মোঃ মাহবুবুর রহমান খান
সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও অভ্যন্তরীণ প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ সফলভাবে ধরে রেখেছে। ২০২৬ সালের আগস্ট বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নিরাপত্তা অর্থনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি সামগ্রিক চিত্র নিচে তুললে ধরা হলো।
বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাঃ
চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বাহ্যিক কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও অভ্যন্তরীনভাবে দেশটিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রয়েছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জঃ
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি এডনক (ADNOC)এর বাণিজ্যিক জাহাজে গত এক সপ্তাহে তিনবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখেও জাহাজে হামলা হয়েছে। তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আকাশ সীমা ও অভ্যন্তরীণ সর্তকতাঃ
ইজরায়েল -যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে মাঝে মাঝে সাময়িকভাবে ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তন করা হচ্ছে। দেশটির ন্যাশনাল ইমারজেন্সি ক্রাইসিস এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NCEMA)যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করছে।
সাইবার নিরাপত্তাঃ
বাহ্যিক এই উত্তেজনা সত্ত্বেও সূচকে যেমন (Numbeo safety index)সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনো বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতিঃ
ইউনাইটেড আরব আমিরাত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতির বৈচিত্র করণ করার ফলে আমিরাতের অর্থনৈতিক ভিত্তি বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী।
জিডিপি প্রবৃদ্ধিঃ
অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ সালে আমিরাতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫.২% পর্যন্ত পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
নন -অয়েল বা অ – তেল খাতের উত্থানঃ
২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই দেশটির অ-অতেল রপ্তানি ছিল প্রায় ৪৫২.৮ বিলিয়ন দিরহাম।
আর্থিক স্থিতিশীলতাঃ
আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি S&P global আমিরাতের ক্রেডিট রেটিং ‘AA/A-1+Stable’ হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
Central Bank of UAE (CBUAE)১ ট্রিলিয়ন দেরহাম মূল্যের আর্থিক তারল্য প্যাকেজ দিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেছে।
ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের হালচালঃ
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য শীর্ষ গন্তব্য হিসাবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।
গ্লোবাল এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ইনডেক্সঃ
গ্লোবাল এন্ট্রা প্রেনিউর শিপ মনিটর (GEM)২০২৫-২৬ বৈশ্বিক রিপোর্টে আমিরাত টানা পঞ্চম বারের মত ব্যবসা শুরুর পরিবেশ দিক থেকে বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
নতুন ব্যবসা নিবন্ধনঃ
বিনিয়োগ বান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদী ভিসা এবং সহজ নিয়মের কারণে নতুন কোম্পানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে দেশটিতে সক্রিয় কোম্পানির সংখ্যা ১৪ লাখেরও বেশি।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (CEPA)ঃ
নতুন বাজার ধরার জন্য আমিরাত এ পর্যন্ত ভারত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, কেনিয়া,পাকিস্তান,মালেশিয়াসহ ইউরোপ ও আফ্রিকার প্রায় ৩৮ টি দেশের সাথে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের পথ সুগম করেছে।
#Reference’s:
*Start Edge Advisors
*JSB incorporation
*Facebook.USA in UAE
*Facebook. Dubai Vacation
*Emirates 24/7
*REUTERS
N.B.
Reporter,Md.Mahbubur Rahman khan
Editor & Publisher Online portal,Daily Janotardesh.