স্টাফরিপোর্টার|জনতার দেশঃ
পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির এর বিরুদ্ধে পূর্বাচলের একটি বাসায় অনলাইন ফ্ল্যাটফর্ম ‘এয়ারবিএনবি’এর মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে ভাড়া দেওয়া, ত্রিকক্ষ বিশিষ্ট বাসায় অবৈধ ডিজে পার্টি, অনৈতিকর্মকাণ্ড ও মাদকের আসর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে মদ, ইয়াবা, কনডমসহ ৮৪ থেকে ৮৫ জনকে আটক করে এবং জহিরকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সংযুক্ত করে।
রাজধানী ঢাকার অদূরে পূর্বাচল পুলিশ হাউজিং-১ এলাকায় অবস্থিত আব্দুল্লাহ আল জহির এর মালিকানাধীন আড়াই থেকে তিন তলা একটি বাড়ি রয়েছে। ‘এয়ারবিএনবি অ্যাপের ‘ মাধ্যমে স্বল্প মেয়াদে বাসা ভাড়া দিয়ে সেখানে তিনি নিয়মিত ডিজেপার্টি, মাদক সেবন সহ অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ভোর বেলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে ২৬ জন নারী ও ৫৮/৫৯ জন পুরুষসহ মোট ৮৪/৮৫ জনকে আটক করে যার মধ্যে একজন আফগান নাগরিক ও ছিলেন।
বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, ইয়াবা, গাঁজা, সিসা, বিদেশে বিয়ার ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এই ঘটনার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির কে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দিষ্ট শাখায় সংযুক্ত (ওএসডি)করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ডিআইজি জহির পুলিশকে জানান, ভাড়াটিয়া গণ বাড়ি ভাড়ার শর্ত ভঙ্গ করে জন্মদিনের পার্টির নামে এই অপকর্ম করেছে এবং এবং এর দায় সম্পূর্ণ ভাড়াটেদের।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ওই বাড়িতে আয়োজিত ডিজে পার্টিতে অংশ নেওয়ার জন্য তরুণ তরুণীদের অগ্রিম টিকিট কাটতে হতো এদের মূল্য ছিল ২৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। আড়াইতলা ওই বাড়িটির ভেতরে অত্যাধুনিক লাইটিং সিস্টেম এবং মাদক সেবনের জন্য বিশেষ লাউঞ্জ বা জোন তৈরি করা হয়েছিল। আটককৃতদের মধ্যে থাকা আফগান নাগরিক মূলত ওই পার্টিতে ডিজে হিসেবে গান বাজনার দায়িত্বে ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
আব্দুল্লাহ আল জহির দাবি করেন তিনি নিজে এই পার্টি করেননি। তিনি ‘এয়ারবিএনবি অ্যাপের’ মাধ্যমে দুই দিনের জন্য বাড়িটি এক দম্পতিকে ভাড়া দিয়েছিলেন।
তার দাবি অনুযায়ী ভাড়াটেরা পারিবারিক অনুষ্ঠান বা জন্ম দিনের পার্টির কথা বলে বাড়িটি ভাড়া নিলেও সেখানে বাণিজ্যিক উদ্দেেশ্য ডিজে ও মাদকের আসর বসায়।
তবে একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিজের বাড়িতে কি ধরনের কার্যক্রম চলছে সে ব্যাপারে নজরদারি না রাখা এবং গোয়েন্দা নজরদারিতে বিষয়টি আগে ওঠে না আসা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকই বলছেন তিনি নিজে অপরাধ থেকে দায় মুক্তি পেতে এখন এই নাটক সাজাচ্ছেন।
তার বাসায় ইতোপূর্বে ও এমন ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের বড় কর্তা হওয়ায় তার এই কর্মকাণ্ড নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি বলেও স্হানীয় ফ্লাট- বাড়ি মালিকদের অভিযোগ।পুলিশি অভিযান বন্ধ করতে তিনি পুলিশের উপর মহলে তদ্বির করেছেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
অভিযানের পর রূপগঞ্জ থানা বা সংশ্লিষ্ট ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আটককৃত ৮৪-৮৫ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও অবৈধ সমাবেশের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার বাড়িতে এমন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চলায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জহিরের পক্ষ থেকে কোন পরোক্ষ মদদ কিংবা আর্থিক কোন বিষয় ছিল কী, না এই বিষয়টি তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে।
তথ্য সূত্রঃ
#পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কর্তৃক অফিসিয়াল নোটিশের বরাত
#বিভিন্ন প্রিন্টু -ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত ও প্রকাশিত সংবাদ
ছবিঃ
সংগৃহিত।