• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন
Headline
পরীমনি প্রসঙ্গে যা বললেন মেঘনা আলম! বিনামূল্যে মালয়েশিয়ায় ১১২ জনের চাকরির সুযোগ, আবেদন শুরু আজ থেকেই! পুলিশ সদস্যদের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা! রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৪৪, মামলা ৬২! রাজারবাগ-কারওয়ান বাজারে ককটেল বিস্ফোরণ, মোহাম্মদপুরে ট্রাকে আগুন! খুলনাবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী! স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে গুগলের এআই টুল! ঢাকার কম্পিউটার বাজারে নির্দিষ্ট মডেলের মাদারবোর্ডের দাম বেড়েছে! নড়াইলের লোহাগড়ায় ছেলের হাতে বাবা খুন! জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ময়মনসিংহ বিভাগে প্রথম নেত্রকোণার দুই শিক্ষার্থী”

পরীমনি প্রসঙ্গে যা বললেন মেঘনা আলম!

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক|জনতার দেশঃ
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মেঘনা আলম। নিজের আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, আদালতে দিনের পর দিন সাংবাদিকদের উপস্থিতি তাকে সাহস ও নিরাপত্তার অনুভূতি দিয়েছে। একজন নারী হিসেবে সাংবাদিকদের মাঝেই সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিনেত্রী পরীমনির প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এই সাবেক সুন্দরী।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা লিখেছেন মেঘনা আলম। পরীমনির সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে তিনি বলেছেন, কাউকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত না করে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা জরুরি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মেঘনা আলম লিখেছেন, তিনি কোনো নায়িকা বা মডেল নন। ২০২০ সালে মিস বাংলাদেশ হলেও খুব বেশি আলোচনায় আসেননি। অথচ তার আইনি লড়াইয়ের সময় শত শত সাংবাদিক দিনের পর দিন বিনা পারিশ্রমিকে ও বিনা আমন্ত্রণে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, আদালত প্রাঙ্গণে কখনো দেহরক্ষী, অভিভাবক কিংবা কোনো পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই একা গিয়েছেন। সাংবাদিকরাই তাকে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুর মতো আগলে রেখেছেন।
তিনি আরও লিখেছেন, সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিওর ভিন্ন ভিন্ন অ্যাঙ্গেলের কারণে অনেক সময় মানুষ তাকে ভুল বুঝেছেন। বারবার নিজের পরিচয়ও ব্যাখ্যা করতে হয়েছে। তবে একজন নারী হিসেবে সাংবাদিকদের মাঝে ঘেরা অবস্থায় তিনি নিজের আইনি লড়াইয়ে সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করেছেন।
২০২৫ সালের একটি রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন মেঘনা আলম। তার ভাষ্য, সেদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে তাকে প্রথমবারের মতো আদালতে নেওয়া হয়। এমনকি সাংবাদিকদেরও বিষয়টি জানানো হয়নি। তার বাবাকে বলা হয়েছিল, তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু পাল্টা মামলা করার আশঙ্কায় তাকে কারাগারে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় ভয়ে চিৎকার করে পুলিশকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তার দাবি, তখন পুলিশ তাকে বলেছিল, তিনি চিৎকার করলে সাংবাদিকেরা চলে আসবেন। বিনা বিচারে, তদন্ত, প্রমাণ ও সাক্ষী ছাড়াই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন মেঘনা আলম। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
মেঘনা আলম জানান, ৩০ দিনও তাকে কারাগারে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন তিনি। শ্রীলঙ্কা থেকে ইতালি, ইউরোপ, আরব বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার পক্ষে কথা বলেছেন।
পরবর্তী সময়ে আরেক দিন তাকে আদালতে নেওয়া হলেও আইনজীবী দেওয়া হয়নি এবং পরিবারকেও জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। আদালতে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলার জন্যও তাকে বোঝানো হয়েছিল। তবে কারাগারে থাকার সময় নিয়মিত একটি দোয়া পড়তেন এবং নিজেকে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে বলতেন বলে জানান তিনি।
সেদিন আদালতে সাংবাদিকদের দেখে তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘আল্লাহর চেয়ে শক্তিশালী কেউ নেই। There is no one more powerful than God।’ এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বলেও উল্লেখ করেন মেঘনা আলম।
জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময়ও সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেছেন তিনি। তার দাবি, কোনো ব্যানার তৈরি না করে কিংবা নিজের পকেট থেকে অর্থ খরচ না করেও সাংবাদিকদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়েছেন। তার বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরীমনির ঘটনার তুলনা করতে চান না জানিয়ে অভিনেত্রীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন মেঘনা আলম। লেখেন, পরীমনির প্রতি তার অনেক ভালোবাসা রয়েছে। নারীদের জন্য তার লড়াই এবং সব বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো অনেকের মতো তাকেও অনুপ্রাণিত করে।
আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনির সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে মেঘনা আলম বলেন, যারা নারীর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন, তারা অনেক সময় এতটাই কৌশলী হন যে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা কঠিন। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের কেউ জড়িত, নাকি অন্য কেউ এমন কাজ করে দ্রুত সরে গিয়ে অন্য কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। কাউকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত না করে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে মেঘনা আলম বলেন, যেভাবে তাকে আগলে রেখেছেন, সেভাবেই আদালত প্রাঙ্গণে আসা প্রতিটি নারীকে নিরাপদ রাখার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। আদালত এমন একটি জায়গা, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও অপরাধের বিচার হওয়ার কথা। তাই সেখানে কোনো নারী যেন অসম্মান, হয়রানি কিংবা অনিরাপত্তার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি আরও লিখেছেন, গোপনে আদালতে নিয়ে গিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনার পর বিচারব্যবস্থা ও মানুষের মনুষ্যত্বের ওপর থেকে তার বিশ্বাস হারিয়ে গিয়েছিল। নিজেকে অসহায় ও একা মনে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আদালতে যতবার সাংবাদিকদের পাশে পেয়েছেন, ততবার নতুন করে সাহস ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। একজন নারী হিসেবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি তার কাছে শুধু নিরাপত্তার অনুভূতি নয়, সাহসেরও বড় উৎস।
তথ্য ও ছবিঃ

সংগৃহিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category