পাঁপড়ি রাউত:
দস্যু রাণী ফুলন দেবী ডাকাত সর্দার থেকে হয়েছিলেন ভারতের এমপি। ফুলন দেবীকে একবার ইন্টারভিউয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো,আরেকবার জন্ম নিলে কি হতে চান?উত্তরে তিনি বলেন আর যাই হোক নারী হয়ে জন্মাতে চাই না।
ফুলন দেবী জন্মেছিলেন এক দলিত পরিবারে।অল্প বয়সে তাকে বিয়ে দেয়া হয়।মদ্যপ স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির অত্যাচার নীরবে না সয়ে প্রতিবাদ করে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।বরাবরই ছিলেন প্রতিবাদী নারী।নিজের বাবার সম্পত্তি বাঁচাতে ঠাকুরদের সাথে বিবাদে জড়ান।এক পর্যায়ে ঠাকুরদের একদল তাকে উঠিয়ে নিয়ে ২৩ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে।
ছাড়া পেয়ে তিনি মুখ লুকান নি।পালিয়ে যান নি।ডাকাত দলে যোগ দেন।সেখানকার এক স্নেহভাজন তাকে ট্রেনিং দেন।নির্যাতিত হওয়ার দেড় বছর পর শ্রীরাম, লালা সহ বাকীদের খোঁজ পান।এবং ১৯৮১ সালে এক বিয়ে বাড়িতে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে তার ধর্ষকদের গুলি করে তিনি মেরে ফেলেন।
ডাকাতি পাশাপাশি সমাজসেবা করতেন।ডাকাতির মালামাল গরীবদের দিয়ে দিতেন ফুলন।ধীরে ধীরে ফুলন দেবী পুলিশের কাছে এক আতঙ্কের নাম হয়।তাকে কোন ভাবেই ধরতে না পেরে আলোচনায় আসেন পুলিশবাহিনী।
আত্মসমর্পণে ফুলন শর্ত দেন তাদের দলের কাউকে ফাঁসি দেয়া যাবে না।কম সাজা দিতে হবে,তার ভাইয়ের চাকরী এবং মা বাবাকে ভালো জীবন নিশ্চিত করতে হবে।মোটামুটি শর্ত মানার পর ফুলন দেবী আত্মসমর্পণ করেন।
১১ বছর জেল খেটে বের হন।এরপর ১৯৯৬ সালে সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেন।দুবার পরপর এমপি নির্বাচিত হন।মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত ছিলেন সংসদ সদস্য।
তাকে নিয়ে অনেক বই এবং সিনেমা আছে।সবচেয়ে জনপ্রিয় শেখর কাপুর পরিচালিত দা ব্যান্ডিট কুইন।সমাজের কারো চোখে ফুলন ভালো,কারো চোখে অপরাধী। তবে ইতিহাসের পাতায় লড়াকু এবং সাহসী নারী হিসেবে ফুলন দেবী আজীবন রয়ে যাবেন।
তথ্যসূত্র:
পাঁপড়ি রাউতের আইডি থেকে কপি পেস্ট।