শিরোনাম :
মুঘল সম্রাট বাবরের পরাজয় এবং শানে শাহ ওবায়দুল্লাহ আহরার (রহঃ)। বিতর্কিত ধনকুবের আজিজ মোহাম্মদ ভাই এবং তার রূপালী জগত। ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচার প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে — তথ্য মন্ত্রী। বাংলাদেশ যদি ইরান সংক্রান্ত ব্যাপারে নিজেদের অবস্হান পরিবর্তন না করে পরের বার হরমুজ প্রণালী পার হতে চেষ্টা করা হলে বাংলাদেশী জাহাজ কে অস্ত্রের ভাষায় জবাবা দেয়া হবে—–ইরান নৌবাহিনী। আমিরগঞ্জ (রায়পুরা,নরসিংদী) রেল স্টেশনের দক্ষিণ পাশে সরকারি জায়গায় নির্মিত সকল অবৈধ দোকান-পাট উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত আগামী ২৫ এপ্রিলের আগে নিজ দায়িত্বে মালামাল সরিয়ে নিতে ‘রোডস এন্ড হাইয়ের কড়া’নোটিশ। নরসিংদীতে সিএনজি যাত্রীকে নামিয়ে কু*পিয়ে হ*ত্যা। ইসলামী ব্যাংক দখলে নিতে রাজধানীতে এস আলম গ্রুপের শো-ডাউন। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে সুন্নী খারেজী ও রাফেজী সম্প্রদায় —– মাকতুবাত শরীফ। শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলা আসামি হচ্ছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ- আল -মামুন। সংরক্ষিত নারী আসন এবং সমকালীন রাজনৈতিক প্রসঙ্গ।
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন

গুম কমিশনের সংবাদ সম্মেলন। Rab  কে বিলুপ্ত, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের সুপারিশ। গুমে Rab ২৫ ও পুলিশ ২৩ শতাংশ জড়িত।

Reporter Name / ২২০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬

ডেক্স রিপোর্ট :
গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী আমলে গুমের ঘটনায় প্রায় ২৫শতাংশের সাথে Rab জড়িত আর ২৩ শতাংশের সাথে পুলিশ। এছাড়াও ডিবি,  সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এন এস আই ব্যাপক হারে গুম করেছে। বহু ক্ষেত্রে সাদা পোষাকধারী  বা ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয়ে অপহরণের প্রতিবেদন দিয়েছে গুম  সংক্রান্ত ‘কমিশন অফ ইনকোয়ারি’। ঘুম কমিশনের রিপোর্টের সুপারিশ করা হয়েছে রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (Rab) বিলুপ্ত করন, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার  করা। গত সোমবার ৫ জানুয়ারী বিকালে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত  গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকয়ারির সদস্যরা এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানায়।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মোঃ ফরিদ আহমেদ শিবলী,নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে গুণ তদন্ত কমিশন জানায় অভিযোগগুলোর ধরন থেকে এটি স্পষ্ট যে গুম একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত চর্চা হিসেবে সংস্থাগুলোর দ্বারা একক ও যৌথ অভিযানে সংঘটিত হয়েছে যা বিচ্ছিন্ন অসদাচরণের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় সমন্বিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়। কমিশন অফ ইনকয়ারি এ্যাক্টের ধারা  ১০ -এ অনুযায়ী গুম  সংক্রান্ত অভিযোগ গুলোর মধ্য থেকে ফিরে না আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চার ধাপে কিছু অভিযোগ বাংলাদেশ পুলিশের মহা পরিদর্শক এর কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে আনীত দুই থেকে  পাঁচ দিনের অভিযোগগুলোর তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৃথকভাবে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে অগ্রগতি মানবাধিকার কমিশনকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারা আরো জানান, নিখোঁজের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য ক্রাইম সিন, পিক-আপ প্রেস, আয়নাগর ও ডাম্পিং প্লেস পরিদর্শন করেছেন। মুন্সিগঞ্জে একটি বেওয়ারিশ  লাশ দাফনের কবরস্থান পাওয়া গেছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের দাফন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি প্রমাণিত যে দাফনকৃত লাশের মাথায় গুলি দুই হাত পিছমোড়া  করে বাঁধা অবস্থায় ছিল। এছাড়াও বরিশালের বলেশ্বর নদীতে এবং বরগুনার পাথরঘাটায় ডাম্পিং  প্রেসের সন্ধান পাওয়া গেছে। বরিশালে  দুটি লাশ উত্তোলন ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে commission এ কাজের সূচনা করে এবং অজ্ঞাত লাশের ছবি ব্যবহারে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সাথে আলোচনা শুরু করে। অজ্ঞাত ও বেয়ারিস মরদেহ শনাক্ত করে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুসরণ করে একটি ব্যাপক ডিএনএ ডাটাবেজ গঠনের সুপারিশ করেছে।
কমিশন গুম এর ভুক্তভোগী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিটি বিভাগে পরামর্শ সভা, ৩০০ জনেরঅধিক বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেট এর জন্য চারটি কর্মশালা এবং বেশ কিছু প্রেস  ব্রিফিং এর আয়োজন করে। প্রধান  উপদেষ্টার কার্যালয়ের মাধ্যমে গুম  বিষয়ক  ১ ঘন্টার প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। কমিশন দেশি বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও কূটনৈতিক মিশনের সাথে নিয়মিত সম্পৃক্ত থেকেছে ।  সবাই গুমের  ব্যাপকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিশনের কাজের প্রশংসা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ দেন। গুম তদন্ত কমিশন আরো জানায়, কমিশন ইতো:পূর্বে  দুটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেয়। ষেখানে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে আইনগত  ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পুনরাবৃত্তিরোধ ও  প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের লক্ষ্যে কমিশন এন্ডফোর্সড ডিস্যাপিয়ারেন্স প্রিভেনশন রিড্রেস অর্ডন্যান্স  ২০২৫ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫ প্রণয়নে সহায়তা করে।
সংবাদ সম্মেলনে কমিশন আরো জানায়, বাংলাদেশে বলপূর্বক  গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে Rapid Action Battalion (Rab) বিলুপ্ত করণ, অভ্যন্তরীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষার
দায়িত্ব থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার,সন্ত্রাস বিরোধী আইনর২০০৯ বাতিল বা মৌলিক সংশোধন,সমাজ ভিত্তিক  প্রতিরোধমূলক  সন্ত্রাস  বিরোধী নীতি প্রণয়ন,  আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস আইন ২০০৩ এর ১৩ ধারা বাতিল, সব বাহিনীকে কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা, বাধ্যতামূলক মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ এবং সত্য, স্মৃতি  ও জবাব দিহির প্রতীক
হিসেবে  ‘আয়নাঘর’ গুলোকে জাদুঘরে রূপান্তরের সুপারিশ  অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তথ্যসূত্র:
# দৈনিক নয়াদিগন্ত।
# গুম তদন্ত  কমিশনের প্রেস ব্রিফিং।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category