• শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
Headline
নরসিংদী রায়পুরায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু! পূর্বধলার ঘাগড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন বিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন জব্দ! নেত্রকোনা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ও সাতক্ষীরা রুটে নতুন দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু! ডিজির প্রতিনিধি ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষর স্ক্যান করে ৪০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ৪ জন কর্মচারীর নিয়োগ দেখিয়ে ব্যানবেইজ ও এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন! নরসিংদী জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান: সদর থানা এলাকায় ২২ জন গ্রেপ্তার, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার! ইউএনও’র হস্তক্ষেপে নতুন জীবন পেল কেরানীগঞ্জে উদ্ধার হওয়া নবজাতক! ১০০ দিনে ১০ লাখ লা* শ! আর সেই শ্মশান থেকে জন্ম নিলো আফ্রিকার সিঙ্গাপুর! অভিযোগের বিষয়ে গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের ব্যাখ্যা, ‘নিয়মের বাইরে কাউকে সেবা দেওয়ার সুযোগ নেই! ডিমলায় ৭৮ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি! নারায়ণগঞ্জে যুবক নিখোঁজের পর পরিবারের কাছে ফোন, ‘শিশির আমাদের কাছে!

নরসিংদীতে আলোচিত শিল্পপতি কাদির মোল্লা প্রতিষ্ঠিত এন,কে,এম হাইস্কুল এন্ড হোমস (নাসিমা কাদির মোল্লা)ইত্যবছরে ৩৮২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জনের আসল রহস্য।

Reporter Name
Update : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

ক্রাইম ডেস্ক| জনতার দেশ :
নরসিংদীর আলোচিত শিল্পপতি কাদির মোল্লার শিক্ষা বাণিজ্যের রহস্য ফাঁস হতে চলেছে। আলোচিত সমালোচিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম এন কে এম হোমস স্কুল যাহা নাসিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল নামে পরিচিত।তিনি এবং তার স্ত্রীর নামে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে।জানা গেছে বিত্তশালী পরিবারের ছেলেমেয়েরাই কাদির মোল্লা প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ পায়। তার রয়েছে বিলাসবহুল তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।যার সব কটি নরসিংদী শহরের অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ১।এন কে এম হোমস ২।কাদির মোল্লা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ৩।কাদির মোল্লা সিটি কলেজ।আজকের প্রতিবেদন বিতর্কিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এন কে এম হোমস কে নিয়ে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠানটিতে রেজিস্টার্ড বা নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো মোট ৬০১ জন। কিন্তু ঠিক দুই বছর পর ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩৮২ জন শিক্ষার্থীকে! অর্থাৎ, মাঝপথের এই দুই বছরে হিসাব থেকে নিখোঁজ বা উধাও হয়ে গেছে কচি প্রাণের ২১৯ জন শিক্ষার্থী।

প্রশ্ন উঠেছে, যে শিক্ষার্থীরা একসময় এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিলো, তারা পরীক্ষার দোরগোড়ায় এসে কোথায় হারিয়ে গেল?

অনুসন্ধানে ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, প্রতিবছর ফলাফলের নিজেদের তথাকথিত ‘ব্র্যান্ডিং’ ও শতভাগ পাসের অহংকার অক্ষুণ্ণ রাখতে এই প্রতিষ্ঠানে সুকৌশলে টেস্ট পরীক্ষাকে ব্যবহার করা হয় হাতিয়ার হিসেবে। দুর্বল বা মাঝারি মানের শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখিয়ে বা নানা অজুহাতে ফরম পূরণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়।

