বিশেষ প্রতিবেদক|জনতার দেশঃ
২০২৬ সালের ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও ‘আইটিইসি’ (ITEC) প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশের প্রধান সারির গণমাধ্যমের ৪২ জন সাংবাদিক ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত ‘ড. মারি চান্না রেড্ডি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে’ ৭ দিনের এক বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। বিমানে যাতায়াত, থাকা-খাওয়াসহ সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছে ভারত সরকার।
উক্ত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটি মূলত ভারতের সরকারি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের প্রযুক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক রিপোর্টিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিটের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকেরা যুক্ত ছিলেন।
পেশাগত প্রশিক্ষণ স্বাভাবিক হলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৪২ জনের নাম ও গণমাধ্যমের তালিকা প্রকাশ্যে না আনা এবং অংশগ্রহণকারীদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় এ নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ‘সফট পাওয়ার প্রজেকশন’ এবং জনমত নিজেদের অনুকূলে রাখার অংশ হিসেবে দেশগুলো প্রায়ই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশ বর্তমানে চীন, জাপান, মালয়েশিয়া ও তুরস্কের মতো দেশের সঙ্গে জ্বালানি, কয়লা উত্তোলন, এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎ খাতে শত কোটি ডলারের মেগা প্রকল্প ও দর-কষাকষি পরিচালনা করছে। এইমুহুর্তে কেন সাংবাদিকদের এই গোপন প্রশিক্ষণ?
এ অবস্থায় অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের সাংবাদিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও নিরপেক্ষতা পর্যালোচনার সুবিধার্থে এই তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা কিংবা সরকারের উদ্যোগে এই তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করছেন।
তথ্য সূত্রঃ
# বিভিন্ন গণমাধ্যম সহ গোয়েন্দা তথ্য।
# সংগৃহিত।