হেল্থ ডেস্ক|জনতার দেশঃ
বিশেষ করে বর্ষা পরবর্তী সময়ে এডিস সমস্যার প্রজনন বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের হাসপাতাল গুলোতে আক্রান্ত রোগীর চাপ দিন দিন বেড়েই চলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৭৯ হাজার ৬২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল গত ২৪ ঘন্টাতেই নতুন করে ১৯৪৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২৪৫ জন মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই ১৪৮ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে যা চলতি বছরের মধ্যে এক মাসের সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।
অঞ্চল ভিত্তিক ডেঙ্গুর প্রভাবঃ
বরাবরের মতোই ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘন্টা তে ৭৮৫ জন এবং দুই সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে ৩৯৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অন্যান্য হট স্পটঃ
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৪৩ জন খুলনাতে ২৪৮ জন, বরিশালে ২১২ জন রাজশাহীতে ২১১ জন রোগী ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বিশেষ করে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
স্বাস্হ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ ও চিকিৎসকের পরামর্শঃ
হাসপাতাল গুলোতে রোগীর যে ধারণ ক্ষমতা আছে তার চেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
চিকিৎসকগণ তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা চোখের পেছনে ব্যথা
কিংবা বমি বমি ভাব দেখা দিলেই অবিলম্বে ডেঙ্গু টেস্ট NDI করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সতর্কতাঃ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন অবস্থাতেই এসপিরিন বা আইবোপ্রোফেনজাতীয় ব্যথা নাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। এতে অভ্যন্তরীণ রক্তকরণের ঝুঁকি মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়। তীব্র জ্বরে কেবল প্যারাসিটামল এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার যেমন ডাবের পানি খাবার সেলাই খাওয়া উচিত।
ডেঙ্গু জ্বরের প্রাথমিক বা মৃদু পর্যায়ে যখন কোন বিপদ সংকেত বা ওয়ার্নিং সাইন থাকে না চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতেই সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর DGHS এর নির্দেশিকা অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীর ঘরোয়া পরিচর্যা ও প্রতিকারের প্রধান উপায় গুলো নিচে দেওয়া হল।
#ডেঙ্গুর কারণে শরীরে তীব্র জলশূন্যতা তৈরি হতে পারে যা পরিস্থিতি জটিল করে তোলে তাই রোগীকে প্রচুর তরল খাওয়াতে হবে।
#একজন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার তরল খাবার দিতে হবে।
#কেবল সাধারণ পানি না খাইয়ে খাবার স্যালাইন ডাবের পানি ভাতের মাড়,বার্লি, ফলের রস এবং পাতলা সুপ খাওয়াতে হবে।এগুলো শরীরের ইলেকটো লাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখে।
#কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রেশ পেপে পাতার রস এক দুই চামচ দিনে দুইবার প্লাটিলেট কাউন্টস্হিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে।এছাড়া আয়রন ও এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ডালিমের রস বা মালটার রস শরীরের ক্লান্তি দূর করে।
#রোগীকে তৈলাক্ত মসলাযুক্ত বা গুরুপাক খাবার না দিয়ে সহজে হজম হয় এমন নরম খাবার যেমন জাউ ভাত খিচুড়ি দিতে হবে।
#রোগীকে ৭ থেকে ১০ দিন সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামে থাকতে হবে। কোন ভারী কাজ করা যাবে না।
#আক্রান্ত রোগীকে সবসময় মশারির ভেতরে রাখতে হবে এর কারণ হলো কোন সাধারণ এডিস মশা যদি ডেঙ্গু রোগীকে কামড়ায় তবে সেই মশাটি নিজেও ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করবে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের কামড়ালে তারাও আক্রান্ত হবে।এই সতর্কতা অবলম্বন জরুরী।
রোগের লক্ষণঃ
তীব্র অনবরত পেট ব্যাথা পেট ফুলে যাওয়া অনবরত বমি হওয়া বমির সাথে রক্ত যাওয়া মারি নাক বা ত্বক ফেটে রক্ত বের হওয়া, কালো রঙের পায়খানা হওয়া, প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট বা হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়া বা রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়া।
এমন উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
তথ্য সূত্রঃ
# স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
# বিভিন্ন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ।