দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী পানের বরজ ও ডাল ঘাট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও তার অনুসারীরা সাধারণ মানুষের পকেট কেটে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, গুলশানের ওসির রদবদলের ঠিক পরপরই তিনি গ্রেপ্তার হলেন; যা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, নির্বাচনী হলফনামায় বিকল্প নম্বর ও সব ঠিকানা থাকা সত্ত্বেও আগের পুলিশের সাহায্য নিয়েই তিনি এতদিন আরামে লুকিয়ে ছিলেন!
তার ব্যাংক কত টাকা জমা রয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গুলো বাতিল করে অবৈধ উপায়ে অর্জিত সকল টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করে রাষ্ট্রের উন্নয়নে ব্যয় করার জন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন দেশবাসী।
ছবিঃ
সংগৃহিত।
*ইনসেটে* মাহফুজুর রহমান মিতা।