লন্ডন থেকে তাসমিনা খন্দকার:
আওয়ামী লীগের সাবেক এই প্রভাবশালী এমপি এবং স্বৈরাচারী দোসর মাহবুব রহমান রুহেল চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ওনার স্ত্রীর নাম মিরকা ক্রিস্টিনা রহমান, যিনি একজন বিদেশী নাগরিক এবং উচ্চশিক্ষার সময় আমেরিকায় ওনাদের পরিচয় ও রাজকীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়।
ওনারা বর্তমানে আমেরিকার টেক্সাসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন এবং ওনাদের বিপুল সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখছে দেশের গোয়েন্দারা।
এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে যাদের নাম দানিউস রহমান এবং সুলো রহমান, যারা মূলত আমেরিকার মাটিতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
বিদেশী নাগরিকত্বের আড়ালে থেকে প্রবাসে ওনারা তাঁদের ছড়ানো-ছিটানো বিপুল পারিবারিক ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আখের গোছাচ্ছেন।
অথচ নিজের চোখের সামনে বাবা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ ( সাবেক,গণপূর্ত মন্ত্রী)যার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা হওয়া, বার্ধক্য বয়সে জেলে যাওয়া এবং হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার করুণ পরিণতি দেখেও ওনার বিন্দুমাত্র হুশ ফিরলো না।
ঢাকার পান্থপথের বিখ্যাত বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে গড়ে তোলা দেশের এক নম্বর মাল্টিপ্লেক্স চেইন ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’-এর পেছনে ওনার কত শত কোটি টাকার কালো বিনিয়োগ ছিল, তা নিয়ে দুদক গভীর অনুসন্ধান শুরু করেছে।
নির্বাচনী হলফনামায় নিজের আসল আয়ের বিপুল উৎস গোপন করে এবং কর ফাঁকি দিয়ে তিনি ঢাকার গুলশান ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বিলাসবহুল আবাসন ও করপোরেট প্রোপার্টি গড়ে তুলেছিলেন।
গত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলা, অস্ত্রবাজি এবং রাজপথে সহিংসতা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরানোর মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই রুহেল।
এ কারণেই বিগত ৫ই আগস্ট স্বৈরাচারের পতনের পর চট্টগ্রাম ও মিরসরাইয়ের বিভিন্ন থানায় ওনার বিরুদ্ধে একের পর এক করে সর্বমোট ৪টি বড় বড় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এই সমস্ত মামলা হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজের চামড়া রক্ষা করতে তিনি রাতের আঁধারে সুকৌশলে বর্ডার পার হয়ে বিদেশে চম্পট দিয়েছেন।
ওনার এবং ওনার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকা চট্টগ্রামের বিখ্যাত চার তারকা লাক্সারি হোটেল ‘দ্য পেনিনসুলা চিটাগং’ এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
শুধু চট্টগ্রামই নয়, কক্সবাজারের কলাতলী সৈকতের সবচেয়ে নামী ৫ তারকা লাক্সারি হোটেল ‘সায়েমেন বিচ রিসোর্ট’-এর ওনার যে পারিবারিক বড় শেয়ার রয়েছে, সেটির সমস্ত হিসাব খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা।
ওনার বিদেশী স্ত্রী মিরকা ক্রিস্টিনা রহমান এবং সন্তান দানিউস ও সুলো রহমানের বিদেশী নাগরিকত্বকে ঢাল বানিয়ে তিনি এখন আমেরিকার টেক্সাসে বিলাসবহুল রাজকীয় প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন।
চলতি বছরের ১৩ মে যখন ওনার বাবা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, ওনার নিজের জন্মদাতা পিতার জানাজায় আসার মতো ন্যূনতম সাহস ও নৈতিকতা এই চোরের ছিল না।
।বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিআইডির অনুসন্ধানে সাবেক এমপি মাহবুব রহমান রুহেলের মোট ৮টি বেনামী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে এবং সেগুলোতে থাকা ৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা সরাসরি জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
বিগত ৭ই জানুয়ারির সেই প্রহসনের ভোটারবিহীন ডামী নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে জোরপূর্বক এমপি পদ বাগিয়ে নিয়েছিলেন। মীরসরাই ও জোরারগঞ্জ এলাকাকে তিনি নিজের বাপের তালুক মনে করতেন এবং ওনার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে পুরো চট্টগ্রামে এক অলিখিত ভয়ের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিলেন।
ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই অর্থ পাচারকারী ও মামলার মোস্ট-ওয়ান্ডেড আসামি রুহেলকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে খাঁচায় বন্দি করার দাবি উঠেছে।ক্ষমতার চেয়ার ব্যবহার করে যারা নিজেদের বাপের ট্র্যাজেডি থেকেও শিক্ষা নেয় না, তাদের প্রতিটি কুকর্মের চূড়ান্ত বিচার এই স্বাধীন দেশের মাটিতে নিশ্চিত করতেই হবে।
মীরসরাইয়ের সাধারণ শোষিত মানুষ ও ছাত্র-জনতার হক মেরে যারা মানুষের টাকা চুষেছে, তাদের সম্পদ অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাজেয়াপ্ত করা হোক।
ছবিঃ
# সংগৃহিত
ইনসেটে ডানে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ডানে পুত্র মাহবুব রহমান রুহেল।
বি.দ্র.
তাসমিনা খন্দকার,লন্ডন প্রবাসী একজন লেখক ও সাংবাদিক।তিনি দৈনিক জনতার দেশ এ মুক্ত কলামে এবং প্রবাসীর পাতায় এখন থেকে নিয়মিত লিখবেন।