প্রবাস ডেস্ক|জনতার দেশঃ বিগত ৩/৪ বছর ধরে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি গুলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে অপেক্ষা কৃত কম টাকায় রাশিয়ায় দক্ষ অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর নামে উচ্চ বেতন, উন্নত সুযোগ সুবিধার নামে চটকদারি বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছে। মানব পাচারকারীদের এই ফাঁদে পা দিয়ে অসংখ্য বাংলাদেশি তরুণের স্বপ্ন পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে।
সেখানে চাকরির নামে তাদেরকে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের ফ্রন্ট লাইনে ছেড়ে দিচ্ছে। বিগত তিন বছরে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে অসংখ্য বাংলাদেশি তরুন মিসাইল, বোমা, ড্রোন, হামলার আঘাতে নিহত হয়েছেন। যারা আঘাত নিয়ে বেঁচে ফিরেছেন তারা সারা জীবনের পঙ্গুত্ব বরণ করে হাসপাতালের বিছানায় অযত্ন অবহেলায় দিন কাটাচ্ছেন। বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো আজও জানেন না তারা আদৌ দেশে ফিরতে পারবেন কী-না।
বাংলাদেশীদের যুদ্ধের মাঠে রাশিয়া মরণ টোপ হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদেরকে ফ্রন্ট লাইনে ছেড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো সৈন্য সামন্ত্য দেখে ইউক্রেনের ড্রোনগুলো যখন তাদের উপর হামলা করতে আসে পাশাপাশি তখন রাশিয়ান সৈন্যরা সেই ড্রোন সনাক্ত করে ভূপাতিত করার চেষ্টা করে।
এটি যুদ্ধের মাঠে বাংলাদেশিদের দিয়ে রাশিয়া একটি মরণ ফাঁদ তৈরি করেছে। এতে যত কয়জন বাংলাদেশির লাশ পড়ে পড়ুক, শত্রু পক্ষের ড্রোন শনাক্ত করে সেটি ধ্বংস করাই রাশিয়ার মূল উদ্দেশ্য।
গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে ৩০ জন বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে রাশিয়া যাবার পর তাদেরকে জোর করে পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের ফ্রন্ট লাইনে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বেঁচে ফেরা বাকি ৯ জন মস্কোর বিভিন্ন হাসপাতালে অযত্নে অবহেলায় দিন কাটাচ্ছেন। কারো হাত উড়ে গেছে, কারো বা পা।তারা আদৌ সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে পারবেন কিনা সেটি তারা জানেন না। যদিও কোন ভাবে তারা সুস্থ হন বাকি জীবন তাদেরকে পঙ্গুতের বোঝা বহন করেই বাঁচতে হবে। ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিগত তিন বছরে ছয় শতাধিক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে এবং সহস্রাধিক বাংলাদেশী রাশিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরই মধ্যে কেউ কেউ পালিয়ে দেশে ফিরেছেন। হাসপাতালে শুয়ে থাকা মানুষগুলোর কারো হাত নেই কারো পা নেই, কারো বা দুচোখেই নেই এই নিদারুণ দৃশ্য বড় মর্মান্তিক।
এখনই এই অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির গুলোর বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ না নিলে দেশের আগামী প্রজন্ম এভাবেই ধ্বংস হতে থাকবে।
এটিকে অবৈধ মানব পাচার বলা-ই যুক্তি সংগত। এই বেড়াজাল থেকে মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবাসী রেমিট্যান্স একদিন শূন্যের কোঠায়।দাড়াবে এতে কোন সন্দেহ নেই।মানব পাচার কারীদের মুখোশ উন্মোচনে দৈনিক জনতার দেশ নিবিড় ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।