ডেস্ক রিপোর্ট|জনতার দেশঃ
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চালানোর ইউরেনিয়াম বা পারমানবিক জ্বালানি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ শনিবার ৩ অক্টোবর দুপুরে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে এসে পৌঁছে গেছে।
রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে ইউরেনিয়ামের এই চালানটি শুক্রবার ২ অক্টোবর রাত ১১ টা ৪৪ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
শনিবার সকাল ৭:১৫ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় তিনটি লরিতে করে ইউরেনিয়াম গুলো রূপপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে সেগুলো ঈশ্বরদীর রুপপুর প্রকল্প এলাকায় নিরাপদে প্রবেশ করে।
এই কনভয়ে রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ দল, সেনাবাহিনী, পুলিশ, এসএসপিবি, এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। মহাসড়কে নিরাপদ চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আরো ৯টি ফ্লাইটে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত এবং দ্বিতীয় ইউনিটের বাকি ফুয়েল এসেম্বলি বা ইউরেনিয়াম দেশে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এর মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো জ্বালানি সরবরাহের প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এখানে উল্লেখ্য যে রূপপুরের ইউরেনিয়াম বাহী রুশ বিমানটি প্রথমে পাকিস্তানের আকাশ সীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে আসতে সাময়িক বাধা বা বিলম্বের সৃষ্টি হয়েছিল।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বিমানটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের কারণে ফ্লাইটটি বাতিল বা বিলম্বিত করা হয়।
রাশিয়া থেকে আসা বিশেষ কার্গো বিমান টিকে পাকিস্তানের আকাশ সীমা এয়ার স্পেস দিয়ে উড়ে যাওয়ার জন্য যে পূর্বানুমতি বা ওভার ফ্লাইট কিয়ারেন্স এর প্রয়োজন ছিল তা পাকিস্তান শুরুতে দিতে অস্বীকৃতি জানায় বা আটকে রাখে। এ জন্য বিমানটি নির্ধারিত দিনে রওনা হতে পারেনি।
বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় স্তরে তীব্র সমালোচনা ও জল্পনা শুরু হলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্হ হাইকমিশন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে। পাকিস্তান জানায়, এটি কোন রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বৈরিতা নয় বরং সম্পূর্ণ একটি কারিগরি ও পদ্ধতিগত সমস্যা( Technical and procedural issue)।তাদের দাবি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের জন্য প্রোটোকল অনুযায়ী পারমাণবিক জ্বালানির মতো সংবেদনশীল কার্গো পরিবহনের অনুমতির জন্যযে ধরনের নির্দিষ্ট সময়ের প্রক্রিয়া ও সমন্বয় প্রয়োজন তা নিয়ে কিছু ঘাটতি ছিল ।
এই সাময়িক জটিলতার পর বিষয়টি সমাধান করা হয় একাংশের তত্ত্বমতে পরবর্তীতে পাকিস্তানের আকাশ সীমার রুট জটিলতা কাটিয়ে অথবাবিকল্প রুট ব্যবহার করে ( কারো মতে চীনের আকাশ সীমা হয়ে) সফল সমন্বয়ে শেষে বিমানটি ২ অক্টোবর রাতে নিরাপদে ঢাকায় এসে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন যে, রুটটিতে পাকিস্তান সহ কয়েকটি দেশ জড়িত থাকায় অনুমতির একটি সাময়িক গ্যাপ তৈরি হয়েছিল যা দ্রুতই আলোচনার মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
ছবিঃ
# সংগৃহিত।
তথ্যসূত্রঃ
# দ্যা ইন্ডিয়া টুডে
# বাসস
# প্রথম আলো
# বাংলা ট্রিবিউন
# বিডিনিউজ২৪