মাহবুবুর রহমান খান :
নরসিংদীর চরাঞ্চলে এক মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতার করতে গিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ কর্মীদের হাতে নজির বিহীনভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন ছয় পুলিশ সদস্য। সাদা পোশাকে থাকা এসব পুলিশ সদস্যকে এলোপাতাড়ি মারধোরের পর কান ধরে ওঠবস করিয়ে মাফ চাইতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার ২১ মে দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলার আলোক বালি ইউনিয়নের বীরগাঁও ও সাতপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে নরসিংদী সদর থানায় মামলা দায়ের এর পর Rab ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত ৮০ সদস্যের একটি দল অভিযান চালিয়ে দুই নারী সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার কৃতরা হলেন, তাহছি বেগম, খোরশেদ মিয়া রহিম মিয়া ও সোহাগী আকতার। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিকে। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ মোল্লা, হুমায়ুন মোল্লা,আওয়ামী লীগ নেতা মাইনুদ্দিন সহ ৫২জন। মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,সদর মডেল থানার এস আই রামকৃষ্ণ দাস,এসআই কামরুজ্জামান খান, এসআই আল নোমান মুন্সী,এএসআই নাজমুল হোসেন,এএসআই সুমন মিয়া ও কনস্টেবল হাদিস মিয়া স্পীড বোটে করে ওই এলাকায় অভিযানে যান। আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবি মোল্লার নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তাদের গতিরোধ করেন। নেতাদের অনুমতি না নিয়ে কেন গ্রামে প্রবেশ করা হয়েছে এ নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের মারধর করার পর জনসমক্ষে তাদের কান ধরে উঠবস করিয়ে মাফ চাওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা মুক্তি পান। স্পিডবোটে উঠে পুলিশ সদস্যরা মোবাইল ফোনে ছবি তোলার চেষ্টা করলে তাদের পুনরায় লাঞ্চিত করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎ চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি আওয়ামী লীগ নেতারা পুলিশকে ধাওয়া দিচ্ছে পরে তাদের ধরে কিল ঘুষি মেরে কান ধরে উঠবস করানো হয়। এ ব্যাপারে নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এ আর এম আল মামুন এর সংগে এই প্রতিবেদকের সংগে মুঠো ফোনে কথা কথা হলে তিনি জানান,একটি মামলার তদন্ত ও গরুর হাট পরিদর্শনে পুলিশ আলোক বালিতে গিয়েছিল। সেখানে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে কান ধরে উঠবস করানোর বিষয়টি তিনি জানেন না বলে এড়িয়ে যান।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান,পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধার দায়ে মামলা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাকিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে।
তথ্যসূত্র:
# এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি।
# বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ।