• শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
Headline
নরসিংদীতে পৃথক সড়ক দুঘর্টনায় শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু! বাংলাদেশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে জনগণ সরকারকে ভোট দিয়ে আনে নাই, ট্রাম্পের ভোটে সরকার এসেছে –অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ! নরসিংদীর ভরতের কান্দিতে পুত্রের হাতে পিতা খুন প্রকৃত খুনিকে গ্রেফতারে কৃতিত্বের সনদ পেলেন এএসআই আরিফুর রহমান! বুড়িচংয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, দেশীয় অস্ত্রসহ আটক-২! ডিমলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহ শুরু, তথ্য নেওয়া হবে ৭৭ হাজার পরিবারের! সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রেস কাউন্সিলের প্রস্তাবকে বিএমএসএফের সমর্থন! গোপালগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন! মধ্য প্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বৈশ্বিক সংকট সহ বাংলাদেশের রেমিট্যান্স বাজারে অর্থনৈতিক ধ্বস! দাউদকান্দিতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার-৭ মদনে বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয়ে চার ক্লাবের উদ্বোধন শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে নতুন উদ্যোগ!

সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দুবাই পুলিশের স্বীকৃতি পেলেন হাটহাজারীর রুকন।

Reporter Name
Update : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সততা ও নৈতিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দুবাই পুলিশের সম্মাননা অর্জন করেছেন হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল সওদাগর বাড়ির সন্তান মুহাম্মদ রুকন উদ্দিন (৪৭)।

আলহাজ নোয়া মিয়া সওদাগরের পুত্র রুকন উদ্দিন প্রায় দুই যুগ আগে জীবিকার সন্ধানে দুবাইয়ে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে চলাই তার জীবনের অন্যতম আদর্শ।

ঘটনাটি গত ১০ মে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে দুবাইয়ের নায়েফ এলাকার একটি সড়কে পড়ে থাকা ১৯ হাজার দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা) খুঁজে পান তিনি। বিপুল পরিমাণ অর্থ কুড়িয়ে পেলেও তা নিজের কাছে রাখার চিন্তা পর্যন্ত করেননি। এমনকি টাকা গুনেও না দেখে সরাসরি নায়েফ পুলিশ স্টেশনে গিয়ে জমা দেন।

পুলিশ স্টেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তার উপস্থিতিতেই অর্থ গণনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ডভুক্ত করেন এবং তার অসাধারণ সততার জন্য আন্তরিক প্রশংসা জানান।

এ বিষয়ে রুকন উদ্দিন বলেন, “টাকাগুলো কুড়িয়ে পাওয়ার পর এক মুহূর্তের জন্যও নিজের কাছে রাখার চিন্তা আসেনি। আমি পরিবারের কাউকেও তখন কিছু জানাইনি। পুলিশের হাতে টাকা বুঝিয়ে দিয়ে বাসায় ফেরার পর বিষয়টি জানিয়েছি। আমার শুধু মনে হয়েছে, যার টাকা হারিয়েছে সে যদি তার টাকা ফিরে পায়, তাহলে উপকৃত হবে।”

দুই সন্তানের জনক রুকন উদ্দিনের বড় ছেলে ষষ্ঠ এবং ছোট ছেলে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। তিনি চান, তার সন্তানরাও সততা ও নৈতিকতার আদর্শে গড়ে উঠুক এবং সমাজের জন্য আদর্শ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।

তার এই মহৎ ও দায়িত্বশীল কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দুবাই পুলিশ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা সনদ প্রদান করে। প্রবাসের মাটিতে একজন বাংলাদেশির এমন দৃষ্টান্ত শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং আমিরাতে বসবাসরত প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশির ভাবমূর্তিকেও আরও উজ্জ্বল করেছে।

সততা, মানবিকতা ও নৈতিকতার এই অনন্য উদাহরণের জন্য মুহাম্মদ রুকন উদ্দিনকে আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁর মতো মানুষরাই প্রমাণ করেন—সততাই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category