• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
Headline
রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স! সাইবার হামলার কবলে এবার বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স! বিশ্বখ্যাত ফুটবলার এমবাপ্পে ও তার স্বপ্নের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং লা লীগাকে যেভাবে বিপদে ফেলে দিল একটি ভাইরাল মিম ট্রেন্ড! ১০০০গোলের স্বপ্ন পূরণে যে বার্তা দিলেন রোনালদো” সদ্য খু**ন হওয়া বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির বন্ধু দীপ এর প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ড! ৩৭ দিনে কুমিল্লায় আটক ৫২৪৬, এক রাতেই ৩৫১! যৌবনের শেষ প্রান্তে বার্ধক্য কে মেনে নিতে পারেনি সুচিত্রা সেন! শীতকালীন শাক-সব্জিতে বাজার ভরপুর,মূল্য কমছেনা বিন্দু পরিমাণ! চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা! ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মেজর নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপর চালানো বর্বরতাকে সহ্য করতে না পেরে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে নিজ দেশ পোল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছেন!

বিশ্বখ্যাত ফুটবলার এমবাপ্পে ও তার স্বপ্নের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং লা লীগাকে যেভাবে বিপদে ফেলে দিল একটি ভাইরাল মিম ট্রেন্ড!

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

ক্রীড়া ডেস্ক|জনতার দেশঃ

একটি ভাইরাল মিম নিয়ে ছোট্ট এক মন্তব্য কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বড় বিপদে ফেলেছে। সেই ঝড়ের মাঝে পড়েছে তার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও স্পেনের লা লিগাও। একটি ছোট ভিডিওতে এমবাপ্পে পরোক্ষভাবে চীনের সাবেক নেতা মাও সেতুংকে ‘স্বৈরশাসক’ বলেছেন। এতে চীনে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
চীনের এই রোষ কমাতে স্পেনে এখন তৎপর হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান আসেনি। তবে এই ঝড় সহজে থামবে বলে মনে হচ্ছে না আপাতত। স্প্যানিশ ফুটবলের ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
মিমের শক্তি
অনেক দিন ধরে অনলাইনে একটি রসিকতা চলছে। এমবাপ্পের হাবভাব নাকি স্বৈরশাসকের মতো। তাই মাও ও জোসেফ স্তালিনের মতো ব্যক্তিদের ছবিতে তার মুখ বসানো হয়। সামরিক পোশাকে তার এআই-ছবি আর ভিডিও গত কয়েক কয়েক বছর ধরে ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
গোলরক্ষক তিবো কোর্তোয়া সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, রিয়ালের ড্রেসিংরুমে এসব মিম নিয়ে হাসাহাসি হয়। বিশ্বকাপের সময় জানা যায়, ফ্রান্স দলের সতীর্থরা তাকে ‘মোবুত’ বলে ডাকেন। এই নাম এসেছে ডিআর কঙ্গোর সাবেক স্বৈরশাসক মোবুতু সেসে সেকোর নাম থেকে। এমবাপ্পে নিজেও ব্যাপারটিকে মজা হিসেবেই নিয়েছেন।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ফরাসি পডকাস্ট ‘দ্য ব্রিজ’-এ যাওয়ার আগে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, নিজের কোন মিমটি তার সবচেয়ে মজার লাগে। উত্তরে এমবাপ্পে বলেন, ‘যখন তারা একজনের একটা ভিডিও বানিয়েছিল, আমার মনে হয় সে একজন চীনা স্বৈরশাসক ছিল, ওরা আমার…’। এরপর তিনি নিজের মুখের দিকে ইশারা করেন। পর্দায় তখন মাওয়ের শরীরে এমবাপ্পের মুখ বসানো একটি ছবি ভেসে ওঠে। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমি এটা বন্ধুদের সঙ্গে অনেক ব্যবহার করি।’
২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে মাওয়ের নামও বলেননি। তবু ইঙ্গিতেই চীনে প্রতিক্রিয়া এসেছে দ্রুত ও কঠোরভাবে।
কঠোর প্রতিক্রিয়া
ভিডিওটি আবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কড়া জবাব আসে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘চীনের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কথা ও কাজকে চীনা সমাজের সব মহল স্বাভাবিকভাবেই একযোগে প্রত্যাখ্যান করবে।’
