এইচ,কবির টিটু:
বাহারুল আলম ১৯৬০ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলা) তারাইল উপজেলার ঐতিহাসিক কাজলা মুন্সিবাড়ি এস্টেটে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
যিনি বাংলাদেশ পুলিশের ৩১তম মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সততা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
শৈশবে তিনি ময়মনসিংহ শহরের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত মরিয়ম স্কুলে পড়াশোনা করেন।
১৯৬৯ সালে তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে ভর্তি হন এবং এই প্রতিষ্ঠানের ৭৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
১৯৭৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সকল বিভাগের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
এরপর তিনি ঢাকার রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৭৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।
পরবর্তীতে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৮৪ সালে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেন।
ডাক্তারি পেশায় না গিয়ে তিনি প্রশাসনিক ক্যারিয়ার বেছে নেন।
১৯৮৪ সালের বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগদান করেন।
১৯৮৬–৮৭ সালে সাভারের বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
বাহারুল আলম দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন—
রংপুর বিভাগের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জেএমবি বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন
২০০৭ সালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন
২০০৭–২০০৮ সালে স্পেশাল ব্রাঞ্চ-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন
পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন
তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন—
২০০৯–২০১৩: নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পুলিশ সংযোগ কর্মকর্তা
২০১৫: আফগানিস্তানে সিনিয়র পুলিশ উপদেষ্টা
এছাড়াও ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, কসোভো ও সিয়েরা লিওনে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনের পর তিনি ২০২০ সালে বাংলাদেশ পুলিশ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
অবসর গ্রহণের পর তিনি আইসিডিডিআর,বি-তে হাসপাতালের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে ২০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশের ৩১তম মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দুই বছরের চুক্তিতে নিয়োগ প্রদান করে।
তিনি ১৯৯২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দুই কন্যার জনক।
বি.দ্র.
প্রতিবেদক,এইচ কবির টিটু পেশায় এক শিক্ষক, ইতিহাস গবেষক ও সুলেখক।তিনি অনেক অজানা তথ্য তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে পাঠক সমাজে তুলে ধরেন।
ছবি: এইচ কবির টিটু।