শিরোনাম :
ইরান থেকে ইসরায়েল পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছানোর বাঁধা সমূহ। আমেরিকা-ইসরাইলী আগ্রাসনে নিহত মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতা গণ এর তালিকা। সন্ত্রাস চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নতুন আইজিপির জিরো টলারেন্স নীতি। বিখ্যাত গিটারিস্ট কাজী অনিরুদ্ধ এবং কিছু স্মৃতিচারণ। ডিসি অফিস এলাকা থেকে ২২ মামলার আসামি ‘মাদক সম্রাট’ জসিম গ্রেপ্তার। নরসিংদীতে আলোচিত মিজান মিয়া ওরফে হৃদয় হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার। সেহরির পরপরই সং/ঘ/র্ষে জড়ালো দুই গ্রুপ, বাবা ছেলেসহ প্রাণ গেল ৪ জনের। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ক্যাপ্টেন এহতেশাম এবং তার চলচ্চিত্র জীবন। বিখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় এর অজানা তথ্য। শিক্ষা মন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের শিক্ষাগত যোগ্যতা।
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন

কিংবদন্তি সংগীত সম্রাজ্ঞী নূরজাহান এর ইতিবৃত্তান্ত

Reporter Name / ২৭৪ Time View
Update : রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বিনোদন ডেক্স থেকে মাহবুবুর রহমানখান ঃ

শুধু ভারতীয় উপমহাদেশে নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়িকা কে বলুনতো? উঁহু, যার কথা ভাবছেন তিনি নয়, বরং তিনিও তাঁকে নিজের সঙ্গীত জীবনের আইডল মানতেন। আর শুধু গান কেন বলছি, ছয় দশকের কর্মজীবনে প্লেব্যাক সিঙ্গারের পাশাপাশি নায়িকার ভূমিকাতেও অভিনয় করেছেন ডাকসাইটে সুন্দরী এই গায়িকা। শুনলে অবাক হবেন, মঞ্চে প্রথম গান গেয়ে শ্রোতাদের মাতিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের এই শহর কলকাতায়।

জন্ম ১৯২৬ সালে অবিভক্ত পাঞ্জাবের কসৌর জেলার এক গ্রামে। বাপ-মা নাম রেখেছিলেন আল্লাহ রাখি ওয়াসি। ঈশ্বর প্রদত্ত গলা, যা শুনতো সুরেলা গলায় তুলে নিতো। মাত্র ছয়বছর বয়সে পরিচালক দিওয়ান সর্দারি লালের হাত ধরে গাইতে এলো কলকাতায়। গান শুনে অভিভূত দর্শকরা। একের পর এক জলসায় গান গাইবার বায়না আসতে লাগলো। আর তখনই পিতৃদত্ত নাম মুছে গিয়ে ঐ পাঞ্জাবী তনয়ার নাম রাখা হলো প্রথমে বেবি নূর, পরবর্তী কালে নূরজাহান …সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল আলো!

১৯৩৫ সালে কলকাতার মঞ্চে সে গাইলো বিখ্যাত পরিচালক গোলাম আহমেদ চিশতির সুরে, তাতেই বাজিমাৎ। নজরে পড়ে লাহোরের এক চলচ্চিত্র নির্মাতা দলসুখ পাঞ্চোলির। তিনিই তার ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক গাইবার সুযোগ দিলেন। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সেদিনের কিশোরীকে। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৭, বোম্বাই চলচ্চিত্র জগতে তিনি ছিলেন মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী । ৪৭-এ দেশভাগ হলে প্রযোজক পরিচালক স্বামী শওকত রিজভীর হাত ধরে পাকাপাকি ভাবে নূরজাহান চলে আসেন লাহোর ফিল্ম জগতে।

ছয় দশকের কর্মজীবনে উপমহাদেশের বিভিন্ন ভাষায় তিনি দশহাজার এর উপরে গান রেকর্ড করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে উর্দু, পাঞ্জাবী, পশতু, সিন্ধী এবং ফার্সি ভাষায় ফিল্মি গান ছাড়াও গজল ও ক্ল্যাসিক্যাল গীতি। একক এবং সঙ্গীতশিল্পী আহমেদ রুশদির সাথে দ্বৈত কণ্ঠে তিনি পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রায় ২৫০০ গান গেয়ে এক রেকর্ড গড়ে তোলেন। সব মিলিয়ে তাকে সর্বকালের সেরা জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গণ্য করা হয়। যার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি পাকিস্তানের অন্যতম সম্মানসূচক মালিকা-ই-তারান্নুম বা সুরের রানী খেতাব লাভ করেছিলেন।

