খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মোবাইল ফোনে উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটি এক পর্যায়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামের ০৪ নং ওয়ার্ডে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালে ধরমন্ডল গ্রামের ইয়াসিন প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে দিয়ে মোবাইল ফোনের লাউডস্পিকারে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী বাবলা তাকে গান বাজাতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়।
কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ২০/৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের মধ্যে মিমাংসা চেষ্টা করেন এবং এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা যায়।
নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম জানান, _“মোবাইল ফোনের লাউডস্পিকারে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সামান্য একটি বিষয় নিয়ে এমন সংঘর্ষ সত্যিই দুঃখজনক। গ্রামের শান্ত পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারা উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধারণ করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।