ডেস্ক রিপোর্ট|জনতার দেশঃ
ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে হামলা,ভাঙচুর, দখল, লুটপাট এর মত ঘটনার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাঃ
*মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাট এর ঘটনা।
*ইসিবি চত্বরে একটি প্রপার্টিজ কার্যালয় এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির এর স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া মোহাম্মদপুর বেরিবাঁধও চাঁদ উদ্যান এলাকায় হাউজিং এর অফিসেও হামলা চালানো হয়।
রাজনৈতিক উদ্বেগঃ
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা চলমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কথা বলা হচ্ছে।
*মব ও কিশোর অপরাধ *
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সভায় মাদক, কিশোর অপরাধ এবং দলীয় পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার মত বিষয়গুলো কঠোর হস্তে দমনের তাগির দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপঃ
ঢাকামেট্রোপলিটনপুলিশ (ডিএমপি)জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার পরেই গত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জড়িত সন্দেহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে ঢাকা মহানগর পুলিশ ডিএমপি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অপরাধীর কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই এবং অপরাধে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত করতে মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার, কিশোর অপরাধ দমন এবং গণসহিংসতা ‘মব’ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং তথ্যভিত্তিক পুলিশিং জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কোর কমিটির সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।
সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ও জেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের প্রবণতা, মাদক বিরোধী অভিযান, জননিরাপত্তা এবং পুলিশের চলমান কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
পুলিশ সুপার শামীমা পারভিন বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে জনগণের ভূমিকাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরো কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন পুলিশ সুপার। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বাড়ানো এবং তাদের আস্হা ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে আরো কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।