সরোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী :
মহান মুক্তিযুদ্ধের ২৬ সেপ্টেম্বর ৭ নাম্বার সেক্টর কমান্ডার মেজর নাজমুল হক ভারতে এক সড়ক দুর্ঘটনা মারা যাওয়ার পর লেঃ কর্ণেল কাজী নুরুজ্জামানকে এই সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হলেও মহাম মুক্তিযুদ্ধের প্রধান কৃতিত্ব গণমানুষের, গণযোদ্ধাদের সঠিক মূল্যায়ন ও মুক্তিযোদ্ধাদের, সাধারণ অবং সকল অজ্ঞাত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার যথাযথ স্বীকৃতির আক্ষেপে, এই যুক্তিতে আজীবন অটল থেকে কাজী নুরুজ্জামান বীর উত্তম উপাধি গ্রহণ করেননি, কোথাও এই উপাধি তিনি ব্যবহারও করেননি।
মুক্তিযুদ্ধে বীর উত্তম উপাধি গ্রহণ না করার পিছনে অন্যতম একটি ঘটনার বর্ণনা স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছিলেন কাজী নুরুজ্জামান। আত্মস্মৃতিতে তিনি লিখেছিলেন, হঠাৎ দেখি এক জীর্ণ বৃদ্ধা মাথায় ঝুড়ি চাপিয়ে আমার দিকে আসছে। ছেলেদের খোঁজ নিতে বললাম। বললাম- দেখো তো কী বয়ে নিয়ে এসেছে? মিনিট দুয়েক পর আমি নিজে ওই বৃদ্ধার নিকট চলে এসে তাঁর সরঞ্জাম দেখে বিস্মিত ও ভীত হয়ে পড়ি। চিৎকার করে ঝুড়িটি তৎক্ষণাৎ বহুদূরে নির্জন জায়গায় সতর্কভাবে রেখে আসতে সহকর্মীদের নির্দেশ দিলাম। ঝুড়িতে ছিলো প্লাস্টিকের ‘অ্যান্টি-পার্সোনাল মাইন।’ বৃদ্ধাকে প্রশ্ন করে জানতে পারলাম, পৃথিবীতে তাঁর কেউ নেই ও ভিক্ষা করে খায়। একটি তালগাছের পাশে ঝুপড়ি করে সে থাকে। আমাদের মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা যে পথ দিয়ে দলদলিয়া নামক একটি ছোট্ট গ্রামের পাশ দিয়ে বোয়ালিয়া যাবার চেষ্টা করতো, সেখানে পাকিস্তানী বাহিনী কোনো এক রাতে, কিছু যেনো পুঁতে রাখতে দেখে বৃদ্ধার সন্দেহ জাগে, আমাদের ছেলেদের কিছু বিপদ হতে পারে। তাই সে তাঁর ঝুপড়ি থেকে স্থানটি দেখতে গিয়ে এ মাইনগুলো কুড়িয়ে পায়। এ কি সৌভাগ্য আমাদের এবং বৃদ্ধারও। সে নিজেও এগুলোর ওপর চাপ দেয়নি। দুর্ঘটনা ছিলো অবশ্যম্ভাবী। আমি অত্যন্ত অভিভূত হয়ে পড়ি। এই মলিন জীর্ণ বৃদ্ধা ঝুপড়িতে থেকে কী করে বুঝলো দেশে যুদ্ধ চলছে। কেমন করে জানলো আমাদের ছেলেরাই মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের বিরুদ্ধে বিঘ্ন ঘটাবার ছেলেরা শত্রুপক্ষ। আমাদের ছেলেদের প্রতি তাঁর দরদী অন্তরের সমবেদনা থেকে বৃদ্ধা আমাদের ছেলেদের পথের কাঁটা সরাতে চেয়েছিলেন। আমি মনে মনে তাঁকে হাজার সালাম জানিয়েছিলাম। ব্রিটেনে কোনো সিভিলিয়ান যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ কোনো অবদান রাখলে তাকে জর্জ ক্রস দেওয়া হয়। সজ্ঞানে না হলেও এই বৃদ্ধা তাঁর মনে দেশ ও মুক্তিযোগ্ধাদের প্রতি ভালোবাসার জন্য স্বেচ্ছায় ও স্বপ্রণোদিতভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহান দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এখন হয়তো অনেকেই বুঝবেন কী কারণে। আমি যুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য ‘বীর উত্তম’ পুরস্কার গ্রহণ করতে পারি না। এই ঝুপড়ির বৃদ্ধার মতো আরও অনেক সিভিলিয়ানের বীরত্বের প্রত্যক্ষদর্শী আমি।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ধানমন্ডি ১৩/এ বাসায় ছিলেন কাজী নুরুজ্জামান। সে রাতে পিলখানায় চালানো পাকিস্তানী বাহিনীর নারকীয় তাণ্ডবলীলা, নারীদের আর্তনাথ এবং পরদিন সকালে ঢাকায় নিজ চোখে দেখা দৃশ্যের পর সপরিবারে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কাজী নুরুজ্জামান।
২৬ মার্চ দুপুরে মধ্যাহ্নভোজনের সময় কাজী নুরুজ্জামানকে তার ২ মেয়ে নায়লা ও লুবনা বলে, কোথাও থেকে যেনো স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত কিছু দেওয়া হচ্ছে। কাজী নুরুজ্জামান খাবার শেষে ঘোষণা শুনলেন। যা ছিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ। কাজী নুরুজ্জামান বুঝতে পারলেন দেশজুড়ে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।
প্রথমে তিনি তাঁর পরিবারকে করটিয়ায় পাঠিয়ে দিলেন। অতঃপর ২৮ মার্চ দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার কে এম শফিউল্লাহর সঙ্গে দেখা করতে জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইল যান। কিন্তু টাঙ্গাইলে পৌঁছার পর তিনি জানতে পারেন, ততোক্ষণে কে এম শফিউল্লাহ ময়মনসিংহে পৌঁছে গেছেন। পরে ময়মনসিংহ পৌঁছে মেজর কে এম শফিউল্লাহর সঙ্গে দেখা করেন লেঃ কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান। এসময় কে এম শফিউল্লাহ ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব নিতে কাজী নুরুজ্জামানকে অনুরোধ করেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়ার ঐতিহাসিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাজী নুরুজ্জামান। মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। এই সভায় বিদ্রোহী বাহিনীগুলোকে একটি কমান্ড চ্যানেলে এনে সমন্বিতভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই সভায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কাজী নুরুজ্জামান। এই সিদ্ধান্তের আলোকে প্রথমে কাজী নুরুজ্জামান দায়িত্ব পান মুক্তিবাহিনীর কেন্দ্রীয় দপ্তরে। এসময় মুক্তিবাহিনীর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তিনি নানা ভূমিকা পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের মে মাসে লেঃ কর্নেল কাজী নুরুজ্জামানকে সভাপতি করে একটি পর্ষদ গঠন করা হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ওয়্যার ব্যাচ বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম ব্যাচ ক্যাডেট নির্বাচনের জন্য কমিটিও গঠন করা হয়। তারাই প্রথম ওয়্যার ব্যাচের অফিসারদের নির্বাচন করেছিলেন। কাজী নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৭ নম্বর সেক্টরে মোট ৮টি সাব সেক্টর গড়ে তোলা হয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধে ৭ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন এলাকা ছিল সমগ্র উত্তরবঙ্গের একাংশ বা দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, বগুড়া, রাজশাহী ও পাবনা অঞ্চল।
মুক্তিযুদ্ধের অক্টোবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর ৭ নম্বর সেক্টরের বিখ্যাত সব যুদ্ধে কখনো নির্দেশনা, কখনো নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কাজী নুরুজ্জামান। এরমধ্যে ১৪ অক্টোবরের শেখপাড়া সাব-সেক্টরের দুর্গাহরি থানার গলহরির যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। কাজী নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে এই যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর ২ অফিসারসহ ৭৩ জন সৈন্য নিহত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের ৬ নভেম্বর কাজী নুরুজ্জামান ভোলাহাট সাব সেক্টরের লেঃ রফিককে পাকিস্তানী বাহিনীর মকরমপুর আলীনগর ক্যাম্পে আক্রমণের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তিনি নিজেই অপারেশনের নকশা করেন। ৭ নভেম্বর লেঃ রফিকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী বাহিনীর ওপর দুর্ধর্ষ আক্রমণ চালায়। এসময় পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললে একপর্যায়ে টিকতে না পেরে মহানন্দা নদী পেরিয়ে পালিয়ে যায়। এই যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর মাত্র ৫ সৈন্য নিহত হলেও, ভোলাহাট থেকে রহনপুর পর্যন্ত ১০০ মাইল এলাকা মুক্ত হয়ে যায়।
মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ায় ডিনামাইট লাগিয়ে পাকিস্তানী বাহিনীর সৈন্য বহনকারী ট্রেন বিস্ফোরণের ঘটনা এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এটি ছিলো পাকিস্তানী বাহিনীর ওপর চরম এক আঘাত। ১৩ নভেম্বর লেঃ কর্নেল কাজী নুরুজ্জামানের নির্দেশে বগুড়ার সুখানপুকুর স্টেশনের কাছেই শিহিপুরে ডিনামাইট লাগিয়ে পাকিস্তানী সৈন্যবাহী একটি স্পেশাল ট্রেন বিধ্বস্ত করেন মুক্তিযোদ্ধারা। এসময় ট্রেনে থাকা পাকিস্তানী বাহিনীর ১৫০ সৈন্য নিহত হয়।
১৬ নভেম্বর কাজী নুরুজ্জামান ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে নির্দেশ দেন আলমপুর আম্রকাননে পাকিস্তানী বাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণ করার জন্য। এই যুদ্ধে লেঃ রফিক এবং লেঃ কাইউমের নেতৃত্বে দুই কোম্পানি মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে আলমপুর দখলে নেয়।
মুক্তিযুদ্ধের ১৩ এবং ১৪ নভেম্বর কর্নেল কাজী নুরুজ্জামানের নির্দেশেই হামজাপুর সাব-সেক্টরে ঘনেপুর বিওপির যুদ্ধ হয়েছিলো। এই যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর ৩০ জন সৈন্য নিহত হয়।
২৮ নভেম্বর শাহপুর গড়ের যুদ্ধে কাজী নুরুজ্জামান নিজেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। শাহপুর গড়ে পাকিস্তানী বাহিনীর এক ব্যাটেলিয়ন সৈন্য ছিলো। সারারাতব্যাপী চলা এই যুদ্ধে কাজী নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা শাহপুর গড়ের দখল নিতে না পারলেও পাকিস্তানী বাহিনীর ওপর ব্যাপক আঘাত হানে, যার ফলে বিজয়ের পথ সুগম হয়েছিলো।
মুক্তিযুদ্ধে লেঃ কর্নেল কাজী নুরুজ্জামানের স্ত্রী ডা. সুলতানা জামান নিজেও অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। ডা. সুলতানা জামান সম্পূর্ণ নিজ প্রচেষ্টায় ৭ নম্বর সেক্টরের মাহদিপুর সাব-সেক্টরে একটি হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন।
