আন্তর্জাতিক ডেস্ক|জনতার দেশঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দেশটির দৈনিক ‘দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এর প্রযুক্তি বিভাগের এক নির্বাহীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। এই ঘটনায় সন্দেহবাজন হিসাবে ওই নির্বাহী কর্মকর্তার শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত ৪০ বছর বয়সী ‘জোনাথন ম্যাককিনসে’ পত্রিকাটির গেমস প্লেয়ার এক্সপিরিয়েন্স বিভাগের প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিজের ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা থাকা স্ত্রী ও শশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছিল।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডাব্লিং স্পোর্টস গ্রাউন্ডসের মার্কিন পার্কিং লটে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর জোনাতনের ছিয়াত্তর বছর বয়সী শশুর ‘শো ইয়ং জাং’ এবং শাশুড়ি শিলিচেন কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আদালতের নথির বরাত দিয়ে ‘দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস’বলেছে নিহত জোনাথন ও তার স্ত্রী ক্যান্ডিস জাং আলাদা বসবাস করছিলেন। গত বছর আলামেডা কাউন্টির আদালতে উভয়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ এনে সুরক্ষামূলক নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেছিলেন।
জোনাথনের করা সুরক্ষার আবেদনে বলা হয় ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার ওপর প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন চালাতেন। এমনকি পোশাক পছন্দকে কেন্দ্র করে শাশুড়ি তাকে এবং তার এক ছেলেকে সমকামী, বিকৃত মানসিকতার দানব বলে গালিগালাজ করতেন।
আবেদনে তিনি বলেন ২০১০ সালে স্তন অপসারণ অস্ত্রো প্রচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার সময় শশুর শোইয়ং জাং তার বুকে সজোরে ঘুষি মেরেছিলেন। শ্রী ক্যান্ডিস জাং এর সঙ্গেও জোনাথনের সহিংসতার রেকর্ড রয়েছে।
সুরক্ষার আবেদন পত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্যা মার্কারি নিউজ’ বলেছে ২০১০ সালে জোনাথন যখন নারী থেকে পুরুষে রূপান্তরের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তার স্ত্রী শরীর থেকে চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত টিউব গুলো জোরপূর্বক ট্রেনে খুলে ফেলার চেষ্টা করছিলেন। এই ঘটনার পর ২০১১ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
জোনাথন বলেছিলেন ২০১৩ সালেও একবার ঝগড়ার সময় স্ত্রী তাকে কড়াই দিয়ে পিটিয়েছিলেন। এছাড়া স্ত্রী তাদের সন্তানদের সঙ্গেও মৌখিক নির্যাতন চালাতেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে ২০২৫ অক্টোবরে আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে স্ত্রী ক্যান্ডিস পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বাগ বিতন্ডার সময় জোনাথন তার হাত চেপে ধরে টেবিলের কোণায় আছড়ে ফেলেছিলেন যার ফলে তার মেরুদন্ডের উপরের অংশের একটি হাড় ভেঙ্গে যায়। জোনাথন শাশুড়ির ওপরও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে দাবি করেন ক্যান্ডিস।
আদালতের নথিতে। দেখা যায় ২০২৫ সালে ক্যান্ডিস ডাবলিন পুলিশকে ফোন করে অভিযোগ করেন জোনাথন তাদের ৬ বছরের ছেলের মুখে থাপ্পড় মেরেছেন ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের দুটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয় এছাড়া ২০১৮ সালেও জোনাথন তার হাত জখম করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন ক্যান্ডিস।
নিউ ইয়র্ক পোস্ট। এর প্রতিবেদনে বলা হয় জোনাথন পরবর্তীতে আদালতে এসব অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং পেরেন্টিং ক্লাসে অংশ নেওয়ার শর্তে আদালত থেকে জামিন নেন।
তথ্যসূত্রঃ
#দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস
#দ্যা মার্কারি নিউজ (যুক্তরাষ্ট্র)
ছবি: সংগৃহিত।
ইনসেটে: জোনাথন।