নিজস্ব প্রতিবেদক, জোহানেসবার্গ | ১৮ জুলাই, ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের প্রিমরোজ (জার্মিস্টন) এলাকায় মো. শামীম নামক এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় জড়িত এক সহযোগী আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত ১৭ মে, ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই নৃশংস হামলায় শামীমকে লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী শামীম জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নৃশংস হামলার বিবরণ:
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এক বাংলাদেশি নাগরিকের পরিকল্পনায় স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের ভাড়া করা হয়। হামলায় শামীমের শরীরে বুক, পেট, হাত ও উরুতে মোট ৬ রাউন্ড গুলি করা হয়। গুলির আঘাতে অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয় এক পাকিস্তানি নাগরিক ও তার দোকানের কর্মচারীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শরীরে থাকা বেশ কয়েকটি বুলেট বের করা সম্ভব হলেও, এখনো শামীমের শরীরে দুটি বুলেট রয়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
আইনি প্রক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি :
মামলার প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার পরপরই পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ ছিল। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তঃদেশীয় আইনি সহায়তা এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় আজ ১৮ জুলাই শনিবার, মামলার প্রধান সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
হাই-প্রোফাইল পরিদর্শন ও সংহতি:
ঘটনার পরপরই দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শাফি এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি ও দূতাবাসের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে শামীমকে দেখতে যান এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
এছাড়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে নিয়োজিত অন্যতম সংগঠন ‘মুক্ত বাংলা ফাউন্ডেশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন’-এর নেতৃবৃন্দ শুরু থেকেই ভুক্তভোগীর পাশে রয়েছেন। সংগঠনের সভাপতি জনাব শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জনাব সাফিউল্লাহ সামী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মিজান বেপারীর নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন বাংলাদেশী নিয়মিত শামীমের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব রয়েছেন।
দূতাবাস এবং প্রবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের প্রচেষ্টার সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।