কাজী নুরুজ্জামানের জন্ম ১৯২৫ সালের ২৪ মার্চ পশিচমবঙ্গের নদিয়ার চাটদহ গ্রামে। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার সূচনা হয়েছিল কলকাতায়। তিনি ১৯৩৯ সালে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪১ সালে আইএসসি পাস করেন। একই কলেজে ১৯৪৩ সালে কেমিস্ট্রিতে অনার্স ক্লাসে অধ্যয়নকালে কাজী নূরুজ্জামান রয়্যাল ইন্ডিয়ান নেভীতে যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি বার্মা এবং সুমাত্রায় মিত্রশক্তির পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে জহরলাল নেহেরুর আহ্বানে অনেকের মতো তিনিও নৌবাহিনী থেকে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চলে আসেন। এরপর দেরাদুনে রয়্যাল ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশন লাভ করেন। দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে চলে এসে কাজী নুরুজ্জামান পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪৯ সালে ইংল্যান্ডে আর্টিলারি কোর্স সমাপ্ত করে আসার পর পাকিস্তানের নওশেরায় আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। ১৯৫৬ সালে মেজর পদে পদোন্নতি পান। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান দেশে সামরিক আইন জারি করলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাদানুবাদে লিপ্ত হলে তাঁকে ১৯৬২ সালে প্রেষণে ইস্ট পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনে (ইপিআইডিসি) পাঠানো হয়। একই বছর লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পান। পরবর্তীতে পাকিস্তানি আমলাদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর নেন।
সামরিক জীবনের বাইরে মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব থেকে কাজী নুরুজ্জামান ছিলেন সব গণ-আন্দোলনের প্রথম সারির সৈনিক। ১৯৬২ সালে বাংলাদেশের প্রগতিশীল লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তিনি ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় আবার সেনাবাহিনীতে ফিরে যান। পরবর্তীতে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন।
১৯২৫ সালের ২৪ মার্চ যশোরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা খান সাহেব কাজী সদরুল ওলা এবং মাতা রতুবুন্নেসা। কাজী নূরুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ক ও আহবায়ক হিসেবে গঠন করেন ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক কমিটি। তিনি স্বদেশ চিন্তা সংঘ, লেখক শিবির ও গণসংস্কৃতি ফ্রন্টের সদস্য ছিলেন। স্বাধীনতা লাভের পরপরই কাজী নূরুজ্জামান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। আশির দশকে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি ছিলেন। তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। তাঁর এই দাবি আদায়ের আন্দোলনের কারণে তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ তাঁকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি রাখেন। ১৯৮৫ সালে গঠিত মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কাজী নূরুজ্জামান। ২০০৭ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম গঠনে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিলো।
কাজী নূরুজ্জামান সাম্রাজ্যবাদ, আগ্রাসন ও প্রতিক্রিয়াশীলতা বিরোধী সকল আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন।
তিনি পার্বত্য চট্রগ্রামের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তাদের সপক্ষে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির সমালোচনা করে তিনি বক্তব্য দেন।
কাজী নূরুজ্জামান আগ্রাসন, সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখেছেন। তিনি সাপ্তাহিক নয়া পদধ্বনি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায় গ্রন্থের অন্যতম সম্পাদক ছিলেন কাজী নূরুজ্জামান। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছেঃ
‘একাত্তর ও মুক্তিযুদ্ধ: একজন সেক্টর কমান্ডারের স্মৃতিকথা’,
‘মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি’,
বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’,
‘স্বদেশ চিন্তা’।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন তাঁর নামে ঢাকার পান্থপথে একটি সড়কের নামকরণ করেছে বীর উত্তম কাজী নূরুজ্জামান সড়ক।
২০১১ সালের ৬ মে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে লক্ষ লক্ষ ভক্ত অনুসারীদের কাঁদিয়ে ৮৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তথ্য:
#সরোয়ার চৌধুরীর লিখা থেকে সংগৃহিত। যিনি একজন ইতিহাস গবেষক ও লেখক।