হাসিনার বোঝা নিয়ে উভয় সংকটে ভারত —–মাহমুদুর রহমান,সম্পাদক-প্রকাশক (দৈনিক আমার দেশ)।
Reporter Name
/ ১৫৮
Time View
Update :
বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
Share
স্টাফ রিপোর্টার :
নির্বাসন থেকে কনক সারওয়ারের ইউটিউব চ্যানেলে বেশ কয়েকবার বলেছিলাম, হাসিনার দৈহিক মৃত্যু নয় বরং এই দানব শাসকের দৈহিক মৃত্যু দেখার খুবই আকাঙ্ক্ষা আমার। ২০২৪ সালে আগস্টের ৫ তারিখে বিপ্লবের চূড়ান্ত সময়ে গণভবন ছেড়ে দিল্লিতে পালিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক মৃত্যুর ঘন্টা নিজেই বাজিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন। বাগাড়ম্বর প্রিয় হাসিনার পলায়নের ৮২০ বছর আগে ১২০৪ সালে গৌড়ের রাজা লক্ষণ সেন রাজবাড়ীর পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে ছিলেন। যখন তুর্কি আফগান জেনারেল ইতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী তলোয়ার হাতে মাত্র ১৭ জন ঘোড় সওয়ার (অশ্বারোহী সৈন্য) সাথে নিয়ে সদর দরজা দিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন। সেই ক্ষুদ্র অগ্রগামী দলের পেছনে অবশ্য বিশাল মুসলিম সেনাবাহিনী এগিয়ে আসছিল।
লক্ষণ সেন দুপুরের খাবার ফেলে আওয়ামী লীগের মার্কা নৌকায় যোগে নদী পথে পালিয়েছিলেন আর হাসিনা পালালেন সৈন্য বহনকারী বিমানে চড়ে আকাশ পথে।মহা প্রতাপশালী গৌড়ের রাজা লক্ষণ সেনের মত হাসিনার ভাগ্যেও দুপুরের খাবার জোটেনি।চলমান মাসের ১৭ তারিখে গণহত্যার অপরাধে আদালতে বিচারক মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলে মুজিব কন্যার রাজনৈতিক মৃত্যু ত্বরান্বিত ত্বরান্বিত হয়েছে।তবে ফ্যাসিস্ট শাসকের সেই প্রত্যাশিত মৃত্যু শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনারই কর্মী সমর্থকরা। কি আনন্দ আকাশে বাতাসে! পাঠকরা হয়তো ভাবছেন ওরা আবার এখানে কি করলো? প্রশ্নের জবাবে আমাকে ২০১৩ সালে ফিরতে হচ্ছে। সেই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আইসিটি আদালত মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলে এক ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে অচল হয়ে গিয়েছিল সারা দেশ। পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন ১৫০ জন বিক্ষোভ কারী মানুষ। গুলিতে, কাঁদানে গ্যাসে এবং লাঠি চার্জে আহত হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ।সবাই কিন্তু জামায়াতে ইসলামী দলের কর্মি সমর্থক ছিলেন না। দলমত নির্বিশেষে তারা কেবল দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর প্রচন্ড অনুরাগী ছিলেন। ৪০ এর অধিক জেলা প্রশাসক তৎকালীন কেবিনেট সেক্রেটারিকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন যে, জনরোষের তীব্রতায় তাদের জেলাগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। প্রতিবাদে প্রায় সরকার পতনের মত পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সেদিন কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য চট্টগ্রাম থেকে জাহাজ পাঠাতে হয়েছিল কারণ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের হাইওয়ে বিক্ষোভ কারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কক্সবাজার সে সময় আমার দেশ পত্রিকার বিপুল জনপ্রিয়তা থাকায় পাঠকের অনুরোধে আমি কয়েকদিন বিমানে কাগজ পাঠিয়েছিলাম। উপরের চিত্রের ঠিক বিপরীত দৃশ্য আমরা ১৭ নভেম্বর দেখেছি। হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হলে বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ উদ্বেলিত হয়েছে মিষ্টি খাওয়ার ধুম পড়ে গিয়েছিল। বিচারপতি এবং আইসিটির প্রসি কিউটরা প্রিয় নায়ক বনে গিয়েছেন। পলাতক হাসিনা এখনো শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার লাশটি প্রকৃতপক্ষে কফিনবন্দী হয়ে এখন দিল্লিতে পড়ে আছে ।এই কফিনে শেষ পেরেগ গেঁথে শেষ কবরস্থ কিংবা সৎকার করার দায়িত্ব মোদী -অজিত দোভালের কাঁধে।বাংলাদেশে ১৫ বছর উপনিবেশিক শাসন চালানোর পর ভারত এখন মহা ফ্যাসাদে হাসিনাকে নিয়ে। ভারতে হাসিনার আশ্রয় নিয়ে ভারত জুড়ে তীব্র সমালোচনা।ফুঁসে ওঠেছে পশ্চিমবঙ্গের আম-জনতা। রাজ্য সরকারও মহা বিপাকে।
তথ্য সূত্র: দৈনিক আমার দেশ।
( ঈষৎ সংক্ষেপিত)।