রায়পুরা প্রতিনিধি:
রায়পুরা উপজেলায় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কয়েকজন নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে—আমিরগঞ্জ ও হাটুভাঙ্গা এলাকায় মনোনয়ন প্রত্যাশী রুহেল, জামাল আহমেদ চৌধুরীসহ কয়েকজন ব্যক্তি আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ লোকদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের বিরুদ্ধে প্রচারণা ও বিক্ষোভমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেন।
মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার বকুলের বক্তব্য
এ বিষয়ে কথা হলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন—
“দল আমাকে ভালো মনে করেছে এবং আমার ওপর আস্থা রেখেছে। আমি এই আসনটি দলকে উপহার দেব। কে বা কোথায় বিক্ষোভ করেছে, সেটা তাদের ব্যাপার।”
তিনি আরও বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমর্থনই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।
রুহেলের বক্তব্য: ‘মশাল মিছিল সম্পর্কে আমি অবগত নই।
মশাল মিছিল ও বিক্ষোভকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে নরসিংদী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মনোনয়ন প্রত্যাশী রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া রুহেল বলেন—
“এই মশাল বা মেশিন সম্পর্কে আমি অবগত নই। মশাল মিছিলে আওয়ামী লীগের লোকজন ছিল—এমন কথাও শুনেছি। কে ছিল—সে সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই। রাত্রে ভিডিও দেখে নিশ্চিত হতে পারব।”
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সঠিক কিনা জানতে চাইলে রুহেল বলেন—
“প্রত্যেক উপজেলাতেই এমন হচ্ছে। আমরা বা আমাদের সমর্থকরা যা করেছি—এতে তো কেউ বাধা দেয়নি। আর এটা কোনো চূড়ান্ত মনোনয়ন নয়। চূড়ান্ত মনোনয়ন না আসা পর্যন্ত জনগণ দাবি বা আশা করতেই পারে।”
দলীয় প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা:
তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন—দল কঠিন সময় অতিক্রম করছে। আর ঠিক এই মুহূর্তে বিভাজন সৃষ্টি করে মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা স্পষ্ট শৃঙ্খলাভঙ্গ। তারা দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জেলা বি,এন,পি নেতৃবৃন্দের বক্তব্য পাওয়া যায়নি:
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের আশা—দলীয় বিভাজন দূর হলে ও সবাই এক প্ল্যাটফর্মে কাজ করলে রায়পুরা-৫ আসন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।