মোঃ মাহবুবুর রহমান খান :
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ জাকসু নির্বাচন আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরই মাধ্যমে অবসান হলো দীর্ঘ ৩৩ বছরের প্রতীক্ষা। সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। স্থাপন করা হয়েছে বুথ। জোরদার করা হয়েছে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ক্যাম্পাসের সাবেক ছাত্রদল নেতাদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে ক্যাম্পাসে টহল দিচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় ২১ হলেই করা হয়েছে ভোট কেন্দ্র।১১ টি কেন্দ্রে ছাত্ররা এবং ১০ কেন্দ্রে ছাত্রীরা ভোট দেবেন। ২৪ বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন শিক্ষার্থীরা এখনো মেয়াদ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান করায় নিরাপত্তা নিয়ে শংকা প্রকাশ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রার্থীরা। পড়াশোনা শেষ হওয়ার শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করায় আশঙ্কা প্রকাশ করে সমন্বিত শিক্ষার্থী গ্রুপের জিএস প্রার্থী মাজারুল ইসলাম বলেন, হলে এখনো মেয়াদ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। প্রশাসন তাদের এখনো হল থেকে বের করতে পারেনি। আমরা একটি ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেতাদের আনাগোনা দেখতে পাচ্ছি। তারা আবার প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্নভাবে আলোচনা করছেন। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই কোন অবৈধ উপায় যদি আপনারা ব্যবহার করার চেষ্টা করেন তবে তার জবাব দেবে শিক্ষার্থীরা। ভোট উপলক্ষে আজ সারাদিন ক্যাম্পাসে প্রবেশের ১২টি গেট বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। কেবল বৈধ শিক্ষার্থীরা তাদের স্টুডেন্ট কার্ড দেখিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একহাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।ভোট কেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সব কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ২১ কেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাবে। সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন সদা প্রস্তুত। যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়ন থাকবে এর মধ্যে সাদা পোশাকেও সার্বক্ষণিক নজর রাখবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
ভোট যুদ্ধ হবে ৮ প্যানেলের মধ্যে:
জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস),ইসলামী ছাত্রশিবির,বাম পন্হি সংগঠন ও স্বতন্ত্র সহ ৮ প্যানেলের মধ্যে লড়াই হবে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫ পদের বিপরীতে লড়ছেন ১৭৯ প্রার্থী। সহ-সভাপতি পদে
ভিপি চূড়ান্ত প্রার্থী ১০ জন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস)পদে
৯জন।নারী যুগ্ম সাধারণ
(এজিএস)পদে ৬ জন,পুরুষ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানা গেছে। ভিপি পদে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। ভিপির দৌড়ে এগিয়ে তাকা স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে নির্বাচন করা আব্দুর রশিদ জিতু, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জল ও শিবির সমর্থিত প্যানেলের আরিফুল্লাহ আবিদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর জিএস পদে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ( বাগছাস)সমর্থিত প্রার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ
সিয়াম, শিবির সমর্থিত প্যানেলের মাজারুল ইসলামের মধ্যে চূড়ান্ত লড়াই হবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
দিনশেষে দেখা যাবে কোন প্যানেলের প্রার্থীগণ বিজয়ী
হন।তবে ডাকসুর মতো
জাবিতেও ইসলামি ছাত্র শিবির
এর সমর্থিত প্রার্থী গণ বিজয়ী হলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন
রাজনৈতিক বোদ্ধাগণ।
ফলাফলের জন্য আজ সন্ধ্যা
পর্যন্ত তো অপেক্ষা করতেই হবে।
প্রতিবেদক: সম্পাদক – প্রকাশক
দৈনিক জনতার দেশ ও
জনতারদেশ টিভি।( আইপিটিভি).
.
তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
দৈনিক আমার দেশ
দৈনিক যুগান্তর।