কালচারাল ডেস্ক|জনতার দেশঃ
মুখে একাধিক দৃষ্টিকোণ, পরিচিত অবয়বে অচেনা রূপ—চিত্রকলার প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে নতুনভাবে শিল্পকে উপস্থাপন করেছিলেন তিনি। তাঁর তুলিতে ক্যানভাস পেয়েছে ভিন্ন ভাষা, আর তাঁর সৃজনশীলতায় বদলে গেছে আধুনিক শিল্পকলার গতিপথ।
তিনি স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী, ভাস্কর ও সিরামিকশিল্পী পাবলো পিকাসো। আজ ২৫ অক্টোবর, তাঁর ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী।
১৮৮১ সালের ২৫ অক্টোবর স্পেনের মালাগা শহরে জন্মগ্রহণ করেন পাবলো পিকাসো। তাঁর পুরো নাম পাবলো রুইজ পিকাসো।
বাবা হোসে রুইজ ব্লাসকো ছিলেন চিত্রশিল্পী ও শিল্পশিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহী পিকাসো বাবার কাছেই শিল্পের প্রাথমিক শিক্ষা পান। পরে বার্সেলোনায় শিল্পকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন। শৈশবের সেই আগ্রহই পরবর্তী সময়ে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পীতে পরিণত করে।
কিউবিজমের অন্যতম পথিকৃৎ
পিকাসোর নামের সঙ্গে যে শিল্পধারাটি বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে, সেটি হলো কিউবিজম। ফরাসি শিল্পী জর্জ ব্রাকের সঙ্গে এই ধারার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। কিউবিজমে কোনো বস্তু বা অবয়বকে একটিমাত্র দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখিয়ে জ্যামিতিক আকার ও বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের সমন্বয়ে তুলে ধরা হয়।
প্রচলিত বাস্তবধর্মী চিত্রকলার বাইরে গিয়ে পিকাসো দেখিয়েছেন, একটি বিষয়কে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা সম্ভব। তাঁর এই শিল্পভাবনা বিংশ শতাব্দীর আধুনিক শিল্পকলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়।
বিশ্বজুড়ে পরিচিত তাঁর যেসব শিল্পকর্ম
পিকাসোর উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে ১৯০৭ সালে আঁকা ‘লে দেমোয়াজেল দাভিনিয়োঁ’ এবং ১৯৩৭ সালের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘গের্নিকা’। প্রথমটি আধুনিক চিত্রকলার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, স্পেনের গের্নিকা শহরে বোমা হামলার প্রেক্ষাপটে আঁকা ‘গের্নিকা’ যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।
শিল্পজীবনে পিকাসো কোনো একটি ধারায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে নীল ও গোলাপি রঙের প্রাধান্য, ধ্রুপদি শিল্পরীতি এবং পরাবাস্তববাদী ভাবনার প্রভাব দেখা যায়। চিত্রকলার পাশাপাশি ভাস্কর্য, ছাপচিত্র, কোলাজ ও সিরামিক শিল্পেও রেখেছেন নিজের স্বতন্ত্র ছাপ।
শিল্পের ইতিহাসে অমর এক নাম
দীর্ঘ শিল্পজীবনে অসংখ্য শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন পিকাসো। ১৯৭৩ সালের ৮ এপ্রিল ফ্রান্সের মুগাঁ শহরে ৯১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর শিল্পকর্ম ও সৃজনশীল ভাবনা আজও বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর, গ্যালারি ও শিল্পশিক্ষার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুনভাবে দেখার সাহস, নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং শিল্পের ভাষা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে আধুনিক শিল্পকলার ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তাঁর ১৪৫তম জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ করা হচ্ছে সেই শিল্পীকে, যিনি শুধু ক্যানভাসে ছবি আঁকেননি, বদলে দিয়েছেন ছবি দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও।
ছবিঃ
# সংগৃহীত।