ক্রাইম ডেস্ক|জনতার দেশ:
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর আদি জন্মস্থান ও দেশের বাড়ি হলো সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও গ্রামে।
মাত্র ১১ বছর বয়সে সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো এই তাসবিরুল লন্ডনের ‘ফোর্ট লোটন হাই স্কুল’ ও ‘হ্যাকনি কলেজ’ থেকে এ-লেভেল শেষ করে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘অক্সফোর্ড এভিয়েশন’ থেকে বিমান চালনার প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু করেন।
পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউ,কে সিভিল এভিয়েশন থেকে কমার্শিয়াল লাইসেন্স পেয়ে তিনি আমেরিকার আকাশে এবং দেশে ফিরে বেক্সিমকোর জিএমজি এয়ারলাইনসের প্রধান পাইলট হিসেবে দাপটের সাথে বিমান চালানোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।
২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও লাইসেন্স নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম ‘ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ’ ব্যবসাটি চালু করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাসবিরুল সিন্ডিকেট রাতারাতি খোলস বদলে ওবায়দুল কাদের ও সালমান এফ রহমানদের প্রভাবশালী এভিয়েশন সিন্ডিকেটের সাথে হাত মেলায়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর প্রভাবশালী মন্ত্রীদের পেছনে মোটা অঙ্কের নগদ ঘুষ ঢেলে শেয়ার বাজারে এই মহাজালিয়াতি সফল করতে তাসবিরুলকে সরাসরি বুদ্ধি ও ছক দিয়ে সাহায্য করেছিলেন তাঁর স্ত্রী, সিলেটেরই আরেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশী খন্দকার তাসলিমা চৌধুরী।
. সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও ক্ষোভের আসল জায়গা হলো এই দুই চোরের ঠিকানা; বাংলাদেশে থাকাকালীন এই তাসবিরুল দম্পতির রাজকীয় আস্তানা ছিল রাজধানী ঢাকার অতি অভিজাত উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িতে (৫ম তলা)।
দেশের অর্থনীতিকে দেউলিয়া বানাতে এবং নিজেদের সিলেট অঞ্চলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে এক পারিবারিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শত শত কোটি টাকা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে নিজেদের পকেটে ভরে নেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিমানের ভুয়া পার্টস ও খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয়ের ভুয়া খরচ দেখিয়ে এই তাসবিরুল দম্পতি হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করে মধ্যপ্রাচ্যের অতি বিলাসী দেশ দুবাইয়ের “জুমেইরাহ ভিলেজ সার্কেল”এলাকায় নিজের নামে ৭টি আলিশান অ্যাপার্টমেন্ট ও ফ্ল্যাট কিনেছেন।
আজ দেশের সাধারণ মানুষ যখন একবেলা খাবারের জন্য হাহাকার করছে, তখন এই শীর্ষ অর্থ পাচারকারী ও চরম বেঈমান তাসবিরুল বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে সুদূর যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।
. যুক্তরাজ্যের ল্যান্ড রেজিস্ট্রি এবং কোম্পানি হাউজের অফিশিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি লন্ডনের হ্যাকনি ব্যুরোর অভিজাত আবাসিক এলাকা ‘স্টোক নিউইংটন’ (N16 7SL)-এর বিলাসভহুল ফ্ল্যাটে সস্ত্রীক নিরাপদ আশ্রয় বানিয়েছেন।
কালো টাকা সাদা করার আড়ালে লন্ডনে তাঁর গড়া সুগন্ধি ব্যবসা “TAC PERFUMES & COSMETICS (UK) LTD” (মূল শোরুম: 12 Railway Street, Chatham) এখনও সেখানে সম্পূর্ণ সচল ও লাভজনকভাবে চালানো হচ্ছে।
এই সুগন্ধি ব্র্যান্ডের আড়ালেই সেন্ট্রাল লন্ডনের অতি দামী কমার্শিয়াল জোন ‘সিটি রোড’ (128 City Road)-এর আলিশান দপ্তরে বসে তিনি আয়েশী জীবন কাটাচ্ছেন এবং বাংলাদেশের আইনি চোখ ফাঁকি দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, এই চোরের ফেলে যাওয়া কয়েকশ কোটি টাকার ১১টি পরিত্যক্ত বিমান বছরের পর বছর ধরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দখল করে আছে। এই বিশাল লোহার কঙ্কালগুলো সরাতে এবং স্ক্র্যাপ হিসেবে আন্তর্জাতিক নিলাম করতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিপুল পরিমাণ আইনি ব্যয় ও জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এই মেগা ডাকাতির পেছনে থাকা সাবেক পরিচালনা pর্ষদের অন্যতম হোতারা হলেন তাঁর আপন ভাই তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী ও শ্যালক খন্দকার মাহফুজুর রহমান, যারা সাধারণ মানুষের শেয়ারের টাকা লুটে এখন আত্মগোপনে আছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মূল্যে পুরোনো উড়োজাহাজ কেনা ও শেয়ার জালিয়াতির অকাট্য অভিযোগে ২০১৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই তাসবিরুল ও তাঁর দোসরদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অনুসন্ধান ও তলবি নোটিশ জারি করেছিল।
কেবল শেয়ার বাজারই নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়ে তা সম্পূর্ণ খেলাপি করে দেশের শীর্ষ ৩০০ মেগা ঋণখেলাপির তালিকায় অফিশিয়ালি নাম লিখিয়েছেন এই তাসবিরুল দম্পতি।
ছবি: সংগৃহিত।
তথ্যঋণ:
# তাসমিনা খন্দকার।
তথ্যসূত্র:]
#TasbirulAhmed #StokeNewington #EveringRoad #TACPerfumes #UnitedAirways #ShareScam #ACCInvestigation #LoanDefaulter #FinancialFraud #AviationScam #TasminaKhondoker #LondonDiaries #BreakingNews #FilmedInLondon #OnSiteInvestigation #UKCompaniesHouse #MoneyLaundering #তাসবিরুল_আহমেদ #স্টোক_নিউইংটন #লন্ডন_লাইভ #ইউনাইটেড_এয়ারওয়েজ #শেয়ার_বাজার_জালিয়াতি #অর্থ_পাচার #তাছমিনা_খন্ডকার #ব্রেকিং_নিউজ #অনুসন্ধানী_রিপোর্ট
বি.দ্র.
তাসমিনা খন্দকার যুক্তরাজ্য প্রবাসী একজন অনুসন্ধানী লেখক।বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করে,ব্যাংক লুট করে যারা বিদেশে আলিশান,ফ্লাট,গাড়ি-বাড়ি করে রাজকীয় জিবন যাপন করছেন তাসমিনা তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়ে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন।তার সাহসী উদ্যোগ তথ্য নির্ভর ক্রাইম ফিচার গুলো ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল নিউজে পরিণত হয়েছে।যার একটি উদাহরণ আজকের এই প্রতিবেদন।