নরসিংদী ব্যুরো|জনতার দেশঃ
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে পণ্য সরবরাহের কাজ করে আসছিলেন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামের শ্যামল চন্দ্র দাস। প্রতি সপ্তাহে একবার রায়পুরা ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্ট থেকে নৌকায় করে পণ্য নিয়ে যেতেন আলোকবালি, বাখরনগর ও মোড়াদনগর বাজারে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর যাতায়াতের সঙ্গী ছিলেন খোদাদিল্লা গ্রামের রেজন মিয়া ও তাঁর ছেলে।
গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে রেজন মাঝির ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মনিপুরা ঘাট থেকে আলোকবালির উদ্দেশ্যে রওনা দেন শ্যামল। পণ্য সরবরাহের কাজ শেষে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটের দিকে ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টে ফোন করে জানান, তাঁর কাজ শেষ। একই নৌকায় ফিরবেন তিনি।
কিন্তু এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও শ্যামলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টের লোকজন। তাঁরা ছুটে যান রেজন মাঝির বাড়িতে। সেখানে তাঁর ছেলে জানান, শ্যামলকে দুপুর ১টার দিকে খোদাদিল্লা ঘাটে নামিয়ে দিয়েছেন। অথচ শ্যামলের নিয়মিত ফেরার কথা ছিল মনিপুরা ঘাটে।
সন্দেহের সূত্র ধরে পুলিশের সহায়তায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে রেজাউল মাঝির ছেলে স্বীকার করে, সে শ্যামলকে মেঘনা নদীর মাঝপথে নীলক্ষার কিছু সন্ত্রাসীর হাতে তুলে দিয়েছিল মাএ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ।
অবশেষে আজ ১ নভেম্বর রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সলিমগঞ্জ এলাকায় নদীতে ভেসে ওঠে শ্যামল চন্দ্র দাসের অ*র্ধগ*লিত ম*র*দে*হ। জানা যায়, পণ্য সরবরাহের পর তাঁর কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে নির্মমভাবে হ*ত্যা করা হয়েছে।
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে যে পরিচিত মানুষের সঙ্গে নৌকায় যাতায়াত করেছেন শ্যামল। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল!
একজন সাধারণ কর্মজীবী মানুষ, যিনি পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, টাকার লোভে তাঁকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো, তাও দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষের যোগসাজশে, এ ঘটনা সত্যিই মর্মান্তিক। নিহত শ্যামল চন্দ্র দাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার, ৩ নং ওয়ার্ড আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের স্বর্গীয় প্রমোদ চন্দ্র দাসের ছেলে।