চীনের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (সিএফএ) ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদদের বিশেষভাবে নৈতিক মান কঠোরভাবে মেনে চলা, যুক্তিসংগতভাবে কথা বলা এবং নিজেদের জনপ্রভাবকে মূল্য দেওয়া উচিত।’
এরপর দ্রুত তিনটি চীনা স্পনসর এমবাপ্পেকে বাদ দেয়। তারা হলো দুগ্ধ প্রস্তুতকারক মেংনিউ, পানীয় কোম্পানি দংপেং ও পনির প্রস্তুতকারক মিল্কগ্রাউন্ড। গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে দংপেংয়ের বিজ্ঞাপনে এমবাপ্পেকে বড় করে দেখানো হয়েছিল। মেংনিউ ও দংপেং প্রায় একই ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে। তারা বলেছে, চীনের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কথা বা কাজের তারা ‘দৃঢ় বিরোধিতা’ করে এবং এ ক্ষেত্রে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’।
সাংহাইয়ের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য পেপার’ জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল সিসিটিভি এমবাপ্পের খেলা সম্প্রচার বন্ধ করেছে। অনলাইনে তাকে নিয়ে বিজ্ঞাপন বা ভিডিওও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই গ্রীষ্মেই লা লিগা চীনের রাষ্ট্রীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম মিগুর সঙ্গে চুক্তি করেছে। সেই মিগু রোববার রিয়ালের ম্যাচ দেখাবে না।
অনলাইনেও প্রভাব পড়েছে। উইবো, রেডনোট ও জিয়াওহংশুতে এমবাপ্পের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। নতুন ব্যবহারকারীরা তাকে ফলো করতে পারছেন না। ডিওর, হুবলো ও অন-এর মতো তার আন্তর্জাতিক স্পনসরদেরও ওই প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে তার ছবি বা ভিডিও সরাতে হয়েছে। অন-এর সঙ্গে তিনি সম্প্রতি বুট চুক্তি করেছেন।
চীনে মাওয়ের জটিল প্রভাব
চীনের ভেতরে মাওয়ের প্রভাব জটিল। কিন্তু চীনের বাইরে তাকে ব্যাপকভাবে স্বৈরশাসক বলে মনে করা হয়। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৭৬ সালে ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দেশের নেতা ছিলেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে তার শাসন ছিল সর্বগ্রাসী। এই শাসনে কয়েক কোটি মানুষ মারা যান। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সালের ‘মহাদুর্ভিক্ষে’ মৃত্যু হয় অনেকের।
মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ভিক্ষ বলে এটিকে ধরা হয়, যাতে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ মানুষ মারা গেছেন বলে ধারণা। কৃষির সমষ্টিকরণ ও শিল্পায়নের ‘গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ড’ অভিযানের সরাসরি ফল ছিল এই ব্যাপক অনাহার। রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন, কারাশ্রম ও গণ-মৃত্যুদণ্ডও ছিল তার শাসনের অংশ।
তবে চীনে অনেকে বিশ্বাস করেন, মাও দশকের পর দশক চলা গৃহযুদ্ধ শেষ করেছেন। নারীর অধিকার ও শিক্ষার উন্নতিও হয়েছে তার হাত ধরে। দারিদ্র্যও অনেক কমেছে। দেশটিকে বিশ্বশক্তি হওয়ার পথে তুলে দেওয়ার কৃতিত্বও তাকে দেওয়া হয়। তাই বিশেষ করে বয়স্ক প্রজন্মের কাছে তিনি এখনো মহান নেতা।
চীনের শাসক কমিউনিস্ট পার্টি এখনো তার উত্তরাধিকারকে শক্তভাবে রক্ষা করে। তার প্রভাব বোঝাতে চীনে একটি কথা চালু আছে, ‘তিনি ৭০ ভাগ ঠিক, ৩০ ভাগ ভুল।’
প্রতিবেদনের মতে, এমবাপ্পের মন্তব্য সত্য হোক বা না হোক, চীনের নেতাদের অসম্মান করা সেখানে এখনো সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নিষিদ্ধ বিষয়। চীনের লাভজনক বাজারে কোনো ব্র্যান্ড বা ক্রীড়াবিদের আসতে হলে তাই খুব সতর্ক থাকতে হয়।
একের পর এক ক্ষমা প্রার্থনা
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙলে এমবাপ্পে, রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগার বাণিজ্যিক ক্ষতি বড় হতে পারে। তাই স্পেনের কর্মকর্তারা একের পর এক ক্ষমা চেয়েছেন। ক্ষতি ঠেকাতে ছোটাছুটিতে তারা মূল প্রশ্নটাই প্রায় ভুলে গেছেন। প্রশ্নটি হলো, এমবাপ্পের কথা সত্য ছিল কি না।
