মাহবুবুর রহমান খানঃ
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও জাতীয় উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও সামগ্রিক অগ্রগতিতে তথ্যপ্রযুক্তির প্রধান অবদান নিচে তুলে ধরা হলো।
আইটি ও আইটি ইএস রপ্তানি:
বাংলাদেশেরআইটি এ তথ্যপ্রযুক্তি সেবা খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ খাতে রপ্তানি আয়উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গার্হস্থ্য বাজার: দেশের অভ্যন্তরে সফটওয়্যার ওআইটি সাভার বাজার বিস্তৃত হচ্ছে যা জাতীয় জিডিপিতে ইতিবাচক অবদান রাখছে।
ফ্রিল্যান্সারদের অবদান :বাংলাদেশ বর্তমানে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সিংয়ে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।
লাখ লাখ তরুণ ফ্রিল্যান্সার সফটওয়্যার, ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন।
আইটি প্রফেশনাল: দেশ জুড়ে ৩ লাখের বেশি আইটি পেশাজীবী এবং সফটওয়্যার ও আইডি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
মোবাইল ব্যাংকিং ও ফিনটেক: অর্থনৈতিক লেনদেনে বিকাশ সহ বিভিন্ন মোবাইল financial সার্ভিসের (MPS)মাধ্যমে দেশের প্রায় সাত কোটি মানুষ ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় এসেছে।
ইন্টার অপারেবল ওয়ালেট ও ব্যাংকিং: ব্যাংকিং আধুনিকায়ন অনলাইন ব্যাংকিং এবং ইসলামিক ফিনটেক খাতের প্রবৃদ্ধির কারণে আর্থিক লেনদেন অনেক সহজ ও নিরাপদ হয়েছে ।
শিক্ষা ও ই- লার্নিং: করোনা কালীন সময়ে এবং পরবর্তীতে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ই-লার্নিং জুম/মিটের মাধ্যমে ক্লাস এবং অনলাইন প্লাটফর্মের ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পায়।
স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা: শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি মুখি করতে বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট ও শিক্ষক বাতায়নের মত প্ল্যাটফর্ম চালু রয়েছে।
টেলি মেডিসিন ও ই -হেল্থ: দূরবর্তী অঞ্চলে মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে টেলিমেডিসিন হাব এবং ডায়াগনষ্টিক ইমেজিং নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।
ডিজিটাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি: ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ডস (EHR)এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেশন স্বাস্থ্য খাতে নতুন গতি এনেছে ।
প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশন ও ই-গভর্ন্যান্স: জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন, পাসপোর্ট সেবা, ই -নাম জারি ও কর প্রদানের মত নাগরিক সেবাগুলো অনলাইনে সহজে পাওয়া যাচ্ছে।
অবকাঠামো গত উন্নয়নে প্রযুক্তি ব্যবহার: হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন এবং সরকারি অফিসগুলোকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে।
ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার : (ইউডিসি) প্রান্তিক বা গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ যাতে শহরের মতো সমান সেবা পায় সেজন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যন্ত ডিজিটাল সেন্টার কাজ করছে যেখান থেকে ইন্টারনেট ও অনলাইন সেবার এক্সেস পাওয়া যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার বিজ্ঞান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে সাইবার নিরাপত্তা, বিপিও (BPO)এআই ডেটা সায়েন্স এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ওপর জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশ আইসিটি এন্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস এ স্থানীয়ভাবে তৈরি সাশ্রয়ী ব্রেইল প্রিন্টার (Sync V-1) এবং এআইভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার (My ECG A1)এর মতো ৪৪ টি উদ্ভাবন কে সম্মানিত করা হয়েছে, যা তরুণদের সক্ষমতা প্রমাণ করে।
তবে এই অগ্রযাত্রা কে টেকসই করতে গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান আরো উন্নত করা এবং একাডেমিক শিক্ষার সাথে আইটি ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব চাহিদার মেলবন্ধন ঘটানো এখনো একই বড় চ্যালেঞ্জ।
তথ্যঋণঃ
# দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
# দ্যা ডেইলি স্টার
প্রতিবেদক, সম্পাদক- প্রকাশক, দৈনিক জনতার দেশ।