বিনোদন ডেক্স থেকে এরশাদ নাবিল খান :
আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে তো অনেকেই চিনেন। যারা আশি-নব্বই দশকের বাংলা সিনেমা দেখতেন উনাদের আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ছবি দেখলেই চেনার কথা। আজিজ মোহাম্মদ ভাই হচ্ছেন নিজারি ইসমাঈলিয়া সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তি। প্রিন্স করিম আগাখান তার প্রিন্স। সেই রয়েলিটি নিয়েই তিনি চলাফেরা করেন।
.
বাংলাদেশের স্টিল ইন্ডাস্ট্রি, বিস্কুট ইন্ডাস্ট্রি, এনার্জি তে পাইওনিয়ার। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এক সময়ের আলোচিত পৃষ্ঠপোষক। সম্ভবত টানা কয়েক বছর এফবিসিআইয়ের সভাপতি ছিলেন। আগাখান ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এর সভাপতিও ছিলেন বা এখনও আছেন। “ভাই”হচ্ছে তার উপাধি, গুজরাটি এক কমিউনিটির উপাধি। তার পরিবারের সবাই ভাই উপাধি প্রাপ্ত নয়। অলিম্পিক গ্রুপের বোর্ড অব ডিরেক্টরে তার পরিবারের অনেকের নাম পাবেন সবাই ভাই উপাধি প্রাপ্ত নয়।
.মুম্বাই হার্ট থ্রব রেখা কে নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড:
১৯৮৪-৮৫ এর কথা। আজিজ মোহাম্মদ ভাই মাত্র এক দিনের জন্য ঢাকায় নিয়ে আসেন সেই সময়ের বিখ্যাত নায়িকা বলিউডের আগুন কন্যা রেখা কে। কারওরান বাজারস্থ হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওতে রেখা অবকাশ যাপনের জন্য উঠেন। খবর পেয়ে সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট কবি,নারী লিপ্সু হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ তার প্রটোকল এড়িয়ে ঘরোয়া পোশাকে প্যান প্যাসিফিকে চলে আসেন। যেহেতু প্রেসিডেন্টের প্রটোকল ছিলনা এ নিয়ে ম্যানেজমেন্ট কেন প্রেসিডেন্টকে চিনলো না তা নিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও কর্তৃপক্ষকে। আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সাথে রীতিমত মারামারি করেই প্রেসিডেন্ট কবি সাহেব সেই সময়ের হটক্রেজ রেখার পানিপড়ায় সমর্পণ করতে পেরেছিলেন বলে জানা যায়।
.
উক্ত ঘটনার কিছুদিন পর স্বৈরশাসক এরশাদ তার প্রিয় চ্যালা আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে ডিজিএফআই দিয়ে ইচ্ছেমতো শ্রোণিদেশে বেত্রাঘাত করেছিল বলে মিডিয়ায় চাউর হয়েছিল বিষয়টি এরপর থেকে আজিজ মোহাম্মদ ভাই যখন-ই মুম্বে থেকে ধরে ধরে যেসব নায়িকাকে ঢাকায় দাওয়াত দিয়ে আনতেন সবার আগে প্রেসিডেন্ট কবি সাহেবের সাথে প্রথমেই সাক্ষাৎ করিয়ে দিতেন।
.
এদিকে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের স্ত্রী নাওরীনের চাচা বান্টি ইসলাম ছিলেন আজিজের বন্ধু ও পার্টনার, ট্রাম্পস ক্লাবের মালিক। তার বড় ভাই ববি ইসলাম (আনোয়ারুল ইসলাম ববি)-র মেয়ে নাওরীন। ববি ইসলাম অধুনালুপ্ত ডেইলি মর্নিং সান পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। বান্টির সুবাদে তাদের বাসায় যাতায়াত ছিল আজিজের। তার জের ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষিতা মেধাবী তরুণী নাওরীনের সঙ্গে পরিচয় হয়। নাওরীন আজিজের প্রেমে পড়ে এবং পরিবারের অমতে বিয়ে করে। বান্টিও আজিজের সঙ্গে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীর খুনের মামলায় অভিযুক্ত হয় এবং এখনো পলাতক। ইয়াবা সম্রাট নামে পরিচিত মৃত আমিন হুদা ছিল আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের আপন ভাগ্নে।আশি নব্বই দশকে মাফিয়া ডন হিসাবেও বাংলাদেশে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের নাম শীর্ষে ছিল।জনশ্রুতি আছে মুম্বের মাফিয়া ডন আন্ডার ওয়ার্ল্ড কিং দাউদ ইব্রাহীম এর সাথে নাকি তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।দাউদ।ইব্রাহীম যেমন মুম্বে film industry (বলিউড) নিয়ন্ত্রণ করতেন ঠিক তেমনি আজিজ মোহাম্মদ ভাই একচেটিয়া ঢালিউড নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
সম্পাদনায়:
মো: মাহবুবুর রহমান খান
সম্পাদক- প্রকাশক
দৈনিক জনতার দেশ।
তথ্য সূত্র:
৮০- ৯০ দশকে প্রকাশিত নিন্মোক্ত বিনোদন মূলক ম্যাগাজিন থেকে সংগৃহিত।
# সিনে ম্যাগাজিন তারকালোক।
# সিনে ম্যাগাজিন ছায়াছন্দ।
# সাপ্তাহিক চিত্র বাংলা।
# উইকিপিডিয়া।