আন্তর্জাতিক ডেস্ক|জনতার দেশ:
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রদান স্থগিত এর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।
“মার্কিন ডিপার্টমেন্টের” এই পদক্ষেপ কে তাদের একতিয়ার বহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন আদালত।
গত শুক্রবার ২১ আগস্ট নিউ ইয়র্কের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ম্যানহাটন আদালতের বিচারক” জিনেট ভার্গাস” তার রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা স্থগিতের নীতি স্পষ্টতই বেআইনি। কারণ, অভিবাসন আইনের পরিবর্তে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভিসা অনুমোদনের ক্ষমতার ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপকে কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
বিচারক ভার্গাস আরো জানান, নির্দিষ্ট জাতীয়তার ভিত্তিতে সরাসরি অভিবাসন ভিসা স্থগিত করা দেশের মূলবিধিবদ্ধ ব্যবস্থার একচ্ছত্র লঙ্ঘন।
এর আগে তৎকালীন ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট জো- বাইডেন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত এই বিচারকের আদালতে একটি মামলা দাযের করে ‘লিগাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’ নামক দু’টি মানবাধিকার রক্ষাকারী সংস্থা ও ভিসা আবেদনকারী এবং তাদের মার্কিন নাগরিক স্বজনরা।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে, ব্রাজিল, কলম্বিয়া,উরুগুয়ের মতো লাতিন আমেরিকার দেশ, আলবেনিয়া ও বসনিয়ার মত ভলকান অঞ্চল , বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশিয়া দেশ, এবং আফ্রিকা মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবিও অঞ্চলের বিস্তর অভিবাসন প্রত্যাশীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই দেশগুলোর নাগরিকরা মার্কিন সরকারি সহায়তার উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এমন অজুহাতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে নিরাপত্তা জোরদার এর কথা বলে দায়িত্বে নেওয়ার পর থেকেই কড়া পদক্ষেপ নিয়ে আসছেন। ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া ৩৯ টি দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ডিসেম্বরের বৈচিত্র্যময় ভিসা স্থগিত এর ধারাবাহিকতায় এই স্থগিতাদেশটি জারি করা হয়েছিল।
নাগরিক অধিকার সংগঠন গুলোর মতে এই নীতি মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি অধিকার হরণ করেছে বলে তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেন। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে আদালতের এই রায়ের বিষয়ে এখনো কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তথ্য সূত্র: