ডেস্করিপোর্ট :
মার্কিন প্রতিনিধি দল চীন ছাড়ার আগে, মানে ঠিক প্লেনে উঠার আগে চীনের দেয়া উপহারগুলো রানওয়েতে থাকা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে গেছে এবং এই কাজটা তাঁরা প্রকাশ্যেই করেছে।
উপহারের মাঝে মূলত ছিল বিভিন্ন রকম চাইনিজ সুভ্যেনির (মানে স্মারক), এমনকি চকলেটও ছিল। এমন কাজ করার পিছনে কি এমন রহস্য লুকিয়ে আছে?
মার্কিনীরা মনে করেছে এইসব উপহারের মাঝে চাইনিজরা ট্র্যাকিং ডিভাইস রেখে দিয়েছে হয়ত। চাইনিজ কতৃপক্ষ হয়ত গোপনে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট এবং অন্যদের কথা বার্তা ট্র্যাক করতে পারে। যদিও অ্যামেরিকা বলছে- এটা একটা নিরাপত্তা প্রটোকল। কিন্তু হোয়াইট হাউজে চাকরি করে; এমন যারা ট্রাম্পের সাথে এই সফরে ছিল; তাঁরা বলেছে
– White House staff and members of the traveling press were instructed to discard Chinese-issued materials before boarding
অর্থাৎ হোয়াইট হাউসের কর্মীরা এবং সফরসঙ্গী সংবাদমাধ্যমের সদস্যদের বিমানটিতে ওঠার আগে চীনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া সামগ্রীগুলো ফেলে দিতে আগে থেকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এবার চিন্তা করেন সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকানদের অবস্থা। এরা কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। এরা দিন-রাত বলে বেড়ায়
– আমাদের মত উন্নত প্রযুক্তি পৃথিবীর আর কারও নেই।
আবার ভয়ে চীনের দেয়া উপহার ফেলে দিয়ে যাচ্ছে! কেন বাপু, তোমাদের প্রযুক্তি যদি এতই উন্নত হয়; এই উপহারগুলো তো বেশ কয়েক ঘণ্টা আগেই ব্যাগে রাখা হয়েছিল। তোমরা নিজেদের প্রযুক্তি দিয়ে চেক করতে পারলা না- সেখানে কোন ট্র্যাকিং ডিভাইস আছে কিনা? এর মানে বুঝতে পারছেন তো?
অ্যামেরিকানরাও জানে – চীনের কাছে এমন প্রযুক্তি আছে; যেটা অ্যামেরিকার কাছে নাই। কিন্তু স্বীকার করে না। এখন দেখছি অ্যামেরিকান সংবাদ মাধ্যমগুলো বলেছে
– এটা আসলে চীনকে অপমান করার জন্য নয়; মূলত প্রটোকল মানার জন্যই করা হয়েছে।
এদিকে চীনের সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে
– তাহলে আগে থেকেই বললেই তো পারতো।
মানে অ্যামেরিকা কোন ভাবেই চীনকে আটকাতে পারছে এবং পারবে না। এটা অ্যামেরিকানরাও জানে। আমি আপনাদের একটা পরিসংখ্যান দেই। জটিল বিষয়। তবে সবাই যাতে বুঝতে পারেন; তাই সহজ করে বুঝিয়ে বলছি।
২০০১ সালে অ্যামেরিকার নমিনাল জিডিপি (মানে মোট দেশীয় উৎপাদন) ছিল
– প্রায় ১০.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আর চীনের কত ছিল জানেন?
– মাত্র ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অর্থাৎ ২৫ বছর আগে চীনের দেশজ উৎপাদন অ্যামেরিকার ধারে কাছেও ছিল না। আর এখন, মানে ২০২৬ সালে এসে কত হয়েছে জানেন?
– অ্যামেরিকার প্রায় ৩২–৩৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আর চীনের কত জানেন?
– প্রায় ২১–২২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
চীন কিন্তু এখনও দেশজ উৎপাদনে অ্যামেরিকা থেকে কিছুটা পিছিয়ে আছে। কিন্তু কতটা এগিয়েছে বুঝতে পারছেন?
এই ২৫ বছরে চীনের জিডিপি বেড়েছে ১৬ থেকে ১৭ গুণ। আর অ্যামেরিকার বেড়েছে মাত্র ৩ গুণ। অর্থাৎ এভাবে যদি আগাতে থাকে; তাহলে আর মাত্র ৭/৮ বছরের মাঝে চীন অ্যামেরিকাকে ছাড়িয়ে যাবে। এটা তো বললাম দেশজ উৎপাদন (নমিনালের) ব্যাপার।
কিন্তু চীন এর মাঝেই ক্রয় ক্ষমতায় ( PPP) অ্যামেরিকাকে ছাড়িয়ে পৃথিবীর এক নাম্বার দেশ হয়ে গেছে। ২০২৬ সালে চীন আর অ্যামেরিকার ক্রয় ক্ষমতা কত জানেন?
চীনের হচ্ছে- প্রায় ৪৪.৩ ট্রিলিয়ন ডলার
অ্যামেরিকার হচ্ছে- প্রায় ৩২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার
অর্থাৎ চীনের ক্রয় ক্ষমতা অ্যামেরিকার চাইতে এখন ৩৭ ভাগ বেশি। এই হচ্ছে বর্তমান অবস্থা। এইগুলো কিন্তু আইএমএফের ডাটা। অথচ ট্রাম্প আর সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকার হাব-ভাব দেখলে মনে হয়- মাটিতে পা পড়ছে না।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস নতুন করে রিপোর্ট করেছে- ট্রাম্প নাকি ইরানে আবার হামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গতকাল যেমনটা লিখেছিলাম- যে কোন সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ার সময় সাম্রাজ্যবাদীরা এলোমেলো আচরণ করে। এই দেশ-ওই দেশ আক্রমণ করে বেড়ায়। দখল করার চেষ্টা করে।
ট্রাম্প আর অ্যামেরিকার অবস্থাও এখন ঠিক সেই রকম। চীনের কাছে পাত্তা না পেয়ে এখন কী করবে বুঝতে পারছে না। তবে এটা বলাই যায়- অ্যামেরিকার সাম্রাজ্য এখন পতনের পর্যায়ে আছে।
আমার ভূ-রাজনীতির ক্লাসে যখন অ্যামেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, স্পেন থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীরা এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে। চমৎকার লাগে আমার। মানে এই দেশগুলো তো কখনো না কখনো সাম্রাজ্যবাদী ছিল। এই তো গত সপ্তাহেই স্প্যানিশ ছাত্র বলছিল
– It is no longer a question of whether it will happen. The only question now is, when it will happen and how fast it will happen.
মানে বিষয়টা হচ্ছে- অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যের পতন হবে কি হবে না; এটা এখন আর কোন প্রশ্ন না। এটা হবেই এবং সেই পথেই ওরা আছে। প্রশ্নটা হচ্ছে- কখন এবং কত তাড়াতাড়ি হবে।
তথ্যসূত্র:
#dhaka tribune
# youtube.desh rupantor
#;ABP Ananda
# masranga news
# daily ittefaQ
#daily jugantor
picture collection : Wikipedia.