• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন
Headline
ময়মনসিংহের খাদ্য পরিদর্শক কামাল এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ! ঠাকুরগাঁওয়ে ৮১ তম পুলিশ সুপার, এর সাথে ৮১ তম বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্সের কর্মকর্তাগণের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত! নরসিংদীর শিবপুরের ইটাখোলা থেকে ২ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্ৰেফতার! সাপের কামড়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এক বৃদ্ধা নারীর মৃত্যু! ফুলবাড়ী উপজেলার বারাইহাট বদ্ধভূমি অরক্ষিত! নরসিংদীতে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা প্রকল্পের কাজ না করেই ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাৎঃ দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে এক ভয়ানক দুর্নীতির তথ্য! জামালগঞ্জে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি! নারীবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারে নানা উদ্যোগ পুলিশের! “নরসিংদীতে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত” টেকনাফে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ তিন রোহিঙ্গা আটক!

নারীবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারে নানা উদ্যোগ পুলিশের!

Reporter Name
Update : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ
নারী বান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। এরমধ্যে রয়েছে নারী পুলিশের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি, শিশু ও বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত সেবা ডেক্স এর আধুনিকরণ, নারী পুলিশ সদস্যের সন্তানদের জন্য ডে -কেয়ার সেন্টার স্থাপন।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসীমউদ্দীন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বিদ্বেষ মূলক আচরণ এবং বোলিং বা হেনস্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সংবেদনশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলমান পুলিশ সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ জেন্ডার সংবেদনশীল পুলিশিং সম্প্রসারণে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের কার্যক্রম সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ৮ টি বিভাগীয় শহরে নারী-পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ৫ এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের) তত্ত্বাবধানে উত্তরায় একটি ডে -কেয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে।
এছাড়া বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে ৬৪ জেলার সদর থানার নারী শিশু ও বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত সেবা ডেক্স গুলোকে মডেল সেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।
প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন ইউনিটে পর্যাপ্ত সংখ্যক নারী পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। ইউনিটের চাহিদা অনুযায়ী আরো মোতায়েন কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
ইউএনএফ এর অর্থায়নে পরিচালিত’প্রিভেনশন এন্ড রেসপন্স ফর জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স উইমেন এন্ড গার্লস( প্রিভিল)’প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, কক্সবাজার, বান্দরবান, পটুয়াখালী, বরগুনা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট সহ ১০টি জেলার ৯২টি থানায় নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক স্হাপন করা হয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় সংশ্লিষ্ট থানা গুলোতে শিশু ও প্রবীনদের অধিকার এবং আইনি সহায়তা বিষয়ে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৫৪ টি জেলার সদর থানার নারী শিশু ও প্রবীণ সেবা ডেস্কে প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে মডেলসেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য কর্তৃপক্ষ একটি নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে নারী সদস্য সংখ্যা ১৭ হাজার জন যা বাহিনীর মোট সদস্যের ৯.৭ শতাংশ। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার সমপর্যায়ের পদ সহ বিভিন্ন পদে নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
অতিরিক্ত আইজিপি বলেন,কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা প্রতিটি স্তরে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, কস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি। কর্মদক্ষতার দিক থেকে তারা কোনভাবেই পিছিয়ে নেই।
তিনি আরো বলেন, শিল্প খাতে নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান ছাড়া শ্রমিক অসন্তোষ কার্যকর ভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হতো।
মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটে কর্মরত এক নারী উপ-পরিদর্শক বলেন, তারা বড় ধরনের অপারেশনাল দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম তবে পাশাপাশি গোয়েন্দা কার্যক্রম অপরাধ তদন্ত ও অপারেশনাল নেতৃত্বের সুযোগ আরো বাড়ানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পুলিশে ১৯৭৪ সালে প্রথম নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বেরিয়ে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বর্তমানে কনস্টেবল, এএসআই এসআই, এএসপি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সমপর্যায়ের পদেও নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশ ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, সিআইডি, পিবিআই টুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, রিভার পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর এবং জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে নারী পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
নারী-পুলিশ সদস্যদের উন্নয়ন কাজ করার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত “পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (ডিপিডাব্লিউ) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
(বিপিডব্লিউএন) এর ২০২৪-২০২৭ Branch পরিকল্পনায় পুলিশে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো’ নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, পেশাগত ও তদন্ত দক্ষতা উন্নয়ন নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, এবং জেন্ডার সংবেদনশীল পুলিশিং জোরদার এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ ২০২৭ সাল পর্যন্ত) (বিপিডাব্লিউএন) এর এই কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি কেবল নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিই নয় বরং পুরো বাহিনীতে তাদের নেতৃত্ব তদন্ত ও কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত ভূমিকার পরিধি সম্প্রসারণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category