এমবাপ্পে তার হোল্ডিং কোম্পানি ইন্টারকানেক্টেড ভেঞ্চার্সের মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিটি মান্দারিন ভাষাতেও অনুবাদ করা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘আমার মন্তব্য ভুল বিবেচনাপ্রসূত ছিল। এখন আমি বুঝতে পারছি, এটি চীনের এবং বিশ্বজুড়ে চীনা সম্প্রদায়ের অনেক মানুষকে আঘাত করেছে। আমার কথায় যারা কষ্ট পেয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। এটা কোনোভাবেই আমার উদ্দেশ্য ছিল না। চীনের মানুষ ও তাদের ইতিহাসের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা আছে। আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
পরদিন রিয়াল মাদ্রিদ বিবৃতি দেয়। তারা লেখে, ‘আমাদের খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পের সাম্প্রতিক কথায় চীনের মানুষের যে অস্বস্তি হয়েছে, তার জন্য রিয়াল মাদ্রিদ ক্ষমা চাইছে। চীন, তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নাগরিকদের প্রতি আমাদের ক্লাবের গভীর শ্রদ্ধা আছে। রিয়াল মাদ্রিদকে ভালোবাসেন ও প্রশংসা করেন, চীনের এমন লক্ষ লক্ষ ভক্তের প্রতিও আমাদের শ্রদ্ধা আছে। চীন ও তার নাগরিকদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব ও স্নেহের বন্ধন আরও শক্ত করার ইচ্ছা রিয়াল মাদ্রিদ প্রকাশ করছে।’
কয়েক মাসের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ক্লাবটি চীনা কর্তৃপক্ষের রোষে পড়ল। আগস্টে রিয়াল সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দেয়। সেখানে বন্যার শিকারদের কথা বলতে ‘নেপাল ও তিব্বত’ লেখা হয়েছিল। চীনা সংবাদমাধ্যম বলেছিল, লেখাটি বদলে ‘চীনের জিজাং’ করতে হবে। কয়েক দিন পর কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ছবিটি মুছে ফেলা হয়।
লা লিগাও ক্ষতি সামলানোর চেষ্টা করেছে। তারা বলেছে, ‘এমবাপ্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে চীনা সমর্থকেরা যে আঘাত পেয়েছেন, তার জন্য লা লিগা গভীরভাবে দুঃখিত। মন্তব্যগুলো তিনি ব্যক্তিগতভাবে করেছেন। এগুলো লা লিগার প্রতিনিধিত্ব করে না। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের পরিধিতে থেকে আমরা লা লিগা ও সব ক্লাবের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি।’
লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস ব্যক্তিগতভাবেও ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনায় যে আঘাত লেগেছে, তার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে চীনা সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইতে চাই। চীন, তার প্রতিষ্ঠান ও তার মানুষের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা আছে। এত বছর ধরে তারা যে আস্থা নিয়ে আমাদের ফুটবলকে সমর্থন করেছেন, আমি তাকে সম্মান করি। লা লিগার সভাপতি হিসেবে আমি ক্লাব ও খেলোয়াড়দের নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি সচেতনতা ও শ্রদ্ধা বাড়ানোর দায়িত্ব নিচ্ছি। আমরা কাজের মাধ্যমে এই সম্পর্ক লালন করতে চাই। এমন পরিস্থিতি যেন আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আমরা বাস্তব পদক্ষেপ নেব।’
তেবাস তড়িঘড়ি একটি সংকট মোকাবেলা কমিটি গড়েছেন। স্পেনে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও জিংয়ের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেছেন। রিয়ালের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো নয়। সম্প্রতি রিয়ালের ব্যবস্থাপনাকে নাৎসি প্রচারপ্রধান জোসেফ গোয়েবলসের সঙ্গে তুলনা করায় ক্লাবটি তার পদত্যাগ চেয়েছিল। তবু তিনি রিয়ালের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তেবাস পরিস্থিতি শান্ত করতে চীনে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
গুরুতর প্রভাবের আশঙ্কা
এই ক্ষমা প্রার্থনা ও তেবাসের তৎপরতা চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি কতটা কমাবে, তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। বুধবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র গুও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে ক্ষমা চেয়েছেন, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি।’
কিন্তু এখানেই হয়তো শেষ নয়। ফরাসি সাংবাদিক রোমাঁ মোলিনার দাবি, এমবাপ্পের বিবৃতি উত্তেজনা ‘একেবারেই’ কমায়নি। বরং এটিকে দেখা হচ্ছে নিজের বাণিজ্যিক স্বার্থ বাঁচানোর আতঙ্কিত চেষ্টা হিসেবে। মাওয়ের নাম না বলাও নাকি চীনের পছন্দ হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে কিছু ভিডিও। সেগুলোতে রাগান্বিত চীনা সমর্থকদের এমবাপ্পের জার্সি পোড়াতে ও তার ছবিসহ বিজ্ঞাপন ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যাচ্ছে বলে মনে হয়।
বুধবার চীনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এমবাপ্পে, রিয়াল ও তেবাসের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা আবারও বলেছে, ফ্রান্স অধিনায়কের খেলা সম্প্রচার করা হবে না। রিয়ালের এই সপ্তাহান্তের লা লিগা ম্যাচ সম্প্রচার হবে না, তা আগেই নিশ্চিত হয়েছিল।
সিএমজির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মনে করি, এমবাপ্পের আপত্তিকর মন্তব্য চীনের মানুষের ক্ষতি করেছে, সীমা অতিক্রম করেছে এবং বাক্‌স্বাধীনতার পরিধি ছাড়িয়ে গেছে। এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়। ক্লাবটির দায়ও বড়। তাই রিয়াল মাদ্রিদের ব্যাখ্যা আমরা মানি না। ক্লাব বলেছে, এমবাপ্পে কখনো ইচ্ছা করে কাউকে আঘাত করেননি এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত মত প্রকাশের অধিকার আছে। ক্লাবের এই মনোভাবও আমরা মানি না।’
রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের রাষ্ট্রীয় টিভি ‘আরও সমঝোতার ইঙ্গিতের’ অপেক্ষায় আছে। লা লিগা তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ক্লাব ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়ে তারা ‘সচেতনতা ও যোগাযোগের একটি নীতিমালা’ তৈরি করবে। একই সঙ্গে চীনে তাদের ‘অংশীদার ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিপক্ষের’ সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজও করবে। বড় আর্থিক ধাক্কার ভয়েই এই তৎপরতা।
আর্থিক ঝুঁকি কতটা
লা লিগার সর্বশেষ আর্থিক হিসাব বলছে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে সম্প্রচার স্বত্ব থেকে স্প্যানিশ শীর্ষ লিগের আয় ছিল ১৫৮ কোটি ইউরো। এর ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৭৪ কোটি ৮০ লাখ ইউরো, এসেছে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে। চীন থেকে নির্দিষ্টভাবে কত আয় আসে, তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে এশীয় ও মার্কিন বাজারই লিগটির বিদেশি আয়ের দুই প্রধান উৎস। এই গ্রীষ্মেই তেবাস বলেছেন, ‘চীন লা লিগার জন্য একটি কৌশলগত বাজার।’
রিয়াল মাদ্রিদের দিক থেকে দেখলে সম্প্রচার স্বত্বের ভাগ ঝুঁকিতে আছে। এল মুন্দোর তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে ক্লাবটির পণ্য বিক্রির ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আসে চীন থেকে। সেখানে এমবাপ্পের জার্সিই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। এমবাপ্পের ইমেজ স্বত্বের ২০ শতাংশের মালিক ক্লাবটি।
এমবাপ্পের নিজের ক্ষতি কত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফোর্বসের হিসাবে, এই মৌসুমে শুধু স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপন থেকে তার আয় হওয়ার কথা ৩ কোটি ডলার। কিন্তু চীনা কোম্পানিগুলো তাকে কত দিত, তা জানায়নি। তার নতুন বুট স্পনসর অন-এর ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। চীন তাদের বড় বাজার। তাদের শেয়ারের দামও ইতিমধ্যে কমেছে।
তবে এই ঝড় সহজে থামার লক্ষণ নেই। স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য এর পরিণতি হতে পারে বিশাল।

তথ্য: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category