সঙ্গীতের জগতে সফলতা পেলেও দাম্পত্য জীবনে অবশ্য সুখের দেখা পাননি। ১৯৪২ সালে বিয়ে করেন পরিচালক শওকত হোসেন রিজভীকে। তিন সন্তানের জন্মের পর ১৯৫৩ সালে তাকে তালাক দেন। ১৯৫৯ সালে আবার বিয়ে করেন বয়সে অনেক ছোটপ্রযোজক এজাজ দুরানীকে। প্রজাপতি এবারেও সুখী হননি, তিন সন্তান জন্মের পর ১৯৭০ সালে আবারও বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

সঙ্গীত অভিনয় ও দাম্পত্য জীবনের পাশাপাশি চুটিয়ে প্রেম করেছেন সুরের এই সম্রাজ্ঞী। সুর আর সৌন্দর্যের কলায় কুপোকাত করেছেন বহু বেগানাকে। এমনই এক আশিক ছিলেন খ্যাতনামা টেস্ট ক্রিকেটার নজর মহম্মদ। ভারতের বিপক্ষে ১৯৫২ সালে ৫১৫ মিনিট ক্রিজে থেকে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম অপরাজিত সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জনের অধিকারী। শোনা যায় দুজনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ‘কাবাব মে হাড্ডি’ হয়ে হাজির হয়ে যায় প্রথম স্বামী শওকত রিজভী। পাঁচিল টপকে পালাতে গিয়ে বিচ্ছিরি ভাবে জখম হন নজর মিঞা। অকালেই শেষ হয়ে যায় তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার।

নূরজাহানের প্রেমে পাগল ছিলেন পাকিস্তানের সামরিক রাষ্ট্রপ্রধান আয়ুব খান থেকে ইয়াহিয়া খান।১৯৬৫ সালে ভারত -পাকিস্তান যুদ্ধের সময দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য আয়ুব তাঁকে সেদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘তামা-ই-ইমতিয়াজ’ এবং ‘সিতারা-ই- ইমতিয়াজ’ পুরস্কারে ভূষিত করেন। ইয়াহিয়া খানের আমলে রাষ্ট্রপতি ভবনের বহু নৈশ পার্টিতে নকাবে মুখ ঢেকে হাজির হতে দেখা গেছে নূরজাহানকে। তাঁকে নূরি বলে ডাকতেন প্রেসিডেন্ট আর তিনি ইয়াহিয়াকে ‘সরকার’ বলে সম্বোধন করতেন। ইয়াহিয়া তাঁর এডিসি আরশাদ সামিকে (ভারতে আশ্রয় নেয়া গায়ক আদনান সামির বাবা) হুকুম দিয়ে রেখেছিলেন নূরজাহানের প্রকাশিত যেকোনো গানের ক্যাসেট বা সিডি যেন প্রথম তাঁর হাতে আসে। নুরজাহানের একটি গানের বিনিময়ে ইয়াহিয়া খান পাকিস্তান বিক্রি করে দিতেও রাজি ছিলেন বলে সেসময় ওদেশের পত্রিকায় খবর বেরিয়েছিল।

অনিয়মিত জীবন, অসুখী দাম্পত্য ও সম্পর্কের টানাপোড়েনে শরীর ভাঙতে শুরু করে। অভিনয় তো আগেই ছেড়ে দিয়েছিলেন, ১৯৯৩ সালে অবসর নিতে বাধ্য হন সঙ্গীত জগত থেকেও। শেষমেশ ২০০০ সালের ২৩শে ডিসেম্বর মাত্র ৭৪ বছর বয়সে দুনিয়াকে আলবিদা জানালেন সুরের জগতের এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী সম্রাজ্ঞী। করাচিতে তাঁর জানাজায় যোগ দিয়েছিল কমবেশি পঞ্চাশ হাজার মানুষ। গত ২১শে সেপ্টেম্বর ছিল তাঁর জন্মদিন।‌
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category