অভিভাবকদের বুকফাটা অভিযোগ পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বছরের পর বছর এই প্রতিষ্ঠানে রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে পড়াশোনা করার পরও, সামান্য এক বা দুই বিষয়ে কম নম্বর পাওয়ার অজুহাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় ছাড়পত্র (টিসি)। অথচ পরবর্তীতে অন্য সাধারণ স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়ে ঠিকই জিপিএ-৫ কিংবা গোল্ডেন জিপিএ অর্জন করেছে সেই শিক্ষার্থীরাই এমন তথ্য ভুরিভুরি। এর মানে পরিষ্কার। মেধাবী বা সাধারণ শিক্ষার্থীরা অমেধাবী ছিলো না, সমস্যা ছিলো শুধু নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলের ওই কৃত্রিম ‘বাছাই বা ফিল্টারিং’ নীতিতে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, যেমন নরসিংদী সানবীন স্কুলের মতো জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানকার বিতাড়িত বা বাদ দেওয়া অর্ধশত শিক্ষার্থীকে সাদরে আশ্রয় দিয়ে তারা জিপিএ-৫ পাইয়ে দিয়েছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে, নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলের শিক্ষকরা কি তবে পাঠদান করতে ব্যর্থ, নাকি তারা কেবল তৈরি পোশাকেই ফুল পড়াতে অভ্যস্ত?

এত বড় একটা অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলার পরও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন সব অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে দায়সারা বক্তব্য দিয়েছেন। বোর্ড বা সরকারি নিয়মের দোহাই দিয়ে তারা দাবি করছেন, ৩৩ শতাংশ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদেরই ফরম পূরণ করানো হয়েছে। কিন্তু ঝরে পড়া ওই ২১৯ জনের জীবন নিয়ে তাদের কোনো সদুত্তর বা মাথাব্যথা নেই।

অভিযোগ রয়েছে,এনকেএম হোমস বা নাসিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল এবং কাদির মোল্লা সিটি কলেজ ঢাকা বিভাগেন সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবার নিগুঢ় রহস্য কি? ঢাকা গভ.ম্যান্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল,মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজ,ধানমন্ডি গভ.ম্যান্ট বয়েজ হাইস্কুল
ঢাকা কলেজ,নটরডেম কলেজ,ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ,ইডেন কলেজ,বদরুন্নেসা গার্লস কলেজ রাজউক স্কুল এণ্ড কলেজ,সরকারি তিতুমীর কলেজ কবি নজরুল কলেজ সব গুলোকে টপকে বরাবরই দেশ সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবির্ভূত হচ্ছে।কাদির মোল্লা সিটি কলেজ কয়েক বার দেশ সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
সারাদেশে এখন একটাই প্রশ্ন এই মেধাবী শিক্ষক গুলো কি ভিনগ্রহ থেকে এসেছে?তার প্রতিষ্টান ছাড়া বাংলাদেশে কি এমন মেধাব শিক্ষক আর কোথাও নেই?
এখন আসা যাক, এন কে এম হোমসের ৩৮২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর জিপিএ -৫ প্রাপ্তি নিয়ে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, টেস্ট পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কোনো শিক্ষার্থীর দুর্বলতা চিহ্নিত করে তাকে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য আরও বেশি প্রস্তুত ও দক্ষ করে তোলা। কিন্তু সেই সুযোগকে যদি একটি বাণিজ্যিক প্রোপাগান্ডা বা শিক্ষার্থীদের ঘাড় থেকে নামিয়ে দেওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে তা শিক্ষাব্যবস্থার চরম পতন ছাড়া আর কিছু নয়।

শতভাগ পাসের মোড়কে আড়াল করা এই নিষ্ঠুর বৈষম্য ও শিক্ষার্থী ছাঁটাইয়ের সংস্কৃতি কি থামবে না? একটি নামসর্বস্ব ফলাফলের অহংকার ধরে রাখতে কেনো বলিদান দেওয়া হবে শত শত শিক্ষার্থীর মেধা ও মানসিক বল?

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও সচেতন অভিভাবকরা এখন একটাই দাবি তুলেছেন, অনতিবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এই ২১৯ জন শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার আসল রহস্য উদঘাটন করা হোক। শতভাগ পাসের এই ভুয়া ও নিষ্ঠুর কৃত্রিম অহংকার ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার সময় এখনই।

বি.দ্র.
কাদির মোল্লার শিক্ষা বাণিজ্যের দুর্নীতি নিয়ে “দৈনিক জনতার দেশ” এর অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category