• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন
Headline
তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত ছাড়া কোনো সাংবাদিককে গ্রেফতার করা যাবেনা; বিএমএসএফ! সাজেকে দফায় দফায় গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ৯ বছরের শিশু সঞ্জিতাঃ সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রতিবাদ! বাবার ফাইভ স্টার হোটেল ফেলে আজ আমেরিকায় পলাতক!—চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের বিতর্কিত এমপি মাহবুব রুহেল এর দুর্নীতি লুটপাটের গোমর ফাঁস! ফুলবাড়ী (২৯) বিজিবি ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত! সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে ১৩ জেলেসহ ফিশিং বোট উদ্ধার! রাজধানী ঢাকার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চিত্র! ইরাকের মরুভূমিতে একটি জমকালো বিয়েতে ১৪০০ ভেড়া ও ছাগল এবং ২৭০টি উট জবাই! মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত ৩৩! মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্ত রাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে চলে যেতে বাধ্য করা হবে — ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা মোজতবা আলী খামেনির হুশিয়ারি! বিদেশে সংসদ সদস্যদের সফর ঘিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত!

দক্ষিণ আফ্রিকায় এসাইলামের নামে প্রতারণার মহোৎসব: দিশেহারা প্রবাসী।

Reporter Name
Update : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রিটোরিয়া
​দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালতের একটি পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এক ধরনের চরম বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আদালতের আইনি পর্যবেক্ষণের সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র ‘এসাইলাম’ বা রাজনৈতিক আশ্রয় পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার রেন্ড হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রশাসনিক জটিলতার মুখে থাকা অসহায় প্রবাসীরা এই চক্রের খপ্পরে পড়ে একদিকে যেমন আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে আইনি ঝুঁকিতে ফেলছেন নিজেদের ভবিষ্যৎ।
​বিভ্রান্তির গোলকধাঁধা ও প্রশাসনিক বাস্তবতা
​সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত হোম অ্যাফেয়ার্সের আশ্রয় সংক্রান্ত একটি ধারার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ প্রদান করে। আদালতের এই নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি দাবি করছে, এখন বর্ডার রিপোর্ট ছাড়াই এসাইলাম আবেদন করা সম্ভব। তাদের এই বিভ্রান্তিকর প্রচারে প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই বড় অঙ্কের অর্থ দালালদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
​তবে প্রশাসনিক দপ্তরের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের রায় এবং দাপ্তরিক কার্যপদ্ধতি এক নয়। সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছাড়া আদালতের কোনো পর্যবেক্ষণের বাস্তবায়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয় না। বর্তমানে প্রিটোরিয়ার মারাবাস্টাড হোম অফিসসহ অন্যান্য দপ্তরে এসাইলাম আবেদন গ্রহণের কোনো আইনি প্রক্রিয়া চালু নেই। সরকার বরং অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর নীতি অবলম্বন করছে।
​দালাল চক্রের কৌশলী ফাঁদ
​অভিযোগ রয়েছে, হোম অফিসের কিছু অসাধু ইন্টারপ্রেটার ও দালাল চক্র মিলে প্রবাসীদের মধ্যে মিথ্যা আশা জাগিয়ে তুলছে। তারা নিজেদের আইনি প্রক্রিয়ার অংশীদার হিসেবে দাবি করে প্রবাসীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রাপ্তি ছাড়াই দালালদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছেন।
​প্রবাসীদের প্রতি সতর্কবার্তা
​এই পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম ও দায়িত্বশীল মহল থেকে প্রবাসীদের জন্য জরুরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
১. সতর্কতা: কোনো ব্যক্তি বা এজেন্টের প্রলোভনে পড়ে কোনো ধরনের অগ্রিম অর্থ লেনদেন করবেন না। কাজের স্বচ্ছতা যাচাই না করে আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
২. আইনি সুরক্ষায় সোচ্চার হওয়া: প্রতারিত হলে চুপ করে না থেকে যথাযথ প্রমাণসহ আইনের আশ্রয় নিন। স্থানীয় থানায় মামলা বা অভিযোগ দায়ের করলে গণমাধ্যম জনস্বার্থে বিষয়টি নিয়ে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবে।
৩. তথ্য যাচাই: যেকোনো গুজবে কান না দিয়ে সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য আইনি পরামর্শদাতার শরণাপন্ন হোন।
​গণমাধ্যমের অবস্থান
​সাংবাদিক সমাজ সবসময় প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও অধিকারের পক্ষে সোচ্চার। তবে প্রতারণার শিকার হওয়ার পর আইনি লড়াইয়ে ভুক্তভোগীদের অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তিগত সতর্কতা ও আইনি লড়াই—এই দুইয়ের সমন্বয়েই কেবল দালাল চক্রের দাপট রুখে দেওয়া সম্ভব।
​প্রবাসে নিজের মর্যাদা রক্ষা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থে আবেগ বর্জন করে বিচক্ষণ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category