ক্রাইম ডেস্ক|জনতার দেশঃ
ফুটপাতের হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার পুলিশ হকার সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা। দফায় দফায় ধাওয়া,পাল্টা ধাওয়া, টিয়ারসেল ও লাঠি সোটায় পুলিশ সদস্য সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৯ জন। এ সময় হকাররা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে অগ্নি সংযোগ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয় ঘটনা স্হল থেকে ৩০জনকে আটক করা হয়।
জানা গেছে গতকাল সকালে ডিএনসিসির একটি উচ্ছেদকারী দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে নামে। সকাল সাড়ে নয়টায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে সংঘর্ষ শুরু হয় দশটার পরে।এ সংঘর্ষ থেমে থেমে চলতে থাকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত । এক পর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় এবং বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে। উক্ত ঘটনার জন্য হকারদের দায়ী করে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও ডিএসসিসি কর্মকর্তারা। অন্যদিকে হকারদের অভিযোগ উচ্ছেদের নামে ‘হোপ মার্কেটের’ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া চাঁদা তোলার ব্যর্থ চেষ্টা থেকেই এমন পরিকল্পিত সংঘাত তৈরি হয়েছে।
এদিকে উচ্ছেদ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান হামলার পেছনে ফ্যাসিবাদ শক্তির ইন্ধন আছে বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে না জানিয়ে এবং বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা স্থানীয় এমপি জামায়াতের আমির ডা:শফিকুর রহমান।
ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বলে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
এদিকে মিরপুরের সংঘর্ষের পর মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে মনে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে অভিযানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ করেননি। ঘটনার কারণ ও প্রেক্ষাপট তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ পরিকল্পিত এবং এর পেছনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের ইন্ধন রয়েছে
বিরোধী দলীয় নেতার বিস্ময় প্রকাশঃ
স্থানীয় সংসদ সদস্যকে না জানিয়ে এবং বিকল্প ব্যবস্থা না করে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরের ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদ অভিধান চালানোর ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ওই আসনের এমপি ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমান। গতকাল দুপুরে নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে এমন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং সাধারণ জনগণের চলাচলের পথও নির্বিঘ্ন ও ব্যবহার উপযোগী থাকে। এজন্য সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন
সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেন,যেখানে সমস্যা সেখানে সমাধানের পথ আছে। তবে সেই সমাধান হতে হবে নিরপেক্ষ বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়।