• বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন
Headline
বাদাঘাট বাজারে ফার্মেসির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন, ঔষধ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা! চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু! গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি পেলেন স্টেনো আবুল হাসান! কুমিল্লায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক-৩৫৩! সেতুর অভাবে, দুর্ভোগে ৩ ইউনিয়নের মানুষ” ‎নাসিরনগরে রাতের আঁধারে ২টি সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি, ভোগান্তিতে কৃষকরা! নড়াইলে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে অফিসার ও ফোর্সদের ব্রিফিং করলেন এসপি আল মামুন শিকদার! এক প্রতিশোধ পরায়ণা প্রতিবাদী নারীর মূর্ত প্রতীক রেহানে জাবারি ও ইরানের কট্টর পন্হি বিচার ব্যবস্হা! বাউফলে দুর্গাপূজার ৬৫পূজামণ্ডপে , নিরাপত্তায় থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী! পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এম এ হাশেমের দুই ছেলে সহ রাজুকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীকে  ৭ বছরের  সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত!

হুতিদের হামলা থেকে বাঁচতে এখন নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কার যুক্ত প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান!

Reporter Name
Update : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬


আন্তর্জাতিক ডেস্ক|জনতার দেশঃ
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত ও বাঙ্কার সুবিধাযুক্ত বিভিন্ন প্রাসাদের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন করছেন। তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে বিশেষ ভাবে বাছাই করা একটি প্রশিক্ষিত দল। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়ার্ল্ড ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরাইল ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ওয়াইনেট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে যুবরাজ নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছেন। রিয়াদে একের পর এক হামলায় জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাজের সর্বশেষ উপস্থিতি ছিল গত ৬ অক্টোবর  মঙ্গলবার সেদিন তিনি একটি জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রক্তদান করেন।
শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং কয়েকশো মানুষ আহত হন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনাল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়ে। নিহতদের মধ্যে ২৮ বছর বয়সী এক মিশরীয় বিমানবালা ও ছিলেন। হামলায় তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী রোববার ও হামলা অব্যাহত ছিল। বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকা অবস্থায় সেখানে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ক্ষেপনাস্ত্রের অংশ আঘাত হানে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে টার্মিনাল -৪ এ আগুন ধরে যায় এবং আরো কয়েকজন আহত হন।
ক্রমবর্ধমান হামলায় রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হচ্ছে। আর্থিক অঞ্চলে কর্মরত ব্যক্তিদের পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থী ও কূটনৈতিকদেরও ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে কিংবা আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দিন আকাশে প্রতিহত করা একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডার গার্টেন ও একটি চিকিৎসা কেন্দ্র কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও বেসামরিক স্থাপনা যে ঝুঁকিমুক্ত নয় তা স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।
‘দ্য ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নালের’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সৌদি কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুদ কমে আসার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি থাকায় রাজপ্রাসাদ ও জ্বালানি অবকাঠামোর মত কৌশলগত স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি যুবরাজ মোঃ বিন সালমানের উচ্চাভিলাসী অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচি ও চাপে পড়েছে। পর্যটন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবকে গড়ে তুলতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘নিওমের’ মতো ভবিষ্যৎ নির্ভর নগর প্রকল্প এবং রিয়াদে একাধিক বড় উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হুতিরা সৌদি আরবের ইস্ট ওয়েস্ট তেল পাইপ লাইনেও চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পাইপ লাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করতে পারে সৌদি আরব। পাশাপাশি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও হুতিদের হুমকি দেশটির অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। হুতিদের এই হামলা ঠেকাতে সৌদি আরব এখন পাকিস্তানের কাছে সামরিক সহায়তা চাইছে।
সব মিলিয়ে হুতিদের হামলা সৌদি আরবের রাজধানীর নিরাপত্তা এবং দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তর দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। রিয়াদে ক্ষেপনাস্ত্র পৌঁছানোর বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাত এবং যুবরাজের নিরাপত্তা জোরদারের ঘটনা আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
তথ্য সূত্রঃ
#ইসরাইলি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াইনেট’
#মার্কিন সংবাদ সংস্থা ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’
# বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ( বাসস)♦

ছবিঃ

# সংগৃহিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category